kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

অর্ধকোটি টাকা ক্ষতিপূরণের রুল

ধর্ষক পুলিশ সদস্যদের কঠোর শাস্তি দিন

১২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশকে বলা হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের কাজ হলো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রবলের অত্যাচার থেকে দুর্বলকে রক্ষা করা। সেই পুলিশের কোনো সদস্য যদি নিজেই অপরাধে জড়িয়ে যায় এবং দুর্বলের ওপর অত্যাচার করে, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কার কাছে? সেই পুলিশ সদস্যের কী ধরনের শাস্তি হওয়া উচিত? ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। একজন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই), আরেকজন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই)। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এসংক্রান্ত এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত রবিবার একটি রুল জারি করেছেন। তাতে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট, মেডিক্যাল রিপোর্ট, কেস ফাইলসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, উচ্চ আদালতের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং জনপ্রত্যাশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। রাস্তাঘাটে, কর্মস্থলে, এমনকি নিজ বাড়িতেও নারীদের নিরাপত্তা নেই। শিশুরাও শিকার হচ্ছে এমন জঘন্য অপরাধের। সংগত কারণেই আজ অভিভাবক ও সচেতন মানুষ চরম উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে এ ব্যাপারে পুলিশি ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা। এখন পুলিশের কিছু সদস্য যদি নিজেরাই এমন জঘন্য অপরাধে নেমে যায় তাহলে মানুষ কার ওপর ভরসা করবে? পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়। আগেও অনেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। আমাদের বিশ্বাস, প্রতিটি ঘটনার যদি সঠিক তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যেত, তাহলে দেশব্যাপী এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। উচ্চ আদালতের একই রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, মোটেল, গেস্ট হাউস, হোটেল, ডাকবাংলো, পুলিশ স্টেশন, পুলিশ স্টেশনের রেস্টরুম, সেফ হোমে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি থেকে রক্ষায় একটি স্কিম ও গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট আটজনকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বাস্তব প্রয়োজনেই নারীদের ক্রমেই বেশি করে বাইরে আসতে হচ্ছে, কর্মসংস্থানে নামতে হচ্ছে। এটি দেশের অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখছে। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের জরুরি কর্তব্য। আমরা চাই, অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা