kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উপজেলায় নির্বাচন

নির্বিঘ্ন হোক ভোটগ্রহণ

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপজেলায় নির্বাচন

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ের ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে আজ। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। সেবার নির্বাচন হয়েছিল ৪৬০ উপজেলায়। ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বারের উপজেলা নির্বাচনও হয়েছিল ৪৬০ উপজেলায়। ২০০৯ সালে তৃতীয়বারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়েছিল ৪৭৫টি উপজেলায়। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থবারের উপজেলা নির্বাচন। আজ থেকে শুরু হচ্ছে পঞ্চমবারের উপজেলা নির্বাচন, যা শেষ হবে পাঁচ ধাপে। প্রথম চার ধাপের নির্বাচন মার্চ মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। পঞ্চম বা শেষ ধাপের নির্বাচন হবে রমজানের পর। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নির্বিঘ্ন ও প্রভাবমুক্ত রাখতে আগেই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের কয়েক দিন আগে থেকে দু-তিন দিন পর পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন এবং এক্সিকিউটিভ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থা আগেই করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় সব প্রার্থী যাতে সমান সুযোগ পান, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং ভোটদান শেষে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠার পর সম্প্রতি ৯ জন সংসদ সদস্যকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাতে কাজ না হওয়ায় তিন উপজেলায় ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

স্থানীয় সরকারের একটি বড় ইউনিট হচ্ছে উপজেলা। আগে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার হতো না। রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়েই স্থানীয় নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতেন। এবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক নিয়ে লড়ছেন প্রার্থীরা। কাজেই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হলেও উপজেলা নির্বাচনে দলীয় রং লেগেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিলেও উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। দলের কিছু নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলে দল থেকে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রথম ধাপে ২৯ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। চেয়ারম্যান ১৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ছয়জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাতজন। বিএনপি অংশ না নেওয়ায় নির্বাচন একতরফা মনে হলেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনই যে হতে যাচ্ছে, এমন আশা করা যায়। 

নিয়মতান্ত্রিক গণতন্ত্রের বড় সৌন্দর্য হচ্ছে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সক্রিয় হতে হয়। এবারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, আমরা সে আশা করতে পারি। স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে অবশ্যই উপজেলা পরিষদকে সক্রিয় রাখতে হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ‘নিধিরাম সর্দার’ করে রাখলে চলবে না। আমরা আশা করব, বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা