kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

বিভেদ নয়, মানুষ হিসেবে ভাবতে হবে

৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আন্তর্জাতিক নারী দিবস

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সারা বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘পরিবর্তনের জন্য চাই সম-অধিকার চেতনা ও সৃজনশীল নেতৃত্ব।’ নারী দিবসের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কথা তো অনস্বীকার্য, বাংলাদেশের উন্নয়নে নারীর ভূমিকা ও অবদান অনেক বেশি। দেশের সর্বত্র নারীর গুরুত্ব আজ স্বীকৃত। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন অনেকটাই বেড়েছে। সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশের যে বিস্ময়কর উত্থান, তার নেপথ্যে নারীর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক সূচকে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তাতেও নারীর অবদান রয়েছে। তার পরও স্বীকার করতে হবে, বৈষম্য একেবারে দূর করা যায়নি। শুধু তা-ই নয়, সমাজে অনেক ক্ষেত্রে নারীকে এখনো অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়। চলার পথে নারীকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পথে-ঘাটে চলাচলে বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের থেকে অপমানজনক কথার শিকার হয়। ঘরে ও বাইরে নারীকে ভাষার মাধ্যমে হেয় করা হয়, যাতে সে মানসিক ও সামাজিকভাবে এগোতে না পারে। নারীর প্রতি অবমাননাকর আচরণ বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। ইতিবাচক ব্যবহারও নারীর প্রতি আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক—সব সূচকে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশে এখনো এমন অনেক পরিবার আছে, যেখানে নারী উপেক্ষিত। অনেক চেষ্টার পরও সামাজিকভাবে নারীর অবস্থান সেভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়নি। অথচ একটু পেছনে ফিরে তাকালে দেখতে পাই, এ দেশের ডাকসুর ভিপি ছিলেন একজন নারী। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তো বটেই, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও বাঙালি নারী পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে, শহীদ হয়েছে। বাংলাদেশের একজন নারী আন্তর্জাতিক দাবায় গ্র্যান্ড মাস্টার খেতাব পেয়েছেন।  এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বাংলাদেশের নারী। রাজনীতি থেকে প্রশাসন—সব ক্ষেত্রেই নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বেড়েছে। এর পরও নারী উপেক্ষার শিকার হচ্ছে। আর সে কারণেই এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্যটি বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় পুরুষকে সবার আগে ভূমিকা নিতে হবে। সম-অধিকার চেতনায় দাঁড়াতে হবে নারীর পাশে। শিক্ষা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হবে। পুরুষের মনোজগতে পরিবর্তন আনতে না পারলে এ দেশে নারীর অবস্থা ও অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। সিডও সনদের অনুমোদনকারী রাষ্ট্রগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে। সে অনুযায়ী নারীর প্রতি বিদ্যমান সব ধরনের বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ড, রীতিনীতি, প্রথা ও চর্চা নিষিদ্ধ করতে হবে। পরিবার থেকে সমাজ ও রাষ্ট্র সর্বত্র নারীকে যোগ্য সম্মান দিতে হবে। নারীকে দিতে হবে মানুষের মর্যাদা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা