kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকায় উচ্চ বায়ুদূষণ

দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন

৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বর্তমান বিশ্বে মানুষের এক নম্বর শত্রু পরিবেশদূষণ। দূষিত বায়ুর কারণে সৃষ্ট রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতি ঘণ্টায় মারা যাচ্ছে ৮০০ মানুষ। সেই পরিবেশদূষণের মাত্রা এশিয়ায়, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। এখানে নানা কারণে যত মানুষ মারা যায়, তার ২৮ শতাংশই মারা যায় পরিবেশদূষণের কারণে। এর পরে রয়েছে ভারত (২৬.৫)। আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস ও এয়ার ভিজুয়াল গত সোমবার বিশ্বের তিন হাজার ৯৫টি দূষিত শহরের যে সূচক প্রকাশ করেছে, সেখানেও ঢাকা রয়েছে ১৭ নম্বরে এবং রাজধানী শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে। এক নম্বরে আছে ভারতের নয়াদিল্লি। বাংলাদেশে পরিবেশদূষণের এমন ভয়ংকর মাত্রা নতুন কিছু নয়। বেশ কিছু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এমন তথ্য দিয়ে আসছে। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তনে আমরা কিছু করছি কি?

পরিবেশদূষণের মধ্যে বায়ুদূষণই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ। দূষিত বায়ুতে অত্যধিক মাত্রায় ক্ষতিকর বস্তুকণা (পার্টিকুলেটেড ম্যাটার বা পিএম) ভেসে বেড়ায়। নিঃশ্বাসের সঙ্গে এগুলো শরীরে ঢুকে যায়। ধীরে ধীরে শরীরে নানা রোগব্যাধি বাসা বাঁধে। এর মধ্যে বেশি দেখা যায় ক্যান্সার, হৃদরোগ, ফুসফুসের নানা রোগ, অ্যাজমা, হাঁপানি ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বাতাসে ক্ষতিকর বস্তুকণার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। ঋতুভেদে সেটি আরো বেড়ে যায়। ঢাকার বায়ুদূষণের কারণগুলোর মধ্যে ইটভাটার স্থান সবার ওপরে (৫৮ শতাংশ)। তারপর রয়েছে যানবাহন, বিশেষ করে পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন, আবাসিক এলাকায় বা সংলগ্ন স্থানে কল-কারখানা, আবর্জনার স্তূপ জমে থাকা, গাছপালা কমে যাওয়া ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে কি তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? আইন অনুযায়ী জনবসতি থেকে একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে ইটভাটা স্থাপন করতে হয়। অথচ গাজীপুরসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের মধ্যেই স্থাপিত হয়েছে বহু ইটভাটা। মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আমরা শুধু বক্তৃতা-বিবৃতিতেই দেখতে পাই, বাস্তবে দেখা যায় না। তাহলে ঢাকার বায়ুর মান উন্নত হবে কিভাবে?

পরিবেশদূষণজনিত কারণে মৃত্যু হয় ধীরে ধীরে, তাই বিষয়টিকে আমরা খুব একটা গ্রাহ্য করি না। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ২১ হাজার ২৮৬ জনের। একই বছর পরিবেশদূষণজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে তার ১০ গুণ। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন হলেও এ ক্ষেত্রে তা হয় না। কারণ এই মৃত্যু তাত্ক্ষণিক নয়, ধুঁকে ধুঁকে মানুষ মারা যায়। কিন্তু দেশের সরকার বা নীতিনির্ধারকদের তো তা অজানা নয়। তারা কি জনস্বাস্থ্য নিয়ে কিছুই ভাববে না? আমরা চাই, অবিলম্বে বায়ুদূষণ কমানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা