kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

দুর্দশাগ্রস্ত পুরান ঢাকা

উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে

১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




দুর্দশাগ্রস্ত পুরান ঢাকা

আজকের পুরান ঢাকাই ছিল একসময়ের মূল ঢাকা বা আদি ঢাকা শহর। নবাবি আমল ও ইংরেজ শাসনামলের অনেক ঐতিহ্য ধারণ করে আছে এই পুরান ঢাকা। কালের বিবর্তনে ঢাকার পরিধি বেড়েছে। সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে নতুন ঢাকা। কালক্রমে পুরান ঢাকা পরিণত হয়েছে আধুনিক নগরজীবনের সুযোগ-সুবিধাহীন ইট-কাঠের এক ঘিঞ্জি এলাকায়। অথচ এখনো সারা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র এই পুরান ঢাকা। মৌলভীবাজার, ইমামগঞ্জ, চকবাজার, বাবুবাজার, শাঁখারীপট্টি, সদরঘাট, ওয়াইজঘাট, শ্যামবাজার, পোস্তগোলা প্রভৃতি এলাকায় রয়েছে নানা ধরনের পণ্যের পাইকারি বাজার। কিন্তু অপরিসর রাস্তা, গাড়িঘোড়ার প্রচণ্ড চাপে পুরান ঢাকা রীতিমতো স্থবির হয়ে পড়েছে। দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের সংকট লেগেই আছে। যেখানে-সেখানে আবর্জনার স্তূপ হয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়। খাল-পুকুর সব ভরাট হয়ে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অনেক জায়গায় ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি, এমনকি ছোট অ্যাম্বুল্যান্সও পৌঁছতে পারে না। অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় অসহায় মৃত্যু যেন সেখানকার নাগরিকদের নিয়তি হয়ে উঠেছে। ২০১০ সালে নিমতলীতে এবং গত ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের সময় তেমন চিত্রই দেখা গেছে। অগ্নিনির্বাপণের উদ্যোগগুলোও ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি। এ অবস্থায় পুরান ঢাকার পরিণতি কী হবে? ভূমিকম্পের মতো বড় কোনো বিপর্যয় নেমে এলে এখানকার লাখ লাখ বাসিন্দাকে রক্ষার উপায় কী হবে? পুরান ঢাকা কি পরিত্যক্ত ঘোষিত হবে? নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি ও পুরাতত্ত্ববিদদের মতে, পুরান ঢাকার সমন্বিত উন্নয়নের ব্যাপারে আরো আগে থেকেই একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন ছিল; কিন্তু তা করা হয়নি। এখনো সময় আছে পুরান ঢাকাকে বাঁচিয়ে রাখার, আর বিলম্ব হলে তা সম্ভব না-ও হতে পারে।

উন্নত দেশগুলোতে সুরম্য অট্টালিকাসমৃদ্ধ বহু শহর আছে। কিন্তু তা করতে গিয়ে তারা তাদের ঐতিহ্যকে কখনো বিসর্জন দেয়নি। বড় বড় নগরীর পুরনো অংশগুলোকে নির্মাণশৈলীর দিক থেকে মিল রেখে যথাসাধ্য উন্নয়ন করেছে। পুরান ঢাকার ব্যাপারে আমাদের সেভাবেই চিন্তা করতে হবে। একই সঙ্গে এখানকার লাখ লাখ নাগরিকের আধুনিক নগর-সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে হবে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার, অবাধে চলাচল করার, দূষণমুক্তভাবে নিঃশ্বাস নেওয়ার এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাসহ জীবনধারণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একসময় বুড়িগঙ্গাকে কেন্দ্র করেই নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল এই শহর। সেই বুড়িগঙ্গারও আজ প্রায় অন্তিমদশা। এই নদী না বাঁচলে ঢাকাকে বাঁচিয়ে রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই বুড়িগঙ্গাকে নাব্য ও দূষণমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আশার কথা, সরকার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। আমরা চাই দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক।

পুরান ঢাকা জাতির ঐতিহ্য ও গর্বের প্রতীক। এর উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি মহাপরিকল্পনা করা প্রয়োজন। উন্নয়নের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ হিতে বিপরীতও হতে পারে। পুরান ঢাকার উন্নয়নের কাজটি নিঃসন্দেহে কঠিন ও অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। তা সত্ত্বেও আমাদের মনে রাখতে হবে, সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে, যা করার তা দ্রুত করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা