kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

মশা ও মশাবাহিত রোগ

নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




মশা ও মশাবাহিত রোগ

ঢাকাবাসীর কাছে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে মশা। রাজধানীর এমন কোনো এলাকা খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে মশার উপদ্রব নেই। যদিও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র বলেছেন, তাঁর এলাকায় মশার প্রকোপ নেই। কিন্তু সিটি করপোরেশনের উত্তর ও দক্ষিণ উভয় অঞ্চলেই মশা ও মশাবাহিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, জাপানিজ এনসেফালাইটিস ও জিকা পাওয়া গেছে। দেশে ১৮ বছর ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপই সবচেয়ে বেশি। সেই সঙ্গে ম্যালেরিয়ার দাপটও আছে। পার্বত্যাঞ্চলসহ কিছু এলাকায় আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে প্রতিবছর। এ ছাড়া মাঝে একাধিকবার চিকুনগুনিয়া বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রকোপের দিক থেকে গত বছর ছিল রীতিমতো ‘কালো বছর’। ২০০০ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১৮ বছরের মধ্যে গেলবারই এর বিস্তার ছিল সর্বোচ্চ মাত্রায়; সরকারি হিসাবেই আক্রান্ত ছিল ১০ হাজার ১৪৮ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রচলিত থ্রি-ভি ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ জরুরি। ভেক্টর (মশা), ভিকটিম (রোগী), ভাইরাস (ভাইরাস) এই তিন ‘ভি’ এ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এসবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ‘ভেক্টর’ দমনে মশার উৎস ধ্বংস করা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এই মশা দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ডিএসসিসিতে মশার ওষুধ ছিটানোর ৯৪০টি মেশিন রয়েছে। এসবের মধ্যে আছে হস্তচালিত স্প্রেয়ার, ফগার ও হুইল ব্যারো মেশিন। কিন্তু অর্ধেক মেশিনই প্রায় অচল। অন্যদিকে ডিএনসিসিতে মশা নিধনের মেশিন আছে ৬৫৩টি। সেখানেও নষ্ট প্রায় অর্ধেক। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য পাঁচ-ছয়জন কর্মী নিযুক্ত আছে। তাদের দিনে দুবার ওষুধ ছিটানোর কথা। নগরবাসী ওই কর্মীদের দেখতে পায় কালেভদ্রে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য অর্থ ও জনবল আছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেরই। চলতি বছরেও এ খাতে ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে তাদের। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জন্য বরাদ্দ ২১ কোটি, আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জন্য বরাদ্দ ২৩ কোটি টাকা। আগের বছরও বরাদ্দ ছিল প্রায় সমপরিমাণ অর্থ। কিন্তু ফল প্রায় শূন্য। কারণ খুঁজতে গেলে নগরবাসী দুই সিটি করপোরেশনের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলবে। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন থেকে হয়তো নগরবাসীর সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি বলা হবে।

কোনো তর্কে না গিয়ে মশক নিধনে সবাইকে সক্রিয় হতে হবে। মশক নিধন অভিযান বাড়াতে হবে। ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেই তা ছিটাতে হবে। বর্ষা মৌসুম আসছে। এ সময় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা থেকেও বিরত থাকতে হবে নগরবাসীকে। মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে আগে থেকেই সবাইকে সতর্ক করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা