kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ

পাচারের পথ ও প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সামাজিক শৃঙ্খলায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী মাদকদ্রব্য ইয়াবার পাচার ও এর অবৈধ কারবার বন্ধ করার উদ্দেশ্যে গত বছরের মাঝামাঝি মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী। অভিযানে সন্দেহভাজন অনেক ইয়াবাপাচারকারী ও ব্যবসায়ী নিহত হয়। তবে শীর্ষ পাচারকারী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা গাঢাকা দিয়ে থাকতে সক্ষম হয়। শেষ পর্যন্ত তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করার জন্য আলোচনা শুরু করে। গতকাল শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে কক্সবাজারের ১০২ জন ইয়াবা চোরাকারবারি। তাদের মধ্যে ২৪ জন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় ‘গডফাদার’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। এখনো যারা গাঢাকা দিয়ে আছে তাদের প্রতি আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে, না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারীদের উদ্দেশে বলা হয়, তাদের নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য যা যা করণীয় তা করা হবে; আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে। আইনের মাধ্যমে স্বল্পসময়ে যাতে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নিষ্পন্ন করা যায়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। প্রতি জেলায় এ রকম আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে পুলিশের মহাপরিদর্শক জানান। প্রসংগত, ইয়াবা কারবারিরা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিশেষ উদ্যোগে কক্সবাজার জেলা পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের তৎপরতার ফলেই গতকালের অনুষ্ঠানে ১০২ জন ইয়াবা চোরাকারবারি আত্মসমর্পণ করে। আশা করা যায়, এর সুফল মিলবে।

বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের কথা বললে ইয়াবা ট্যাবলেটের কথাই সবার আগে আসে। এটি আসে মূলত মিয়ানমার থেকে। ইয়াবাপাচার ও এর সেবন ভয়াবহ আকার ধারণ করার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারপ্রধানের নির্দেশে মাদকবিরোধী অভিযানে নামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে শ তিনেক কারবারি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিহত হয়। কিন্তু ইয়াবা কারবার বন্ধ হয়নি। অতঃপর নতুন বছরের শুরুতে ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজারের চিহ্নিত মাদক পাচারকারীদের একটি অংশ আত্মসমর্পণের আগ্রহ প্রকাশ করে। তাদের সঙ্গে আলোচনার পর আত্মসমর্পণের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।

ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা উচিত। তবে এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইয়াবাপাচার একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে তা মনে করার কারণ নেই। কী উপায়ে কোন পথে কাদের যোগসাজশে ইয়াবা পাচার হয়, সেসব শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে না পারলে এ ব্যবসা যে আবার জমে উঠবে না, তার নিশ্চয়তা নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশকে সামগ্রিক পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা