kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

অন্য সম্প্রদায়ের ওপর হামলা

রাষ্ট্রের চরিত্র রক্ষায় সরকারের দৃঢ় ভূমিকা চাই

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমাদের সংবিধানের চার মূলনীতির একটি নীতি ধর্মনিরপেক্ষতা। অর্থাৎ বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী আচরণের অধিকার রয়েছে; কিন্তু রাষ্ট্র নিজে কোনো ধর্মের প্রতি আনুকূল্য দেখাবে না। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি অনুযায়ী এক ধর্মের বা বিশ্বাসের লোক অন্য ধর্ম বা বিশ্বাসের লোকের আচরণে বাধা দেওয়ার অধিকার রাখে না। কেউ করার চেষ্টা করলে তাকে নিবৃত্ত করার অগ্রণী দায়িত্ব রাষ্ট্রের, সরকারের। কিন্তু রাষ্ট্র এ দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট তৎপর নয়। ফলে মাঝেমধ্যেই সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠী বা নৃগোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। 

গত মঙ্গলবার রাতে পঞ্চগড়ের আহমদনগরে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলা ও সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়। পরদিন বুধবার ঢাকা থেকে আক্রান্ত সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধিদল আহমদনগরে যায়। তারা সেখানে সংবাদ সম্মেলন করে হামলার প্রতিবাদ জানায় এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করে।

২২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের আহমদনগরে বার্ষিক জলসার কর্মসূচি দিয়েছিল আহমদিয়া মুসলিম জামাত। জলসা বন্ধ করা এবং আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানিয়ে কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠন বিক্ষোভ করছিল এক সপ্তাহ ধরে। প্রশাসন উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করলেও তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে আহমদিয়ারা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করতে রাজি হয়। এর আগেই পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গীতে মহাসড়ক অবরোধ করে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে করতোয়া সেতু পার হয়ে তারা আহমদনগরের দিকে রওনা হয়। পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। অন্তত ৩০ জন আহত হয়। পরে ওই কর্মীদের একটি অংশ অন্য পথে আহমদনগরে ঢুকে হামলা চালায়। তারা ১০-১২টি বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সূত্র ধরে সংঘর্ষ বাধে এবং দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। পরে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।

আহমদিয়াদের ওপর মাঝেমধ্যেই হামলা হয়। এসবে জড়িত থাকে কিছু ধর্মীয় সংগঠন। এ মানসিকতার লোকজন অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর হামলার ঘটনায়ও জড়িত থাকে। রাষ্ট্রের মৌলিক নীতির বিরুদ্ধে এসব লোক কী করে সক্রিয় হয় সেটিই আশ্চর্যের বিষয়। রাষ্ট্রের স্থিতিবিরোধী এসব গোষ্ঠী কার আনুকূল্য পায়? তাদের প্রতিহত করতে প্রশাসন তথা সরকারের দৃঢ় ভূমিকা দরকার। রাষ্ট্রসত্তা রক্ষায় সরকারের ভূমিকাই তো মুখ্য। আশা করি, সরকার এহেন অত্যাচার বন্ধ করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা