kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

উপজেলা নির্বাচনে বিতর্কিত নাম

এখনো সংশোধনের সুযোগ আছে

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপজেলা নির্বাচনে বিতর্কিত নাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান পদের জন্য প্রথম ধাপে ৮৭ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ১২২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি এখন পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কোনো আগ্রহ প্রকাশ করেনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই বিএনপি এ সরকারের অধীনে কোনো ধরনের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবার ভোটগ্রহণ হবে পাঁচ পর্বে। প্রথম পর্বের ভোট হবে ১০ মার্চ, পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট হবে ১৮ জুন।

স্থানীয় সরকার পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আগ্রহ থাকবে, এটিই স্বাভাবিক। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে। এরই মধ্যে দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নামের তালিকাও ঘোষণা করা হয়েছে। যাঁদের নির্বাচনের জন্য দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁরা এরই মধ্যে এলাকায় গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। কোথাও কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীর কথাও শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার পর্যায়ের এ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। কিন্তু চেয়ারম্যান পদে যাঁরা মনোনয়ন পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিতর্কিত বলে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে। খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ জন বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, মাদক কারবার, চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় এমন কয়েকজন আছেন, যাঁরা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কয়েকজন আবার স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিকটাত্মীয়। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে সোনা চোরাচালানে সম্পৃক্ততার অভিযোগ। ক্ষুব্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, তিনি অর্থের জোরে মনোনয়ন পেয়েছেন। সিলেটের এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা ও সন্ত্রাসের অভিযোগ। হাওরে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে ছিলেন সুনামগঞ্জের এক প্রার্থী। সিরাজগঞ্জের এক প্রার্থী গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন। দিনাজপুরের এক উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ যাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে, তিনি সরকারি কলেজের প্রভাষক। চকরিয়ায় যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি বন উজাড়ের মামলায় দণ্ডিত হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর নতুনদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে প্রশংসিত হয়েছেন। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যদি বিতর্কিত ব্যক্তিরা মনোনয়ন পান, তাহলে তাঁর সব অর্জন ব্যর্থ হয়ে যাবে। কাজেই দলকে সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা