kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিন্ডিকেটের খপ্পরে বিআরটিএ

কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এখনই

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিন্ডিকেটের খপ্পরে বিআরটিএ

নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীর আবেদনপত্র যথাযথ পদ্ধতিতে যাচাই করে, পরীক্ষা নিয়ে, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়েছে কি না নিশ্চিত হয়ে তবেই গাড়ি চালনার সনদ অর্থাৎ ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে এ নিয়ম মানার বালাই নেই। স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ। আট থেকে ১২ হাজার টাকা ঘুষ না দিলে লাইসেন্স পাওয়া যায় না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ অনিয়ম ঘটছে। সংস্থাটির প্রতিটি কাজেই অনিয়ম। প্রভাবশালী হলে হয়তো কিছু রেয়াত মিলে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি কম হয়নি, তবু অবস্থার বদল ঘটেনি।

নিয়ম অনুসারে আবেদন করার পর জেলা বা বিভাগীয় কার্যালয়ের সঙ্গে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ের সমন্বয় সাপেক্ষে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার কথা। বিষয়টি দেখেন বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বা ভারপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা। কালের কণ্ঠ’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক পরিবহন শ্রমিক নেতার সুপারিশ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয় না বিআরটিএ। তাঁর নাম তাজুল ইসলাম সবুজ। তাঁর সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স-বিষয়ক শাখা। সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখার কয়েকজন কর্মকর্তার সহায়তায় তিনি এ কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর দেওয়া রেফারেন্স নম্বর দেখে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিআরটিএ কার্যালয়ের দালাল ও কর্মকর্তাদের সহকারীদের মাধ্যমে ঘুষ দেওয়ার পর তাঁর রেফারেন্স নম্বর দেখে লাইসেন্স দেওয়া হয়। তিনি নিজের সংগঠনের প্যাডে বিআরটিএর চেয়ারম্যানের কাছে রেফারেন্স নম্বর পাঠান। এরপর দিন দিন ড্রাইভিং লাইসেন্স মিলে যায়।

শ্রমিক নেতা সবুজ ঢাকা জেলা ট্যাক্সি, অটোরিকশা, ট্যাক্সি-ক্যাব, মিশুক, অটোটেম্পো সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি। ২০০৭ সাল থেকে তিনি বিআরটিএর মিরপুর, ইকুরিয়াসহ বিভিন্ন কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য দালালি করে আসছেন। আবেদনকারীরা লাইসেন্সের জন্য যে আবেদন করেন তার রেফারেন্স নম্বর নিয়ে তিনি বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের কাছে হাজির হন। সেই নম্বর প্রধান কার্যালয়ের পরিচালকের (প্রকৌশল) কাছে পাঠিয়ে দেন চেয়ারম্যান। সেখান থেকে সুপারিশ পাঠানো হয় ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে। সুপারিশ পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্স ছাপে। চুক্তি অনুসারে তাদের দিনে গড়ে চার হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহ করার কথা। কিন্তু ওই শ্রমিক নেতার রেফারেন্সে যে পরিমাণ সুপারিশ পাঠানো হয়, সে পরিমাণ লাইসেন্সই ছাপে তারা। অবশ্য বিআরটিএর কর্মকর্তাদের অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স সরবরাহ করার এখতিয়ার তাদের নেই। ফলে নিয়ম মেনে যাঁরা আবেদন করেন, তাঁদের অপেক্ষায়ই থাকতে হয়।

সরকার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদে নেমেছে। কিন্তু এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে জিহাদে সফল হওয়া সম্ভব হবে কি! বিআরটিএর চেয়ারম্যান কী করে এমন কাজ করেন, সেটা এক আশ্চর্যের বিষয়। রাষ্ট্রের অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের চিত্র এ রকম। বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা নিয়ে প্রচুর প্রতিবেদন প্রকাশিত-প্রচারিত হয়েছে গণমাধ্যমে। এখন ব্যবস্থা গ্রহণ করার সময়। দুর্নীতি নির্মূল করতে হলে সরকারকে কঠোর হতেই হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা