kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা

এমন অবহেলা কাম্য নয়

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কয়েক বছরের মতো এবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনা ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছিল। পরীক্ষার প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে প্রশ্ন ফাঁসের কোনো খবর আসেনি। কিন্তু যে ঘটনা ঘটেছে তা-ও অভিপ্রেত নয়। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ না থাকলেও কিছু কেন্দ্রে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম বোর্ডের কয়েকটি কেন্দ্রে ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুসারে প্রণীত প্রশ্নে ২০১৯ সালের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাতটি কেন্দ্রের পাশাপাশি গাইবান্ধা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ ও নেত্রকোনার একটি করে কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের খবর পাওয়া গেছে। দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা, যাতে অংশ নিচ্ছে ২১ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী, সেখানে এমন ভুল যে গাফিলতির কারণেই ঘটেছে, তা নিশ্চয় বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এর প্রভাব পড়বে পরীক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর ওপর। এ ধরনের ভুলের দায় কে নেবে। ‘পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়’—এজাতীয় কথা বলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ সান্ত্বনা দিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনা ঘটবে কেন? কোনো কোনো কেন্দ্রে বিষয়টি নজরে এলে প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার আগে যে সময় নষ্ট হয়েছে, তা পুষিয়ে দেওয়া হয়নি। এর প্রভাব তো পরীক্ষার ফলাফলে পড়বে। কারণ মূল্যায়ন করা হয় খাতা দেখে। কোনো কোনো জায়গায় কেন্দ্রসচিবকে শোকজ করা হয়েছে। কিন্তু এতেই কি ভুল সংশোধন হয়ে গেল। শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মনে যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তার দায় কে নেবে? প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, কোনো কোনো কেন্দ্রে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে অনেক দেরিতে। রাজবাড়ীর একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর তুলনায় প্রশ্নপত্র কম ছিল। অন্য কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র এনে পরীক্ষা শুরু করতে হয়। এসএসসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের ব্যাপারে এমন অবহেলা কেন? 

যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার আগে শতভাগ প্রস্তুতির পাশাপাশি সর্বাত্মক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। যেসব কেন্দ্রে এসব ঘটনা ঘটেছে, সেখানে কোনো সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে মনে হয় না। এ ধরনের ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে তার জন্য সর্বাত্মক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা