kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক

এ প্রবণতা রোধে আইনি ব্যবস্থা নিন

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক

চাঞ্চল্যকর অনেক হত্যা মামলার আসামি বিচার চলাকালে জামিন নিয়ে বেরিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে। বিচারে অনেকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এতে ভুক্তভোগী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে একটুও স্বস্তি ফেরেনি। কারণ জামিনে বেরিয়ে উধাও হয়ে গেছে মূল দণ্ডিত আসামি। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি এসব আসামির পক্ষে যাঁরা জামিনদার হয়েছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে মামলার বিচার হলেও শাস্তি কার্যকর হচ্ছে না। এমনও ঘটেছে যে জামিন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে সেখান থেকে মামলার বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘জামিনে পালিয়ে দণ্ড ফাঁকি’ শীর্ষক সংবাদে যেসব মামলার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, তার সবই হত্যা মামলা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কোনো না কোনো সদস্যকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হয়েছে। আসামিরা ধরা পড়ার পর আদালতে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মামলার রায়ে আসামিদের দণ্ড ঘোষণার সময় দেখা গেল মূল আসামি আদালতে হাজির নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেল জামিনে বেরিয়ে যাওয়ার পর অনেক আসামিই আর কোনো দিন আদালতে হাজিরা দেয়নি। বিষয়টি কেউ হয়তো আদালতের দৃষ্টিতে আনেনি। আর এভাবেই একটি আইনি প্রক্রিয়ায় আসামি দণ্ডিত হওয়ার পরও দণ্ড ভোগ করা থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষ্ণা কাবেরী হত্যা মামলা, ২০০৬ সালের দুটি হত্যা মামলা, ২০১১ সালের কুষ্টিয়ার কিশোর হৃদয় হত্যা মামলা, ২০১৬ সালে চট্টগ্রামে কুকুর লেলিয়ে দিয়ে হিমু হত্যা মামলা, নোয়াখালীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক হত্যা মামলাসহ আরো অনেক নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামি আদালতের চূড়ান্ত রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও তাদের দণ্ড ভোগ করতে হয়নি। আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে রায়ের আগেই গাঢাকা দিয়েছে সবাই। তাদের কারো জামিনদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে জামিন নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হয়নি। অপরাধ করেও আইনের চোখে ধুলা দিয়ে আসামিরা মুক্ত জীবন যাপন করছে।

আদালতের যেমন জামিন দেওয়ার অধিকার আছে, তেমনি জামিন পাওয়া যে কারোর সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু সঠিক নজরদারি বা মনিটরিং না থাকার ফলে যখন খুনের আসামিও শাস্তি ভোগ থেকে নিষ্কৃতি পায় তখন জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমার পরিবর্তে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তখন উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কাজেই এ বিষয়ে আরো সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। বিশেষ করে সাজাপ্রাপ্ত আসামি পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে জামিনদারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এ প্রবণতা কমবে বলে আমরা মনে করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা