kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

দুর্নীতির সূচকে অবনতি

কঠোর পদক্ষেপ নিন

৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতির সূচকে অবনতি

২০১৮ সালে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ১৪৯ ক্রমিকে নেমে এসেছে বাংলাদেশ। যখন নতুন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলছে, তখন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে অবস্থানগত অবনতি বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে বিব্রতকর। বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি গত মঙ্গলবার সারা পৃথিবীতে একযোগে দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৭ সালের তুলনায় বাংলাদেশের স্কোর কমেছে ২ পয়েন্ট। বাংলাদেশে ‘দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা উদ্বেগজনক’ বলেছে টিআই। সংস্থাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সূচকে অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে এবারও বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন; এশিয়া-প্যাসিফিকের ৩১টি দেশের মধ্যে অবস্থান চতুর্থ সর্বনিম্ন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণা সূচক অনুযায়ী ২০১২ সাল থেকে শুরু করে ষষ্ঠবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানভুক্ত হলো বাংলাদেশ। এই অবস্থানের প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরো কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। অন্যদিকে দুদক চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই প্রতিবেদনের পক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালকে তথ্য-প্রমাণ উল্লেখ করতে হবে। কোথায় কোথায় দুর্নীতি বেড়েছে তা বলতে হবে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও দমনের উপায়ও জানাতে হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর সময়েই এ ধরনের একটি প্রতিবেদন সরকারের জন্য নিঃসন্দেহে বিব্রতকর। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের মানুষ দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে। মানতে হবে, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সে অঙ্গীকারও যে আছে, তার প্রমাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি। এত কিছুর পরও যদি দেশে দুর্নীতি না কমে, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। অন্যদিকে নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর সময়েই এ ধরনের প্রতিবেদন বা আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার দুর্নীতির ধারণা সূচকে অবস্থানের অবনতি সরকার ও ক্ষমতাসীনদের বিব্রত করবে—এটাই স্বাভাবিক। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পাঁচবার বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিপরায়ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল বাংলাদেশ। তখন ঘুষ-দুর্নীতি রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়ে ফেলে। তখনো দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান ছিল না।

টিআই দুর্নীতির যে ধারণা সূচক প্রকাশ করেছে, তা বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবার আগে অঙ্গীকার অনুযায়ী রাজনৈতিক সদিচ্ছার বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে আরো কঠোর অবস্থান নিতে হবে। আর সবার আগে প্রতিষ্ঠা করতে হবে জবাবদিহি ও আইনের শাসন। দুর্নীতি থাকলে কোনো দেশেরই উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। বাংলাদেশ গত ১০ বছরে যে উন্নয়ন করেছে, তা ধরে রাখতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হতেই হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা