kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ

সদিচ্ছুক সবাই সমান সুযোগ পাক

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছিল গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে। মূলত এটি ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান। তীব্রতা কমলেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে এখন পর্যন্ত তিন শর বেশি লোক নিহত হয়েছে। তাদের অনেকে তালিকাভুক্ত ছিল না। টেকনাফে গত তিন মাসে নিহতদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ তালিকাভুক্ত। এটা তথ্য-নিরীক্ষণ ও সমন্বয়ের অভাবের নির্দেশক। অভিযানে নিরীহ বেশ কিছু লোকও নিহত হয়েছে।

অভিযানের দৃশ্যমান ফল সার্বিক বিচারে ইতিবাচক নয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযানের আগে যে পরিমাণে ইয়াবা দেশে ঢুকত, অভিযানের পরে মাস কয়েক সময়ে তার চেয়ে প্রায় ৪০ লাখ পিস বেশি ইয়াবা দেশে ঢুকেছে। কুখ্যাত গডফাদারদের কারো গায়ে আঁচড় লাগেনি। তবে অভিযানের প্রভাব যে একেবারেই নেই, তা নয়। ইয়াবা কারবারিদের অনেককে গাঢাকা দিতে হয়েছে। তারা এখন আত্মসমর্পণের জন্য সচেষ্ট।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের মুখে গাঢাকা দিয়ে থাকা কারবারিরা ‘স্বাভাবিক জীবনে’ ফেরার লক্ষ্যে আত্মসমর্পণের চেষ্টা করছে। কক্সবাজারের টেকনাফের শতাধিক কারবারি এরই মধ্যে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলবে পুলিশ। আত্মসমর্পণ বিষয়ে কোটিপতি ও প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারিদের তোড়জোড় দেখে কক্সবাজারে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় লোকজন মনে করছে, গ্রেপ্তার এড়িয়ে থাকা শীর্ষস্থানীয় কারবারিরা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় আত্মসমর্পণের সুযোগ পাচ্ছে। তাদের আত্মীয়সহ তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকজন কারবারিকে টেকনাফে প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। সরকারের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সংশোধিত হওয়ার অঙ্গীকার করে সব কারবারিরই আত্মসমর্পণের সুযোগ পাওয়া উচিত। এর পরও যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

মাদকবিরোধী অভিযানের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এ অভিযান টার্গেট প্র্যাকটিসের বিষয় হবে কি না ভেবে দেখা দরকার। দেশের প্রচলিত আইনে কারবারিদের সর্বোচ্চ শাস্তিই কাম্য। সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও সতর্কতার নিরিখে কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা