kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শৃঙ্খলা ফেরাতে অভিযান

আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শৃঙ্খলা ফেরাতে অভিযান

ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত মঙ্গলবার আবার অভিযান শুরু করেছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। প্রথম দিনের ঘটনাপঞ্জি বলছে, এ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন কাজ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন গুলিস্তানে এই অভিযানের উদ্বোধন করছিলেন তখন সেখানেও গণপরিবহনে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। বাসচালকরা ছিল বেপরোয়া। সুনির্দিষ্ট স্টপেজে বাস থামেনি। পথচারীদেরও শৃঙ্খলা মেনে চলতে দেখা যায়নি। নির্দিষ্ট স্টপেজে বাস না থেমে যেমন আগে-পিছে থেমেছে, তেমনি যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হতে দেখা গেছে পথচারীদের। ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে বিশৃঙ্খলা আগের মতোই ছিল। যেসব স্পটে ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি ছিল, শুধু সেসব জায়গায়ই কিছুটা নিয়ম মেনে চলেছে গণপরিবহন।

ঢাকার রাস্তায় চলাচলকারী গণপরিবহনে একসময় টিকিট কেটে বাসে ওঠার নিয়ম চালু করা হয়েছিল। নির্দিষ্টসংখ্যক সিটের বাইরে কোনো যাত্রী তখন নেওয়া হতো না। নির্দিষ্ট স্টপেজে বাস থামত। কয়েক বছর আগে থেকেই টিকিট কেটে বাসে ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে। এর পরিবর্তে যে ব্যবস্থাটি চালু করা হয়, বাস শ্রমিকদের ভাষায় তাকে বলা হয় ‘ওয়ে বিল’। সুনির্দিষ্ট কিছু জায়গায় এই বিলে যাত্রীসংখ্যা লিখে দেওয়ার জন্য সুপারভাইজর নিয়োগ করা আছে। কিন্তু দেখা যায়, ওই সব জায়গার বাইরেও বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী ওঠানো ও নামানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো যাত্রী প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে বাস শ্রমিকদের হাতে হেনস্তা হতে হয়। সিটিং বাসের নামে প্রতারণা এখন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে গণপরিবহনে। আগে ঢাকার রাস্তায় রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির বাস চলাচল করত। এখন অদৃশ্য কোনো কারণে বিআরটিসির বাস স্বল্পসংখ্যক কিছু রুটে চলাচল করে। এর সুযোগ নিয়ে বাস কম্পানিগুলো ঢাকার রাস্তার দখল নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার বাস না থাকায় বাস কম্পানিগুলো ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে। এটা দেখারও কেউ আছে বলে মনে হয় না। সেই সঙ্গে আছে ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের দৌরাত্ম্য। বৈধ-অবৈধ যানবাহনের পাশাপাশি রয়েছে প্রাইভেট কার, লেগুনা, সিএনজিচালিত থ্রি হুইলার ও রিকশা। রাইড কম্পানিগুলোর গাড়ি ও মোটরসাইকেল যুক্ত হওয়ার ফলে ঢাকার রাস্তায় ভিড় বেড়েছে। অদক্ষ চালকের হাতে যানবাহন তুলে দেওয়ার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসচেতন পথচারী। রাস্তা পারাপারের নিয়ম মেনে চলতে পথচারীদের বেশির ভাগেরই আগ্রহ নেই। যেকোনো জায়গা দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়। এমনকি কাঁটাতারের বেড়া দিয়েও এ প্রবণতা রোধ করা যাচ্ছে না। সব মিলিয়েই ঢাকার রাস্তায় অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ অবস্থায় ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর আইন প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। যানবাহন, বিশেষ করে গণপরিবহনকে সুনির্দিষ্ট জায়গায় থামতে বাধ্য করতে হবে। সুনির্দিষ্ট স্টপেজের বাইরে অন্য কোনো জায়গা থেকে যাত্রী নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পথচারীদেরও রাস্তা পারাপারে নিয়ম মেনে চলতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা