kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা

উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনুন

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিছুদিন ধরেই তৈরি পোশাক শিল্পে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। আজ এখানে, কাল ওখানে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসছে। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষ দফায় দফায় আলোচনা করে রবিবার একটি সমাধানে পৌঁছে। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা নতুন সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে শ্রমিকদের অবিলম্বে কাজে যোগদান করতে বলেছেন। কিন্তু অনলাইনে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, গতকালও আশুলিয়ায় কিছু কারখানা থেকে শ্রমিকরা বেরিয়ে এসে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ এসে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। সেখানে আটটি কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে।

জানা যায়, গত নভেম্বরে ঘোষিত নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। শ্রমিকদের দাবি, কোনো কোনো গ্রেডে বেতন বাড়েনি কিংবা অন্যান্য গ্রেডের সঙ্গে তুলনায় বেতন কমেছে। এই দাবিতে নির্বাচনের আগেই গত ডিসেম্বর মাসে বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হয়। তখন বলা হয়েছিল, নির্বাচনের পর আলাপ-আলোচনা করে বেতনকাঠামোর অসংগতিগুলো দূর করা হবে। নির্বাচনের পর শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে গত ৯ জানুয়ারি বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য শ্রমসচিবকে প্রধান করে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের পাঁচজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়। কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিভিন্ন গ্রেডে বেতন আরো বাড়িয়ে অসংগতিগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষ যেমন তা মেনে নিয়েছে, তেমনি শ্রমিক প্রতিনিধিরাও তা মেনে নিয়েছেন। তা সত্ত্বেও গতকালের এই বিক্ষোভ কেন? বিগত দিনের শ্রমিক বিক্ষোভগুলোতে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। অভিযোগ আছে, বিক্ষোভের আড়ালে থাকা কিছু স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশে উত্তেজনা ছড়াতে চায়। যদি এমনটিই হয়ে থাকে, তাহলে উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না কেন?

শিল্প-কারখানায় শ্রমবিরোধ সব সময়ই ছিল। শ্রমবিরোধ নিরসনের কিছু পদ্ধতিও আছে। ধ্বংসাত্মক আচরণ করা কিংবা রাস্তা অবরোধ করে লাখ লাখ মানুষকে অসহনীয় দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে। যেকোনো বিরোধ আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে। কেউ যাতে শ্রমিকদের ব্যবহার করে ভিন্ন স্বার্থে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকেও কড়া নজর দিতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা