kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নতুন সংস্কৃতির আভাস

রাজনীতিতে সহনশীলতা তৈরি হোক

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন সংস্কৃতির আভাস

দেশের রাজনীতিতে আবারও পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার পরিবেশ তৈরি হতে শুরু করেছে। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আগামী ২৮ জানুয়ারি ‘জাতীয় সংলাপ’ আহ্বান করেছে। ঐক্যফ্রন্ট বলছে, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণ করতে ডাকা এই সংলাপে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সব রাজনৈতিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রীও সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দল সংলাপে অংশ নেয়, তাদের সঙ্গেই নতুন করে সংলাপে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, আলোচনার বিষয়বস্তু জানা গেলে বিবেচনা করবে তাঁর দল। ওদিকে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত রবিবার আদালতে প্রণিধানযোগ্য একটি কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘শুধু সংসদেই না, সংসদের বাইরেও বিরোধী দল হয়।’

সরকারপ্রধানের আলোচনা ও শুভেচ্ছা বিনিময় করার উদ্যোগের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের উদ্যোগ দেশের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এরই মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত মন্ত্রিসভার বেশির ভাগ সদস্যই নবীন; প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন। দশম সংসদের মতো একাদশ সংসদেও জাতীয় পার্টি বসছে বিরোধী দলের আসনে। অন্যদিকে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের আটজন নির্বাচিত হলেও এখন পর্যন্ত শপথ নেননি। এ অবস্থায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে নানা বিষয় আলোচিত হতে পারে। একদিকে বিশাল বিজয় পেয়ে আওয়ামী লীগ তথা সরকার ভিন্নমত অবজ্ঞা করতে পারে; অন্যদিকে বিরোধী দল, বিশেষ করে বিএনপি সংসদের বাইরে বেছে নিতে পারে রাজপথের আন্দোলন, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য কোনো সুখদায়ক হবে না। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আলোচনার আয়োজন কিছুটা হলেও দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনও তো হতে পারত যে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সব রাজনৈতিক দলকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মতো করে সরকার পরিচালনায় মনোনিবেশ করল। কিন্তু তা না করে আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে উদারতার পরিচয় দিয়েছে। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টও নিছক বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতার পথে যেতে পারত। কিন্তু সে পথে না গিয়ে উভয় পক্ষই যখন সংলাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে তখন ধরে নেওয়া যেতে পারে, দেশের রাজনীতি অস্থিতিশীল হবে না। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়া কারাগারে যে কথা বলেছেন, সেখানেও সুস্থ রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত আছে। সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে না পারলেও বিএনপি যদি সত্যিকারের বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকতে পারে, সেটি দেশের গণতন্ত্রের জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে। আমরা আশা করব, পরমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচক রাজনীতির সূচনা করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা