kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

বিত্তবানদের রাজস্ব ফাঁকি

আদায়ের প্রক্রিয়া কঠোর হতে হবে

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশে কোটি টাকা বা তার বেশি পরিমাণ টাকার আমানত রয়েছে এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ৭০ হাজার ৪৬৩। এটি চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান। গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৬৫ হাজার ৯৫১। হিসাব থেকেই স্পষ্ট, দেশে কোটিপতির সংখ্যা বর্ধমান। রাজস্ব খাত ও উন্নয়ন খাতের লোকেরা এ তথ্য জেনে খুশিই হবেন। কারণ পর্যাপ্ত রাজস্ব মিলবে; রাজস্ব বাড়লে উন্নয়নপ্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হবে। উন্নয়নের জন্য অর্থাগম জরুরি। তবে প্রকৃত বাস্তবতা প্রদর্শিত বাস্তবতার অনুপাতে সুখকর নয়। ব্যাংকের নথিতে কোটিপতির সংখ্যা ৭০ হাজার হলেও আয়করের নথিতে এ সংখ্যা মাত্র ১২ হাজার। এর কারণ অবশ্যই কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা।

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচুর ফাঁকির ব্যবস্থা রয়েছে। আয় কম দেখিয়ে ও ব্যয় বেশি দেখিয়ে ফাঁকি দেওয়া হয়। কাজটি সবচেয়ে বেশি করেন সম্পদশালী ব্যক্তিরা। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যক্তিপর্যায়ে সারা বছরের আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখা প্রায় অসম্ভব বিষয়। প্রতি আইটেমের বিল-ভাউচার রাখা যায় না। ফলে সেখানেও ফাঁকির ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানের এ সমস্যা নেই। তাই প্রতিষ্ঠানের বা প্রতিষ্ঠানপ্রধানের ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি পরিকল্পিত। মানসিকতার ও আস্থার বিষয়ও রয়েছে। আয়কর দেওয়ার সুবিধা, প্রদত্ত আয়কর রাষ্ট্রের বা তার কী কাজে লাগবে তা অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়। ফলে আয়কর দেওয়ায় অনাস্থা-অনীহা কাজ করে। অনেকের মধ্যে আয়কর কম দিয়ে নিজের সঞ্চয়-সম্পদ বাড়ানোর প্রবণতাও কাজ করে।

আয়কর রিটার্নের হিসাবে কোটিপতির সংখ্যা ব্যাংকের হিসাবের ছয় ভাগের এক ভাগ মাত্র। এটা খুবই পরিকল্পিত। বিভিন্নভাবে তাঁরা নিজেদের ‘স্ট্যাটাস’ কমিয়ে আয়কর ফাঁকি দেন। অকৃষি জমিকে কৃষি জমি দেখিয়ে, জমির দাম কম দেখিয়ে, গাড়ি প্রভৃতি বিলাসদ্রব্যের উপস্থিতি অস্বীকার করে তাঁরা আয়কর রিটার্ন জমা দেন। তাঁরা দিব্যি পার পেয়ে যান, রাজনৈতিক দল বা নেতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বা কর বিভাগের বড় কর্তাদের সঙ্গে সখ্য থাকার সুযোগ নিয়ে। ক্ষতিটা হয় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের।

অবশ্যই রাষ্ট্র ও সমাজের স্বার্থে আয়কর ফাঁকি বন্ধ করতে হবে। আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করে, ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে আয়করে আস্থা বাড়িয়ে, আয়কর দেওয়ার সুবিধা স্পষ্ট করে, চাকরিজীবীদের আয়কর প্রতিষ্ঠান মারফত যথাপরিমাণে আদায়ের ব্যবস্থা করে এবং আয়কর ব্যবহারের হিসাব প্রকাশ করে গোটা প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার মাধ্যমে এটা করা উচিত। আশা করি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা সার্বিক বিবেচনায় ব্যবস্থা নেবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা