kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ

সংঘাত-সংঘর্ষ কোনোভাবেই কাম্য নয়

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ

প্রধান দুই জোটের আসন বণ্টন প্রায় চূড়ান্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ। এরপর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। প্রকৃতপক্ষে কাল থেকেই শুরু হচ্ছে আসল নির্বাচনী প্রতিযোগিতা। কোন আসনে কারা কারা প্রার্থী, তা কালই স্পষ্ট হয়ে যাবে ভোটারদের কাছে। কিন্তু সব কিছু খুব মসৃণভাবে চলবে, এমনটা নয়। মনোনয়ন পাননি যাঁরা, তাঁদের অনেকের মধ্যে এবং তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। গতকাল তেমন কিছু দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। দলীয় অফিসের সামনে অনেককে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। অনেকে চোখের জলও ফেলেছেন। আবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মাঠে নামলেও অনেক অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নির্বাচন কমিশনও বিষয়গুলো জানে। তাই তারা সব কিছু সুন্দরভাবে সামাল দিয়ে জাতিকে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবে—এমনটাই আশা করে মানুষ।

বড় দলগুলোতে প্রতিটি আসনে অনেক যোগ্য প্রার্থী থাকেন। সবাই আশা করেন, সামনের নির্বাচনে তিনিই দলের মনোনয়ন পাবেন। কিন্তু কোনো দলকে একটি আসনে শেষ পর্যন্ত একজনকেই মনোনয়ন দিতে হয়। হয়তো সে ক্ষেত্রে দলের নীতিনির্ধারকদের ভুল থাকতে পারে, কিন্তু তা নিয়ে অনিয়ন্ত্রিত ক্ষোভ প্রদর্শন করা কিংবা ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তা ছাড়া এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাও ছিল অনেক। কোনো কোনো আসনে এই সংখ্যা ছিল অর্ধশতাধিক। দলগুলো একই আসনে তিন-চারজনকেও প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে আগে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, উপযুক্তভাবে ফরম পূরণ না করা ইত্যাদি কারণে এবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিলও করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৫৪৩ জন আপিল করেছিলেন। গতকাল পর্যন্ত আপিলের শুনানি হয়েছে এবং দুই শতাধিক প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এ সবই হয়েছে অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করারও কোনো কারণ নেই। তা সত্ত্বেও কোনো কোনো দলের পক্ষ থেকে নানাভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে এবং দোষারোপও করা হয়েছে। অবশ্য রাজনীতিতে এমনটা হয়েই থাকে।

বিগত নির্বাচনে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট অংশ নেয়নি। ফলে সেই নির্বাচন স্বাভাবিকতা হারিয়েছিল। দেশব্যাপী ব্যাপক সংঘাত-সংঘর্ষ হয়েছিল। এবারের নির্বাচনে সব দল অংশ নেওয়ায় মানুষ খুশি। তাদের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মানুষ নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি দায়িত্ব রয়েছে দলগুলোরও। মনে রাখতে হবে, শুধু নির্বাচনে জয়-পরাজয় নয়, দেশের কল্যাণ সাধনই রাজনীতির মূল লক্ষ্য। বৈশ্বিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলার এই গতি ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক সংঘাত-সংঘর্ষ যেন তাকে বিপর্যস্ত না করে, সেদিকে সবার নজরদারি থাকতে হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা