kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ঘরের দরজায় খুন

হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করুন

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীতে নিজের বাসার সামনের দরজায় খুন করা হয়েছে ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুন নেছা আরিফাকে। পরিবারের অভিযোগ, তাঁর সাবেক স্বামী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশও একই কথা বলছে। থানায় মামলা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর বেশ কিছুদিন থেকেই ফোনে ও সরাসরি আরিফাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন রবিন। আরিফার পরিবার ফখরুল ইসলাম রবিনের বিরুদ্ধে মাস ছয়েক আগে কলাবাগান থানায় একটি জিডিও করে। কিন্তু জিডির সূত্র ধরে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে হয়তো আরিফাকে অকালে জীবন দিতে হতো না। কোনো কোনো ঘটনায় মানুষ থানায় সাধারণ ডায়েরি করে আশ্বস্ত থাকতে চায়। বিশ্বাস করতে চায়, তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মানুষ থানায় ছুটে যায়। আরিফার পরিবারের পক্ষ থেকেও এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কারো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করে। এরপর স্বাভাবিক নিয়মে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হবে। তদন্তের ফল জানবে মানুষ। আরিফার পরিবারও নিশ্চয় হুমকি থেকে রক্ষা পেতেই থানায় গিয়েছিল। সাধারণ ডায়েরি করেছিল। সে সময় থানা কোনো ব্যবস্থা নিলে বা সাধারণ ডায়েরিকে গুরুত্ব দিলে হয়তো আরিফাকে অকালে জীবন দিতে হতো না। ডায়েরিতে আরিফার সাবেক স্বামী ফখরুল ইসলাম রবিনের পরিচিতিও থাকার কথা। তিনি একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। জিডির সূত্র ধরে তাঁকে খোঁজ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা যেত। পুলিশ কি সেই কাজটি করেছে? এখন পুলিশের সামনে আরো বড় দায়িত্ব। যেহেতু রবিনের পরিচিতি অজ্ঞাত নয়, তাঁর পারিবারিক ঠিকানাও পাওয়া সম্ভব, কাজেই পুলিশকে এখন আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। যেকোনো মূল্যে রবিনকে খুঁজে বের করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।

পারিবারিক বিরোধের কারণে খুনের ঘটনা আমাদের সমাজ থেকে দূর করা যাচ্ছে না। এজাতীয় অপরাধের বিচার আরো দ্রুত হওয়া দরকার। খুব বেশি নয়, সামান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলেই সমাজ থেকে এসব ঘটনা দূর করা সম্ভব হতো। আমরা আশা করব, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরিফা খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে অযথা সময়ক্ষেপণ করবে না। অভিযুক্তকে আইনের হাতে দ্রুত সোপর্দ করা হবে। আমরা এ ঘটনার দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা