kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

তোরসা আর শিলার মুখোমুখি

দুই বাংলাদেশ সুন্দরী রাফাহ্ নানজীবা তোরসা ও শিরিন আক্তার শিলার সঙ্গে আড্ডা জমিয়েছিলেন মুনতাসির সিয়াম

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তোরসা আর শিলার মুখোমুখি

রাফাহ্ নানজীবা তোরসা

নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, অভিনয়সহ নানা ক্ষেত্রে অবাধ বিচরণ তাঁর। ২০১৯ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুট মাথায় চাপিয়ে পেয়েছেন দেশজোড়া পরিচিতি। পড়ালেখাও চলছে সমানতালে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।

 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কী কী সাবধানতা অবলম্বন করছ?

খুবই সাধারণ কিছু বিষয়, যেগুলো ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডাব্লিউএইচও) এবং বাংলাদেশ সরকার থেকে সতর্কতা হিসেবে পালন করতে বলা হয়েছে, সেগুলোই করার চেষ্টা করছি। যেমন—কিছু ধরলেই সঙ্গে সঙ্গে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া। দুর্ভাগ্যবশত যদি বাধ্য হয়ে বাইরে কোনো কাজে যেতেই হয়, সে ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করা, দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করা, বাসায় ফিরে সবার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া। হাত ধোয়ার সময় যেন পানি অপচয় না হয়, সেদিকটাও সতর্ক থাকছি।

কোন জিনিসটা সবচেয়ে বেশি ভয় পাও?

আমার খুব অ্যারাকনোফোবিয়া মানে মাকড়সাভীতি আছে। সাধারণত যা হয়, যে জিনিসটা আমরা হয়তো বা একটু বেশি ভয় পাই, সেগুলোই আমাদের চোখের সামনে ঘোরে। তো এটা দেখে প্রায় সময়ই ভয় পাওয়া হয়।

চা বেশি পছন্দ, নাকি কফি?

চায়ের মধ্যে কফি মিশিয়ে খেতে বেশি পছন্দ করি।

সারাক্ষণ বাসায় থেকে কোন জিনিসটি সবচেয়ে বেশি মিস করছ?

আমরা যেটা বলি, ওয়ার্কিং ফ্রম হোম, কিন্তু বাইরে কাজ করতে যাওয়াটা অন্য রকম। এই জিনিসটা মিস করছি। তবে আমার একটা অভ্যাস হচ্ছে, অবসর পেলেই নিজেকে সময় দেওয়ার জন্য দেখা যায় কোথাও ঘুরতে বের হই বা কফি খেতে যাই; এগুলো খুব বেশি মিস করছি। এ ছাড়া মানুষ হিসেবে আমাদের যে সৌজন্যতা দেখানোর জায়গাগুলো যেমন—হ্যান্ডশেক করার মতো জিনিসগুলোও মিস করছি।

দেখতে পেলে বাসায় চোর ঢুকে তোমার মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৯-এর ক্রাউনটা চুরির চেষ্টা করছে। কী করবে?

এটা খুব নিরাপদ হাতেই আছে। তেমন কিছু ঘটার সুযোগ নেই। এরপরও যদি ঘটেই যায় তাহলে বলব, আমি খুব ভালো প্রতিরোধ করতে পারি। আমি সেমি ট্রেইনড মার্শাল আর্টিস্ট। কাজেই তাকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে ছাড়ব।

সিনেমার কোন নায়কের সঙ্গে লং ড্রাইভে যেতে চাও?

ডিপেন্ড করবে আসলে আমাকে ড্রাইভ করতে দেবে কি না! তারচেয়ে আমি নিজেকে নিয়ে যেতেই পছন্দ করব।

তোমার তো ভরতনাট্যমে স্বর্ণপদকও আছে। স্টেজে পারফর্ম করতে গিয়ে হঠাৎ নাচের স্টেপ ভুলে গিয়েছ, এমন হয়েছে কখনো?

এমনটা অনেকবারই হয়েছে। আমি যখন মার্কস অলরাউন্ডারের কম্পিটিশনে ছিলাম একটা পর্বে একক পারফরম্যান্স ছিল, তখনো স্টেপ ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওটা বিচারকরা কেউই বুঝতে পারেননি। ওই পারফরম্যান্সের পর বিচারকদের মধ্যে অপি করিম আপু বলেছিলেন, উনি আমার সঙ্গে কখনো না কখনো স্টেজে পারফর্ম করবেন। তার মানে আমি নাচের স্টেপ ভুলে গেলেও খুব সুন্দরভাবে সেটাকে সামলে নিতে পারি।

তুমি তো চট্টগ্রামের মেয়ে। আঞ্চলিক ভাষায় করোনাভাইরাসকে বিদায় হওয়ার কথা বলতে বললে—

‘করোনাভাইরাস তুই যা গোই।’

 

শিরিন আক্তার  শিলা

প্রথম মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের খেতাব তাঁর ঝুলিতে। ২০১৯ সালে এই প্রতিযোগিতা জিতে মন জয় করেছেন গোটা দেশের মানুষের। পড়ালেখায়ও পিছিয়ে নেই শিলা। পড়ালেখা চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে। 

 

সারাক্ষণ বাসায় থেকে বাইরের কোন জিনিসটি সবচেয়ে বেশি মিস করছ?

ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, আড্ডা দেওয়া, একটু চা খাওয়া—এই ছোট ছোট জিনিসই আসলে মিস করছি।

ফিজিকসের অঙ্কের সূত্রগুলো মুখস্থ করা বেশি কঠিন, নাকি তোমার মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০১৯ হওয়ার লড়াই?

ফিজিকসের সূত্রগুলো তো পড়লেই পারা যায়। কিন্তু মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০১৯-এর প্রতিযোগিতা জিততে প্রথমে জয় করতে হয়েছে অসংখ্য মানুষের মন। আমি মনে করি পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ এটা।

প্রতিযোগিতায় জেতার পর বন্ধুরা মজা করে নতুন কোন নাম দিয়েছে?

‘তালগাছের মাথায় হীরার মুকুট’ এটা সবচেয়ে মজার ছিল।

বাংলাদেশের কোন নায়কের সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করতে চাও?

চঞ্চল চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে জীবনে একবার হলেও নাটক বা সিনেমায় অভিনয় করার ইচ্ছা আছে, তা যেখানেই সুযোগ পাই।

ছোটবেলায় কোন দুষ্টুমির জন্য মায়ের কাছে সবচেয়ে বেশি বকা খেয়েছ?

গাছে গাছে চড়ে বেড়ানো আর আম চুরি করে খাওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি বকা খেয়েছি।

ঘুমের মধ্যে দেখা কোনো দুঃস্বপ্ন, যা আজও মনে পড়লে ভয় পাইয়ে দেয়?

ঘুমের মধ্যে দেখা তেমন কোনো দুঃস্বপ্ন নেই আমার। তবে একটা ভয় সব সময়ই কাজ করে। আমার বাবা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) কর্মরত, তিনি সীমান্ত পাহারা দেন। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে অনেক ঝামেলা হয়। এসব ঘটনার মধ্যে যেন আমার বাবার কিছু না হয়ে যায়!

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পাঠ্য বইয়ে পড়া কোন কবিকে তোমার ক্যাম্পাস ঘুরে দেখাতে চাইবে?

‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার জন্য কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যকে। আমি তাঁকে ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখাতে চাইতাম, আঠারো বছর বয়সী ছেলে-মেয়েরা তাদের সম্মান রক্ষার্থে কিভাবে লড়াই করছে এই সময়।

এমন কোনো প্রিয় সিনেমার ডায়ালগ মনে পড়ছে, যেখানে একটি শব্দ বদলে করোনাভাইরাস যোগ করে বলতে ইচ্ছা করছে?

বলিউডের থ্রি ইডিয়টস সিনেমার ডায়ালগ থেকে বলব ‘ইস করোনাভাইরাস কো দুনিয়া ছে ওঠা লো।’

 

মন্তব্য