kalerkantho

শনিবার । ২০ আষাঢ় ১৪২৭। ৪ জুলাই ২০২০। ১২ জিলকদ  ১৪৪১

করোনা

বাঁচতে হবে করোনাকে নিয়েই

একসময় ধারণা করা হয়েছিল করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়ে যাবে দ্রুতই কিন্তু তাতে গুড়েবালি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন গবেষকদের কথায় মনে হচ্ছে বহুদিন করোনার প্রভাব রয়ে যাবে। যেমন যক্ষ্মা, ক্যান্সার, এইডসের মতো বিভিন্ন ঘাতককে সঙ্গী করে বাঁচছি আমরা, সেভাবে বাঁচতে হবে করোনাকে নিয়েই। সুতরাং এইবেলা জেনে নেওয়া যাক এর সঙ্গে টিকে থাকার কিছু কৌশল

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাঁচতে হবে করোনাকে নিয়েই

♦          সাধারণ মানুষের দস্তানা বা গ্লাভস পরা জরুরি নয়। ঠিকভাবে না পারলে উল্টো এতে থাকছে বিপদের শঙ্কা। বরং সুযোগ পেলেই হাত ধুয়ে নেওয়া নিরাপদ।

♦          বাইরে অবশ্যই মাস্ক পরে বেরোবে। স্কুল-কলেজ, অফিসেও বাধ্যতামূলক। কাপড়ের তিন লেয়ারের মাস্ক সবচেয়ে ভালো। তবে গরমের কারণে সমস্যা হলে কিংবা দমবন্ধ ভাব এলে বড় আকারের দুই লেয়ারের হলেই চলবে। নাকের ওপর থেকে চিবুকের নিচ ও কান পর্যন্ত গালের পুরোটাই ঢাকতে হবে। ৬ ফুটের মধ্যে মাস্ক না পরা কেউ যেন না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখবে। বাড়ি ফিরে সাবান জলে ধুয়ে শুকিয়ে নেবে মাস্ক। বেশি মাস্ক থাকলে এবং ওগুলো আলাদা করে রাখার ব্যবস্থ করা গেলে, পর পর ৫ দিন আলাদা আলাদা মাস্ক পরে, ষষ্ঠ দিন আবার এক নম্বর মাস্ক দিয়ে শুরু করতে পারো। রোগ ঠেকানোর পাঁচ ভাগের এক ভাগ দায়িত্ব মাস্কের ওপর।

♦          মাস্ক পরছ এতেই কাজ হয়ে গেছে ভাবলে চলবে না। মানুষের সঙ্গে ৬ ফুটের বেশি দূরত্ব রাখতে পারলে সবচেয়ে ভালো। নিদেনপক্ষে ৩ ফুট।

♦          চোখে চশমা থাকলে এর জন্য আর কোনো সাবধানতা জরুরি নয়। না থাকলে রোদচশমা পরে বের হও। চোখ দিয়েও জীবাণু ঢুকতে পারে।

♦          চুল বড়? তাহলে ভালো করে বেঁধে স্কার্ফ বা ওড়নায় মাথা ঢেকে নেবে। বাসে খোলা চুল অন্যের নাকে-মুখে উড়ে লাগতে পারে। তাঁদের রোগ আছে কি না তা তো জানো না। তা ছাড়া বড় চুলে রোজ শ্যাম্পুও করা যায় না। বিপদ অযথা বাড়াবার দরকার কী!

♦          ধোয়া যায় এমন স্যান্ডেল বা জুতা পরো।

♦          গয়নাগাঁটি এড়িয়ে চলো, অন্তত এই কঠিন সময়টায়। কারণ ধাতুর ওপর পাঁচ দিন থেকে যেতে পারে জীবাণু। ঘড়ির বিলাসও বাদ দাও।

♦          নিজস্ব কাপ বা গ্লাস সঙ্গে রাখা চাই। সাবান-পানিতে ধুয়ে সেই কাপে চা বা কফি খাও। ক্যান্টিন থেকে যে পাত্রেই আসুক, চা-কফির তাপে সেখানে জীবাণু থাকবে না। ভয় নেই।

♦          বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে যাও। নয়তো খোসা ছাড়িয়ে খেতে হয় এমন ফল খাও। প্যাকেটের বিস্কুট বা বাদাম খেতে পারো। প্যাকেট খুলে পরিষ্কার করে ধোয়া পাত্রে ঢেলে তারপর হাত ধুয়ে খাবে।

♦          রাস্তায় কিছু খাওয়া এখন একেবারেই উচিত হবে না। বড় রেস্তোরাঁয় সব নিয়ম মেনে খাবার বানানো হলে দু-একবার খেতে পারো। তবে এই লোভটাও সংবরণ করতে পারলে ভালো। খাবার বাড়িতে এনে গরম করে খেলে অবশ্য অসুবিধা নেই।

♦          অবশ্যই জুতা বাইরে খুলে ঘরে ঢুকবে। পাঁচ জোড়া জুতা থাকলে একেক দিন একেকটা পরতে পারো। ষষ্ঠ দিনে আবার প্রথম জোড়া পরবে। কারণ পাঁচ দিন পর্যন্ত ভাইরাস লেগে থাকতে পারে জুতায়। তবে সাবান-জলে জুতা ধুয়ে ঘরে ঢোকাতে পারবে।

♦          নির্দিষ্ট কাবার্ড বা ঝোলায় ব্যাগ রেখে বাথরুমে গিয়ে জামাকাপড়, চশমা সাবান-জলে ধুয়ে, তুলায় স্যানিটাইজার ভিজিয়ে মোবাইল পরিষ্কার করে ভালো করে সাবান মেখে, শ্যাম্পু করে গোসল করবে।

♦          বাড়িতে কাজের লোক বা অন্য কেউ এলে ঘরে ঢোকার আগে হাত ও পা ভালো করে সাবান পানিতে ধুয়ে নিতে বলবে। ধোয়া মাস্ক পরতে হবে। গোসল করে জামাকাপড় বদলে নিতে পারলে আরো ভালো।

♦         বাহুল্যবর্জিত হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করো। ভাজা-মিষ্টি একটু কম খাবে। ফল খাবে বেশি। মাছ-মাংস-ডিম যাঁর যেমন সুবিধে।

♦          বাসে ওঠার সময় আগের মতো ধাক্কাধাক্কি করা চলবে না। বসতেও হবে নিয়ম মেনে।

♦          অতিরিক্ত পানি খাওয়া জরুরি নয়। শরীর যতটুকু চায় ততটুকু খেলেই হবে।

♦          ভেষজ উপাদান খেতেই হবে এমনটা নয়। আদা, ভিনিগার ইত্যাদি ভাইরাস মারতে পারে না। পুষ্টিকর খাবার খেলে, অল্প ব্যায়াম করলে ও পরিমিত ঘুমালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিই ঠিক থাকবে।

♦          শরীরে হালকা রোদ লাগানো খুবই দরকার। সকালের দিকে একটু মর্নিং ওয়াকে গেলে ব্যায়ামও হবে, রোদও লাগবে গায়ে। ভাইরাস বাতাসে ভেসে বেড়ায় না। অতএব ভয় নেই। একটু বেলার দিকেও বেরোলে চড়া রোদ ঠেকাতে ছাতা নিতে পারো। এটা মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখায়ও সহায়ক।

♦          অনেকের ধারণা, সনা বাথ নিলে ভাইরাস মরে। ভুল ধারণা। গরমের মধ্যে ওসব করার দরকার নেই।

♦          জিম বা বিউটি পার্লার আপাতত এড়িয়ে চলো।

♦          সবশেষে বলব, যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনযাপন করো। নিয়ম মেনে চলো। অতিরিক্ত কিছু করার দরকার নেই। কারণ কিসে ভাইরাস মরবে, তা কেউ জানে না। কাজেই তার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

(সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা)

মন্তব্য