kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

ছবি এঁকে, ছবি তুলে অসহায়দের পাশে

১৭ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



ছবি এঁকে, ছবি তুলে অসহায়দের পাশে

অনিক কর্মকার ও ইশরাত হুমায়রা রাত্রির আঁকা ছবি

করোনার কারণে মানবেতর জীবন যাপন করা মানুষদের সহযোগিতায় উদ্যোগ নিয়েছে অনেকেই। আজ ছবি আঁকা, তোলাসহ সৃজনশীল নানা কাজের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা কয়েকজন শিক্ষার্থীর গল্প বলেছেন মুনতাসির সিয়াম

বাবা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ দিয়াবাড়ি শাখার শিক্ষক। ছোটবেলা থেকে এখনো পর্যন্ত এই স্কুলেই পড়ছে সূত্রা চাকমা। শৈশব থেকেই ছবি আঁকায় মন তার। স্কুলে বিভিন্ন সময় ছবি এঁকে পেয়েছে অনেক পুরস্কারও। কিন্তু বাবা ছিলেন বোর্ডে স্ট্যান্ড করা শিক্ষার্থী। সব সময় চাইতেন পড়ালেখায় ভালো করে মেয়ে যেন অনেক বড় হয়। যে কারণে পড়ালেখার বাইরে বাকি সব কিছু থেকে মেয়েকে দূরে সরিয়েই রাখতেন। ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় স্কুলের একটি প্রতিযোগিতায় ছবি এঁকে পুরস্কার পেয়েছিল সূত্রা। সেই পুরস্কার হাতে নিয়ে বাবা এমনও বলেছিলেন, ‘আমি চাই তুমি ক্লাসে প্রথম হয়ে গর্বিত করো আমাকে। তোমার এসব ছবি আঁকার পুরস্কারে আমি কখনোই খুশি হই না।’

কী আর করা, বাবা যখন বাসায় থাকতেন না, তখন টুকটাক করে ইউটিউব থেকে আঁকার বিভিন্ন কৌশল শিখত সে। ক্লাস টেনে উঠে স্কুলের একটি বার্ষিক সাময়িকীতে সূত্রার আঁকা রবীন্দ্রনাথের একটি পোর্ট্রেট ছাপা হয়। এটা দেখে সূত্রার বাবাকে ডেকে বারবার মেয়ের প্রতিভার দিকে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। এক প্রকার অনিচ্ছা সত্ত্বেই মেয়েকে নিয়ে যান উত্তরায় শান্ত মরিয়ম একাডেমিতে। তারাও মুগ্ধ সূত্রার প্রতিভায়। বাবার মন এবার একটু গলতে শুরু করে। মেয়েকে ভর্তি করিয়ে দেন সেখানে। কিনে দেন কিছু আঁকার সরঞ্জামও। কিন্তু মাসখানেকের মধ্যেই সারা দেশ লকডাউন হয়ে যায়। ঘরে বসে টেলিভিশনে অসহায় মানুষের দুর্ভোগের খবরগুলো সূত্রার কোমল মনকেও কাঁদিয়ে তোলে।

এরই মধ্যে ফেসবুকে তার আঁকা ছবির কিছু ভক্ত তৈরি হয়েছে। সূত্রা ভাবে, তাদের পোর্ট্রেট এঁকে দেওয়ার বিনিময়ে খুশি হয়ে দেওয়া সম্মানী থেকেই ছোটখাটো ফান্ড হতে পারে। ভাবনা মতোই কাজ শুরু করে। সাড়া দিতেও দেরি করেনি মানুষ। এক সপ্তাহের ভেতরই জমা হয় প্রায় ত্রিশ হাজার টাকার ফান্ড, যা সে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছে। বাবা এখন ছবি আঁকার সময় রাত জেগে বসেও থাকেন সূত্রার পাশে। এখন তিনিই বলে ওঠেন, প্রাউড অব ইউ।

এবার চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ইসনাদ বিন ওমরের গল্প। গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে প্রায় আট বছর যাবৎ কাজ করছে ইসনাদ। বেশ ভালোই চলছিল। আচমকা করোনাভাইরাসের প্রকোপে সারা বিশ্বের মতো স্থবিরতা আসে ইসনাদের কাজেও। সময়টা কাটছিল ঘরে বসেই। এই সময় ফেসবুকের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের কষ্টে জীবন কাটানোর পোস্ট দেখে মর্মাহত হয়ে পড়ে। ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে পোর্ট্রেট এঁকে প্রাপ্ত সম্মানী দিয়ে অসহায়দের সাহায্য করার উদ্যোগের ব্যাপারে জানায় ইসনাদ।

যোগাযোগ করেন ‘বাঁচার লড়াই’ নামের একটি প্রবাসীভিত্তিক ক্যাম্পেইনের অর্গানাইজাররা। যাঁরা বাংলাদেশের অসহায় মানুষের জন্য বিশ্বব্যাপী অর্থ সংগ্রহ করছেন। ইসনাদও সেই ক্যাম্পেইনে যুক্ত হয়ে শুরু করে নিজের কাজ। এরই মধ্যে প্রায় ৯৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছে ডিজিটাল পোর্ট্রেট এঁকে। অর্গানাইজাররা তা পৌঁছে দিচ্ছেন অসহায় মানুষের দোরগোড়ায়।   

ছবি আঁকার পাশাপাশি আরো নানা সৃজনশীল কাজের মাধ্যমেও করোনা দুর্গতদের পাশে আছেন অনেকে। যেমন ধর্মরাজ তঞ্চংগ্যা। পড়ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে, মাস্টার্সে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ফটোগ্রাফির সঙ্গে সম্পর্ক তাঁর। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রকোপে যখন সারা দেশ লকডাউন, এই সময়ে প্রিয় ক্যামেরাটার সঙ্গে ঘরবন্দি আছেন ধর্মরাজ নিজেও। এমনই একদিন ফেসবুকে ঢুকে খোঁজ পান সূত্রা চাকমা নামের একটি মেয়ের। নিজের আঁকা ছবিগুলো ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করে দরিদ্র মানুষের সাহায্যের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে মেয়েটি। তা দেখে নিজেও আগ্রহী হয়ে ওঠেন অসহায় মানুষগুলোকে সাহায্য করার জন্য।

নিজের সেরা সাতটি ফটোগ্রাফি বিক্রির জন্য ফেসবুকে পোস্ট দেন ধর্মরাজ। অল্প সময়ের ব্যবধানে আমেরিকান একজন শিক্ষক রিক ডেভিসের সহায়তায় সব ছবিই দেশে ও বিদেশে বিক্রি হয়ে যায়। পরে ছবিগুলো গ্রাহকদের কাছে পাঠানো বাবদ ফ্রেম ও পার্সেলের জন্য কিছু টাকা রেখে বাকি টাকার মধ্যে থেকে সাড়ে দশ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন ‘বনফুলের জন্য জুম্ম তারুণ্যের ভালোবাসা’ নামের একটি ইভেন্টে। যাঁরা কাজ করছেন পার্বত্য অঞ্চলের অসহায় মানুষের জন্য। ব্যক্তিগতভাবেও সাহায্য করছেন ধর্মরাজ। এরই মধ্যে নতুন করে আরো ১০টি ছবি বিক্রির জন্য পোস্ট দিয়েছেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়েন তনুশ্রী ভট্টাচার্য।

দেড় বছর আগে ‘কঙ্কন’ নামে ফেসবুকে একটি বিজনেস পেজ শুরু করেন। যেখানে কাঠ, পুঁতির মতো সরঞ্জাম ব্যবহার করে গয়না বানিয়ে বিক্রি করেন। এই বৈশ্বিক মহামারিতে অসহায় মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ জাগে তাঁর মাঝেও। তাই পেজ থেকেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রডাক্টগুলোর দাম কমিয়ে পোস্ট দিতে শুরু করেন। যার লভ্যাংশের পুরো টাকাটাই অসহায়দের সাহায্যে বিতরণ করবেন বলে জানান। মানুষও বেশ চমৎকার সাড়া দিচ্ছে। মোটামুটি ১০-১২ দিনে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থই ফান্ডে জমা হয়েছে। আরো কিছু ফান্ড হলে একত্র করে পরবর্তী সময়ে অসহায়দের মাঝে সাহায্য পৌঁছে দেবেন তনুশ্রী।       

দীর্ঘদিন ধরেই ছোটখাটো পরিসরে অসহায় মানুষদের সহায়তার কাজ করে আসছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষপড়ুয়া সাঈদ বিন মহিউদ্দীন ও তাঁর বন্ধুরা।

করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগকালে একইভাবে অসহায় মানুষের জন্য ফান্ড কালেক্ট করছিলেন; কিন্তু চাচ্ছিলেন যেন কাজটা আরো বড় পরিসরে করে বেশিসংখ্যক মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। ভাবতে ভাবতে আইডিয়াও চলে আসে মাথায়। ডিবেট, ফটোগ্রাফি—এসব কাজের মাধ্যমেও তো একটা সময় আয় করা হতো। তাহলে এখন কেন নয়!

বন্ধুদের নিয়েই তাই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লাইভ সেশনের মাধ্যমে শুরু করে দেন ডিবেট, ফটোগ্রাফি, গ্রাফিক ডিজাইনসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। ধীরে ধীরে সাঈদের মতো এগিয়ে আসেন আরো অনেকে, যা ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রফাইল এবং ‘মানুষ থেকে মানুষের কাছে’ নামের পেজের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে নিয়মিতভাবে। এভাবেই প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকার মতো অর্থ জমা হয়েছে তাঁদের ফান্ডে। সেই সঙ্গে সাঈদের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন দেশ বরেণ্য অনেক শিল্পীরাও, যাঁরা লাইভে এসে পারফর্মের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে সহয়তা করছেন।

ছবি এঁকে অসহায়দের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে আরো অনেকেই। এদের একজন ইশরাত হুমায়রা রাত্রি। ছোটবেলায় অনেক শিশুর মতোই আঁকা-আঁকির ঝোঁক ছিল। তবে কখনো কোনো টিচারের কাছে শেখা হয়নি। পরিচিতজনরা বিভিন্ন জিনিস আঁকিয়েও নিত; এমনকি বন্ধুদের ব্যাবহারিক খাতার আঁকা-আঁকিগুলোও তাকেই করে দিতে হতো। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগে ভর্তি হয়। আচমকা করোনাভাইরাসের প্রকোপে আর সবার মতো ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়ি ফিরতে হয়। তবে লকডাউনের জন্য না খেয়ে থাকা মানুষগুলোর খবর দেখে মনটা খচখচ করছিল। এমন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের একটি উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হয়। যেখানে তার বিভাগের কয়েকজন বন্ধু মিলে ছবি আঁকার বিনিময়ে এলাকার অসহায় মানুষের জন্য ফান্ড কালেক্ট করছে। একই আইডিয়া কাজে লাগাতে যোগাযোগ করে টাঙ্গাইলের ত্রায়ক নামের সংগঠনের আতিক রহমানের সঙ্গে। ছবি আঁকতে পারে এমন পরিচিতদের নিয়ে একটি টিমও তৈরি করে। রাত্রি নিয়েছে ক্যারিকেচারের দায়িত্ব। সর্বমোট বারোটার মতো ক্যারিকেচার করেছে, যার বিনিময়ে সম্মানীর টাকাগুলো জমা হচ্ছে সংগঠনের তহবিলে। আর অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ত্রায়কের ছবি আঁকিয়েদের দলে আছে মেহেদী হাসান অনিকও। ছবি আঁকার শুরুটা ড্রইং শিক্ষক মায়ের হাত ধরেই। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালে এক বন্ধুর আঁকা দেখে পোর্ট্রেট আঁকা শেখার প্রতি আগ্রহ জন্মে। আঁকা শিখে সম্মানীর বিনিময়ে পোর্ট্রেট আঁকছিল। তাই বেশ খুশি ছিল হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্যবিদ্যা বিভাগে তৃতীয় বর্ষে পড়া মেহেদী। করোনাভাইরাসের জন্য হুট করেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ায় টাঙ্গাইলে নিজের বাড়িতে ফিরে আসতে হয়। দেশের দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের এই সময়ের কষ্টের কথা কে না জানে! তবে মেহেদী তো একজন শিক্ষার্থী। তেমন সামর্থ্য নেই। এমন সময় যোগাযোগ করে ইশরাত হুমায়রা রাত্রি। ব্যাস ত্রায়কের হয়ে পেনসিলে আঁকতে শুরু করে পোর্ট্রেট। আপাতত ক্লায়েন্টদের আঁকা পোর্ট্রেটগুলোর ছবি তুলেই পাঠাচ্ছে। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মূল কপিগুলোও পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী অনিক কর্মকার। ছবি আঁকার সঙ্গে তার সখ্যটা বর্ণমালা শেখার আগে থেকেই। ছোটবেলায় বড় দাদাকে রাত জেগে স্কুলের ড্রয়িং হোমওয়ার্ক করা দেখেই, আঁকা-আঁকির প্রতি ভালোবাসা। ছেলেকে খুশি করার জন্য ছবিগুলো দেখে নানা ভাষায় প্রশংসা করতেন মা। একপর্যায়ে ছেলেকে ভর্তি করিয়ে দেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে। কিছুদিন পর এক টিচারের বাসায় গিয়ে আঁকা শিখতে শুরু করে অনিক। ধীরে ধীরে সেখান থেকেই আয়ত্ত করে তৈলচিত্র, জলচিত্র, পোর্ট্রেটসহ আর্টের নানা ফর্ম। ২০১৭ সাল থেকে সম্মানীর বিনিময়ে ছবি আঁকা শুরু অনিকের। করোনাভাইরাসের কারণে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হলে বাসায় বসেই পরীক্ষার প্রিপারেশন নিচ্ছিল। তারপরই ত্রায়ক থেকে ছবি এঁকে দরিদ্র মানুষের জন্য ফান্ড কালেক্ট করার উদ্যোগের কথা জানানো হয় তাকে। ব্যাস, অর্ডার অনুযায়ী বিভিন্ন ক্লায়েন্টের পেনসিল স্কেচ করতে লেগে পড়ে অনিক। আর তার প্রাপ্ত সম্মানীগুলো জমা হতে শুরু করে ফান্ডে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার প্রথম বর্ষের ছাত্রী জান্নাতুন নাঈমা অনন্যা। তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। বাবার আঁকা-আঁকি দেখে ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক। বর্তমানে টাঙ্গাইলে নিজের বাড়িতে বসে অলস সময় পার করছিল অনন্যা। একদিন ইশরাত হুমায়রা রাত্রি যোগাযোগ করে তার সঙ্গে। বলে মানুষের স্কেচ, পোর্ট্রেট, ক্যারিকেচারসহ পেইন্টিং রিলেটেড বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে অসহায়দের জন্য অর্থ সংগ্রহ করবে তারা। একেবারে শর্ট নোটিশে ক্যাম্পাস থেকে চলে আসায় সঙ্গে আঁকা-আঁকির তেমন কিছুই নিয়ে আসা হয়নি। তাই সদ্য শিখতে শুরু করা ইলাস্ট্রেশনের কাজটিই বেছে নিল। এখনো পর্যন্ত ১৩টি ছবির কাজ শেষ করেছে। আর সেসব কাজের সম্মানীগুলো দিয়ে অসহায়দের সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছে সংগঠন। এদিকে  ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যবিদ্যায় দ্বিতীয় বর্ষে পড়া রেজাউল আলম রাফিদের ছবি আঁকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই। স্কুল, কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও, ছবি আঁকার প্রতি ভালোবাসাটা একই আছে। পরিচিতজনদের বিনা মূল্যেই পোর্ট্রেট এঁকে দেয়। করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগকালে একদিন টাঙ্গাইল থেকে ত্রায়ক সংগঠনের আতিক রহমান যোগাযোগ করেন। জানান, দুর্যোগের এই সময়ে অসহায় মানুষদের সাহায্য করতে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী ছবি এঁকে দেওয়ার মাধ্যমে ফান্ড কালেক্ট করবেন তাঁরা। এই উদ্যোগে যোগ দিতে দ্বিতীয়বার ভাবেনি রাফিদ। অ্যাডবি ইলাস্ট্রেটরের মাধ্যমে গ্রাহকের অর্ডারে মোট চারটি পোর্ট্রেট এঁকে দিয়েছে রাফিদ।

ত্রায়ক

টাঙ্গাইল জেলার একটি অলাভজনক সংগঠন ‘ত্রায়ক’। সাবেক সভাপতি শোভন কুমার ঘোষ, সাবেক সহসভাপতি আতিক রহমানসহ কমিটির সদস্যদের হাত ধরেই ২০০৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর এর পথচলা শুরু। বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটি পরিচালনা করছেন আতিক রহমান। প্রথমে লক্ষ্য ছিল—টাঙ্গাইল অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া। মধুপুরে একটি স্কুলও চালাতেন তাঁরা। পরবর্তী সময়ে যদিও সেটি বিভিন্ন কারণে বন্ধ করে দিতে হয়। এ ছাড়া ত্রায়ক বিভিন্ন জনসেবামূলক কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। রমজান মাসে শিশুদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প, শীতকালীন পোশাক ও কম্বল বিতরণ, ঈদে শিশুদের নতুন পোশাক ও খাবার বিতরণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। করোনা পরিস্থিতিতেও থেমে নেই ত্রায়ক ও তার সদস্যরা, জানালেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক জেরিন খান। এরই মধ্যে ২০০-এর বেশি পরিবারের মাঝে বিভিন্ন উপহার প্যাকেজ বিতরণ করেছেন তাঁরা। হাসপাতালের নার্সদের সুরক্ষার কথা ভেবে জোগাড় করে দিয়েছেন ১০০টি পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট। সপ্তাহে পাঁচ দিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন ডাক্তারের সমন্বয়ে ব্যবস্থা করেছেন ফোন কলের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদানের। ছবি আঁকার মাধ্যমে ফান্ড কালেক্টও করা হচ্ছে। বর্তমানে ত্রায়কের মোট সদস্য ৫৫। এভাবেই দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে নিয়মিত কাজ করে যাওয়ার ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর এর সদস্যরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা