kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

হরর জার্নাল

কেবিনে কে ছিল?

ঢাকার মিরপুরে ক্রোকারিজের ব্যবসা করেন মো. শরীফুল ইসলাম। এক রাতে ঢাকা থেকে চাঁদপুর আসার পথে তাঁর সঙ্গে ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। সেটিই শুনেছেন জুবায়ের আহম্মেদ

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেবিনে কে ছিল?

বছর পাঁচেক আগের কথা। তখন শীতকাল। বাড়িতে যেতে হবে, তাই সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে ফেলি। রাতের লঞ্চে চাঁদপুরে যাব। মিরপুর থেকে সদরঘাট যেতে বেশ জ্যাম পড়ল। কোনোমতে শেষ লঞ্চটি ধরি। কিন্তু তীব্র শীত এবং রাত ১২টার পরের লঞ্চ হওয়ায় যাত্রী তেমন ছিল না। একটি সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া নিতে চাই। কিন্তু আমাকে জানাল, সিঙ্গেল কেবিন খালি নেই। সব ডাবল কেবিন ফাঁকা। তবে আমি সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া দিলেই হবে। আমাকে ডাবল কেবিনই দেওয়া হচ্ছে। ব্যাগ নিয়ে কেবিনে এসে বিশ্রাম নিই। রাতের খাবার দেওয়ার জন্য বলি। একটু পর হঠাত্ দরজায় নক। খুলে দেখি ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। তিনি বললেন, ‘বাবা, এটা ৩০৬ নং কেবিন?’ ‘হ্যাঁ’, উত্তর দিতে বললেন, ‘তাহলে এটা আমারই।’ কেবিনে ঢুকে তিনি অন্য বেডে শুয়ে পড়লেন। আমি ভাবলাম হয়তো ডাবল কেবিনগুলোকেই সিঙ্গেল দুজনকে একসঙ্গে দিচ্ছে। তবে লোকটার চেহারাটা অনেকটা ক্ষতবিক্ষত, ফ্যাকাসে। লম্বা লম্বা অনেক দাগ। যা হোক, সে শুয়ে রইলেন। প্রায় ত্রিশ মিনিট পর কেবিনবয় এসে রাতের খাবার দিয়ে গেল। বৃদ্ধকে ডাক দিলাম, ‘চাচা, ভাত খাবেন।’ কোনো সাড়া নেই। ভাবলাম ঘুমিয়ে পড়েছেন হয়তো। খাওয়াদাওয়া শেষ করে আমিও শুয়ে পড়ি। তখন রাত ২টা ৩০ মিনিট। হঠাত্ করে বৃদ্ধ লোকটি চিত্কার দিয়ে উঠলেন, ‘আমাকে নিয়ে যেয়ো না।’ চোখ খুলতেই দেখি আরো ভয়ংকর ঘটনা। তার মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি একদিকে চোখ বড় করে তাকিয়ে রইলেন। আমার মনে হলো তিনি মরে গেছেন। আমি চিত্কার দিয়ে উঠি। লঞ্চে যাত্রী কম থাকায় কেউই শোনেনি বোধ হয়। তারপর কেবিন থেকে বের হয়ে লঞ্চের ম্যানেজারকে ঘটনাটা বলি। উনি চেক করে বলেন, কই না তো, আপনার কেবিনে অন্য কাউকে বেড দেওয়া হয়নি। তারপর ম্যানেজার, কেবিনবয়সহ কেবিনে গিয়ে দেখি লোকটি ওখানে নেই। এমনকি বেডে রক্তের কোনো দাগ নেই। তবে সেখানে একটি মানুষের দাঁত পড়ে ছিল। ওনারা বললেন, এটা অন্য যাত্রীর হয়ে থাকতে পারে। একটু পরেই চাঁদপুর লঞ্চঘাটে এসে পৌঁছাই। কিন্তু আমি খুব ভীত ছিলাম। ওই দিন লঞ্চঘাটে সিএনজিও খুব কম ছিল। আরো কয়েকজনের সঙ্গে একটি সিএনজিতে উঠি। তাঁরা সবাই বহরী গ্রামে যাবেন। পথেই আমি নেমে যাব। কিন্তু সিএনজিতে উঠে দেখি আমার পাশের সিটে সেই লঞ্চের বৃদ্ধ লোকটি। তাঁর হাতে অনেক মিষ্টির বাক্স। আমি থরথর করে কাঁপতে থাকি। তারপর আমার বাড়ির কাছে এলে তাড়াতাড়ি নেমে যাই। তখন বুঝতে পারলাম যে ওই বৃদ্ধলোকটি জিন ছিল। কারণ লোকমুখে শুনেছি, জিনেরা মানুষের রূপ ধরে মিষ্টির বাক্স নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসত এবং মিজি বাড়ির ব্রিজের কাছে এলে হাওয়ায় মিলিয়ে যেত। তাদের আর খুঁজে পাওয়া যেত না। একবার এক রিকশাওয়ালার সঙ্গে এ রকম ঘটনা ঘটেছিল। দুজন কোর্তাপরা লোক অনেক মিষ্টির বাক্স নিয়ে এসে মিজি বাড়ির ব্রিজের ওখানে নেমে যায়। রিকশাচালককে ভাড়া দেয়নি। পরে আর তাদের খুঁজে পায়নি রিকশাচালক। তখন সে চিত্কার করলে পাশের বাড়ির লোকজন আসে এবং ঘটনা খুলে বলে। কিন্তু পরে আবার সেই জিনেরাই মানুষরূপে এসে রিকশাচালকের সঙ্গে দেখা হলে তার ভাড়া মিটিয়ে দেয়। এ কারণে মনে হলো বৃদ্ধলোকটি তাদের দলের হবে হয়তো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা