kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা বিশ্ব

নাম নিয়ে বিপাকে

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাম নিয়ে বিপাকে

করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিপদে আছে দুনিয়ার প্রায় সব শহর-বন্দর-গ্রাম। তবে অস্ট্রিয়ার একটি গ্রাম পড়েছে অন্য রকম বিপদে। কারণ ওটার নামই ‘সেন্ট করোনা’। লিখেছেন নাবীল অনুসূয

আল্পস পর্বতমালার উত্তর অংশে অবস্থিত অস্ট্রিয়া। ফলে দেশটির বেশির ভাগই আল্পসের পাহাড়ি অঞ্চল। তারই এক পাহাড়ের পাদদেশের একটা গ্রাম। রাজধানী ভিয়েনা থেকে শ খানেক কিলোমিটার দক্ষিণে। বাসে করে শ চারেক মানুষ। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তারা পড়ে গেছে ভীষণ চিন্তায়। অন্যদের মতো সংক্রমণের ভয় তো আছেই। কিন্তু তাদের দুশ্চিন্তার আরেকটি বড় কারণ আছে। গ্রামটার নামই যে সেন্ট করোনা!

এই করোনা কোনো পুরুষ সাধু নন। একজন নারী। তাঁকে নিয়ে প্রচলিত আছে এক কিংবদন্তি। সঙ্গে জড়িয়ে আছে একজন পুরুষের নামও—ভিক্টর। তিনি ছিলেন রোমের একজন সৈন্য। খ্রিস্টধর্ম পালনের জন্য তাঁকে ভয়ানক নির্যাতন করা হয়। সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়ান করোনা। কেউ বলে তিনি আরেক সৈন্যের স্ত্রী ছিলেন। কারো মতে, তিনি ছিলেন ভিক্টরেরই স্ত্রী। সেই অপরাধে তাঁর ওপরও চালানো হয় নির্যাতন। পরে দুজনকেই হত্যা করা হয়। সেটা কবেকার ঘটনা তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। সম্ভবত তৃতীয় শতকের। স্থান নিয়েও আছে নানা মত। দামেস্ক, অ্যান্টিওক, আলেকজান্দ্রিয়া, সিসিলি—একেকজন বলেন একেকটা। এ দুজনের মধ্যে করোনা অস্ট্রিয়া ও জার্মানির ব্যাভারিয়া অঞ্চলে বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র। তাঁর নামে নামকরণ করা হলেও গ্রামটা পরিচিত মূলত ইকোট্যুরিজমের জন্য। সেটাই এখানকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে মাউন্টেইন বাইক ও গাড়ি চালানোর জন্য জায়গাটা খুবই ভালো। গ্রামটা সাজানোও সেভাবেই। আছে নিজস্ব মাস্কটও। খেলার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা একটা পিঁপড়া। তার নামও ‘করোনা’। নামের মিলের কারণে প্রথম প্রথম করোনাভাইরাসের নাম শুনে এখানকার সবাই হাসাহাসিই করেছিল। সে কথা স্বীকারও করেছেন এখানকার মেয়র মিখায়েল গ্রুবার। বলেন, ‘আসলে তখনো আমরা এর ভয়াবহতা বুঝতে পারিনি। পরে এটা নিয়ে মজা করা তো বটেই, গ্রামের সব কিছুই বন্ধ করে দিয়েছি আমরা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যেন কোনোভাবেই গ্রামে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে।’ দুশ্চিন্তা না করেই বা উপায় কী। এর মধ্যেই অস্ট্রিয়াতে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। মারা গেছে ১০০ জনেরও বেশি।

তবে আরো একটি দুশ্চিন্তা মাথায় ঘুরছে তাদের। করোনা মহামারির পরে কি আর কেউ সেন্ট করোনায় ঘুরতে আসবে? যেখানকার মাস্কটের নামও করোনা! তাই গ্রুবার ভাবছেন, বদলে ফেলবেন নামটাই। বলেন, ‘এবার বোধ হয় আমাদের নতুন নাম খুঁজতে হবে। গ্রামেরটা না হলেও মাস্কটের নামটা বদলাতেই হবে। এই মহামারির পরে তো আর করোনা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পারে না!’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা