kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা-বিশ্ব

২৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শহরে শহরে পশুদের অভিযান

এত দিন পশুদের জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে এসেছে মানুষ। এবার ঘটল উল্টোটা। বহু দেশেই মানুষ এখন কার্যত গৃহবন্দি। সে সুযোগে রাস্তার দখল নিয়েছে পশুরা। এমন দৃশ্য দেখা গেছে ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডে। ঘরে বন্দি মানুষ সেসব ভিডিও করে প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ইতালির বিভিন্ন শহরের জনশূন্য পথে দল বেঁধে ঘুরে বেড়াতে গেছে ভেড়া ও শূকরদের। এমনকি একটা একাকী ঘোড়াকেও ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে! ওদিকে জাপানের নারা শহরজুড়ে রাজত্ব করছে সেখানকার বিখ্যাত সিকা হরিণ। এমনিতে ওরা সেখানকার পার্কেই থাকে। পর্যটকরা এসে তাদের নানা খাবার খাওয়ায়। সেটাই এত দিন ছিল তাদের খাবারের প্রধান উৎস। করোনার প্রকোপে তাতে টান পড়াতে খাবারের খোঁজে পথে নেমেছে ওরা। পর্যটকের অভাবে খাবারে টান পড়েছে থাইল্যান্ডের লোপবুরির বানরদেরও। খাবারের খোঁজে তারাও নেমে এসেছে পথে।

একটির বেশি নয়

কভিড-১৯ থেকে বাঁচার জন্য জোর দেওয়া হচ্ছে হাত জীবাণুমুক্ত রাখার ওপর। সে জন্য দরকার সাবান আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে স্যানিটাইজারের চাহিদা বেড়ে গেছে বহুগুণ। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন, পরে হয়তো এটা আর বাজারে পাওয়া যাবে না। তাই বেশি বেশি করে কিনে জমিয়ে রাখছেন বাসায়। কারো কারো অতিরিক্ত কেনার কারণে অন্য অনেকে হয়তো কিনতেই পারছেন না। সেটা থামাতে অসাধারণ এক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ডেনমার্কের সুপারমার্কেট ‘রোটানডেন’। এমনিতে তারা স্যানিটাইজারের বোতল বিক্রি করছে একেকটি ৪০ ক্রোনারে (সাড়ে ৫ ইউরো)। কিন্তু দুটি কিনলেই দাম রাখছে এক হাজার ক্রোনার (১৩৪ ইউরো)!

স্পেনের রাস্তায় ডাইনোসর

স্পেনের মার্সিয়া শহরে দেখা মিলেছে ডাইনোসরের! স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘জুরাসিক পার্ক’ ছবির কল্যাণে টি-রেক্স বা টাইরানোসোরাস এক্স প্রজাতির ডাইনোসর বেশ জনপ্রিয়। মার্সিয়ার রাস্তায় তারই একটিকে হেঁটে বেড়াতে দেখা গেছে। এমন দুটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। একটি প্রকাশ করেছে খোদ শহরটির পুলিশ বিভাগ। তাদের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে। ওটা আসলে একজন মানুষই। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বের হয়েছিলেন টি-রেক্সের জামা পরে। সারা শরীর ঢাকা থাকে বলে সেটা আসলেই নিরাপদ। পুলিশ তাকে পাকড়াও করে ছেড়ে দিয়েছে কথা বলেই। সেই ভিডিও পোস্ট করে সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে সতর্কবার্তা। মজা করতে জুড়ে দিয়েছে জুরাসিক পার্ক ছবির আবহসংগীত।

ঘরে থেকেই ম্যারাথন

করোনার কারণে থাকতে হচ্ছে ঘরে বন্দি। সবাই সময় পার করছে শুয়ে-বসে। ছবি দেখে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোরাফেরা করে। অনেকে হয়তো টুকটাক শরীরচর্চা করছে। কিন্তু এ সময় ম্যারাথন দৌড়ানোর কথা কি ভাবা যায়! সেটাই করেছেন হাভিয়ের কাস্ত্রোভার্দে। তাঁর বাস স্পেনের গ্যালিসিয়া প্রদেশে। সেখানেও এখন ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। ঘরে বন্দি আছেন তিনিও। তাঁর বাসাও খুব একটা বড় নয়। তার মধ্যেই ঘুরেফিরে ম্যারাথন দৌড়াচ্ছেন টানা ১০ ঘণ্টা। সোজা পথে দৌড়ালে তাঁর পাড়ি দেওয়া দূরত্ব হতো ৬১ কিলোমিটার। পুড়িয়েছেন সাড়ে তিন হাজার ক্যালরি। হিসাবটা রেখেছে তাঁর স্মার্টফোনের একটি অ্যাপ। সেটির স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন ইনস্টাগ্রামে। অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন, কাজটা খুবই কঠিন ছিল। এমনকি ৫৪ কিলো পার করার পর একবার তো থামার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলেন। সবাইকে ঘরে ম্যারাথন দৌড়াতে উত্সাহ দিয়ে লিখেছেন, ‘আপনার ৬০ কিলো দৌড়ানোর দরকার নেই। বাসায় জায়গা থাকলে ৫-১০ কিলো দৌড়াতে পারেন। তাতে শরীরের জড়তা কাটবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা