kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

শরীর ও মন

এডিস মশা বসে নেই

কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে দেরি নেই। তাই প্রয়োজন সতর্কতা। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট ডা. আবীর হাসান

২৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এডিস মশা বসে নেই

ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

কেন হয়, কিভাবে ছড়ায় ডেঙ্গু?

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসবাহিত জ্বর। বছরের একটি বিশেষ সময়ে এই জ্বরের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে। আমাদের দেশে সাধারণত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত যখন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বছরের অন্য সময়ের চেয়ে বেশি থাকে, তখন ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস দেখা যায়। এগুলো হলো—উঊঘ-১, ২, ৩, ৪। এ ভাইরাসগুলো সাধারণত এডিস নামের মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষে ছড়ায়। এডিস মশার বৈজ্ঞানিক নাম অবফবং ধবমুঢ়ঃর. এডিস মশা চেনা খুব সহজ। এটি অন্যান্য মশার চেয়ে তুলনামূলক ছোট। সারা গায়ে সাদাকালো ডোরাকাটা দাগ থাকে। সাধারণত পরিষ্কার, টলটলে, স্থির পানিতেই ডিম পাড়ে। ঢাকনাবিহীন পানির ট্যাংক, বালতি, ড্রাম, প্লাস্টিকের কৌটা, অ্যাকুয়ারিয়াম, ফ্রিজ ও এসি থেকে নির্গত পানি, বাড়ির ছাদে জমা পানি, ডাব, নারকেল, তালের খোসা, টিনের কৌটা, পুরনো টায়ার, মিনারেল ওয়াটারের বোতল, ফুলের টব, আইসক্রিমের কাপ, কোমল পানীয়র ক্যানে জমে থাকা পানি, এমনকি বৃষ্টির পানিতে রাস্তাঘাটে যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, সেখানেও জন্ম নিতে পারে।

 

কয় ধরনের ডেঙ্গু জ্বর হয়?

দুই ধরনের ডেঙ্গু জ্বর দেখা যায় : ক্লাসিক্যাল এবং হেমোরেজিক। ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরে উচ্চমাত্রার জ্বরের সঙ্গে মাংসপেশি ব্যথা, শরীরের গিঁটে ব্যথা, চোখের পেছনে ও মাথায় ব্যথা, প্রচণ্ড শারীরিক অবসাদ, বমি আর শরীরের কিছু অংশে, বিশেষত চামড়ার নিচে রক্ত জমাট বাঁধা—এ লক্ষণগুলো দেখা যায়। কাজেই এই লক্ষণগুলো দেখলে বুঝবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছ। ক্লাসিক্যাল জ্বর সাধারণত পাঁচ-সাত দিন থাকে। তারপর ধীরে ধীরে রোগীর অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। অন্যদিকে হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বরে রোগীর অবস্থা খুব শোচনীয় হয়। এ ক্ষেত্রে নাক, কান, দাঁতের মাড়ি, খাদ্যনালি দিয়ে, মলমূত্রের সঙ্গে, এমনকি হাত বা পায়ের চামড়া ফেটেও রক্ত বের হতে পারে। শরীরের রক্তচাপ অনেক কমে যায়। তখন এ অবস্থাকে বলে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা কমে যাওয়ায়ই এই রক্তক্ষরণ হয়। বুঝতেই পরছ, ডেঙ্গু কতটা ভয়ংকর।

 

পরামর্শ

ডেঙ্গু জ্বরের কোনো ভ্যাক্সিন বা টিকা এখনো আবিষ্কার হয়নি। তবে এর টিকা আবিষ্কারের জন্য বেশ তোড়জোড় চলছে। ডেঙ্গু জ্বর হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ও ফলের রস পান করবে। বাইরে বের হওয়া বা ভারী কাজ থেকে বিরত থাকবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নেবে। ডেঙ্গু জ্বরে অ্যাসপিরিন, স্টেরয়েড বা অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। রোগী বেশি দুর্বল হয়ে পড়লে স্যালাইন দিতে হবে। প্লাটিলেট ১০ হাজারের নিচে না নামলে বাড়তি প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বরে প্লাটিলেট দিতে হয় আর ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে প্রয়োজন হয় রক্তরস। এক ব্যাগ প্লাটিলেটের জন্য পুরো চার ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট চিকিত্সা নেই বলে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের দিকেই আমাদের নজর দিতে হবে। এডিস মশাদের আবাসস্থলগুলো নষ্ট করা উচিত। তাই বাসা কিংবা বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে হবে। টবে পানি আটকে রাখা যাবে না। খেয়াল রাখতে হবে, পাঁচ দিনের বেশি সময় যেন পানি জমে না থাকে। এ মশা দিনের বেলায় কামড়ায়, তাই দিনে ঘুমালে, অন্তত বর্ষাকালে, মশারি টাঙিয়ে ঘুমাবে।

            অনুলিখন : জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা