kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা

ভালো থাকুক বাংলাদেশ

করোনা ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর প্রায় সব দেশে। বাংলাদেশের অনেক ছাত্র-ছাত্রী দেশে চলে এলেও বেশির ভাগ রয়ে গেছেন ভিনদেশে। বাংলাদেশকে নিয়েই এঁদের চিন্তাটা বেশি। এ রকম কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী বলেছেন সেসব দেশের করোনা পরিস্থিতি এবং দেশ নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তার কথা

২৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



দিনে তিনবার পুরো শহর পরিষ্কার করত

নাজমুল হোসেন তুহিন

হেনান, চীন

নারায়ণগঞ্জে জন্ম আমার। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে চীনে পৌঁছি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে। হেনান শহরে থাকি আমি। অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করছি হেনান বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুরুতে ঠিকঠাকই চলছিল সব কিছু। ওখানকার খাবার, সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছিল—এই যা। ভাইরাসটি ধরা পড়ার পর পরিবার থেকে চাপ দিচ্ছিল চলে আসার জন্য। তবে তখন মাথায় ঘুরছিল, যদি কোনোভাবে আমার কারণে দেশে কারো দেহে সংক্রমিত হয় তাহলে তো সমস্যা। পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করি—আমরা এখানে অনেক নিরাপদে আছি। নিজেকে নিরাপদ রাখাটা তখন অনেক কষ্টকর ছিল। চার-পাঁচ দিন পর পর বাসা থেকে বের হতাম বাজার করার জন্য। যখন বের হতাম তখন মাস্ক, হাত ও পা-মোজা, কানটুপি পরা থেকে শুরু করে নিজেকে যতভাবে নিরাপদ করা যায় সে চেষ্টা করতাম। বাইরে থেকে আসার পর এলকোহলের একটা মিশ্রণ শরীরে মারা হতো। এর ফলে ভাইরাস থাকলে তা মারা যেত। নিয়মিত শরীরের তাপমাত্রা মাপা হতো। শারীরিক অবস্থার রিপোর্ট দেওয়া লাগত প্রতিদিন শিক্ষকদের কাছে। চীনের বিশেষ করে উহানের পরিস্থিতি দিনদিন খারাপের দিকে যেতে থাকে, আস্তে আস্তে পুরো দেশ লকডাউন করা হলে আতঙ্ক বাড়তে থাকে। দেশে পরিবারের লোকজন কান্নাকাটি করতে থাকে। প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও কলে কথা বলতাম। চীনের সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিদিন আমাদের মোবাইলে একটা বার্তা আসত কী করা লাগবে তার দিকনির্দেশনা দিয়ে। আমরা তা পালন করতাম। সব জায়গায় মেডিক্যাল টিম ছিল, শুধু ওষুধ ও খাবারের দোকান খোলা ছিল। দিনে তিনবার পুরো শহর পরিষ্কার করত। সরকারের নানা ধরনের পদক্ষেপের কারণে আস্তে আস্তে পরিস্থিতি ভালোর দিকে যেতে থাকে। এখন আমরা অনেক ভালো আছি।

 

এখানে প্রায় সব বন্ধ

ইব্রাহিম সাব্বির

ওহাইও, যুক্তরাষ্ট্র

আমি টলেডো শহরে থাকি। ইউনিভার্সিটি অব টলেডোর পরিসংখ্যানে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী, ৯-১৩ মার্চ আমাদের স্প্রিং সেমিস্টার ব্রেক ছিল। এরপর আর বিশ্ববিদ্যালয় খোলেনি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যায় না। তিন দিন আগে একবার জরুরি প্রয়োজনে বের হয়েছিলাম। তার  ১১ দিন আগে  আরেকবার বের হয়েছিলাম। অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা চলছে। এর বাইরে একটু সময় পেলে নিউজ পড়ি। বাড়িতে ফোন দিয়ে কথা বলি। এখানে প্রায় সব বন্ধ। বাইরে বের হওয়াও নিয়ন্ত্রণে। আর বিদেশে থাকলেও এ পরিস্থিতিতে মনটা দেশেই পড়ে আছে। পরিবার নিয়ে অনেক চিন্তা হয়। মা, বাবা, ভাই-বোন—সবাইকেই অনেক মিস করি। সবুজ ঘাসের গ্রামটি যেন এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। পড়াশোনা করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানকার স্মৃতিগুলো মনে পড়ে। অবসরে সেই স্মৃতিগুলোই সঙ্গী। বাংলাদেশে আমাদের অধিকাংশের মধ্যেই সচেতনতা কম। আর চীনে করোনাভাইরাস দেখা দিয়েছে আরো প্রায় তিন মাস আগে। শুরুর দিকে আমাদের প্রস্তুতি বা পদক্ষেপ দেখে অতটা আশা খুঁজে পাইনি। তবে এখন ভালো পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। ডাক্তারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা, সামাজিক দূরত্ব,  কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের দেশের জন্য এই মহামারি ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। ভালো থাকুক বাংলাদেশ, ভালো থাকুক আমার মাতৃভূমি।    

 

শিক্ষকরা কল দিয়ে লেকচার বুঝিয়ে দেন

সিমন নাহার শিলা

লন্ডন, ইংল্যান্ড

স্থাপত্যে পড়াশোনা করছি ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডনে। এক সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। বাসার বাইরে বের হতে পারছি না। বাসায় বসে বসে স্থাপত্যের বিভিন্ন বিষয় ঘাঁটাঘাঁটি করেই সময় পার হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসগুলো অনলাইনে হচ্ছে। সপ্তাহে তিন দিন শিক্ষকরা কল দিয়ে লেকচার বুঝিয়ে দেন। তারপর কী কী করা লাগবে সেটাও বলে দেন। পরীক্ষাও অনলাইনে দিচ্ছি। এভাবেই সময় কেটে যাচ্ছে। টুকটাক বাসার কাজে পরিবারকে সাহায্য করছি। আমাদের এখানে শুধু সুপারমার্কেট, ফার্মেসি খোলা। বাকি সব কিছুই বন্ধ। বিদেশে থাকলেও দেশের জন্য অনেক চিন্তা হয়। আমাদের দেশ এমনিতেই ঘনবসতিপূর্ণ, তার ওপর জরুরি পদক্ষেপগুলো নিতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। অধিকাংশ লোকই নিম্ন আয়ের। করোনা বাংলাদেশে মহামারি আকার ধারণ করলে তাদের চিকিত্সাসেবা দেওয়াটাও কঠিন হয়ে পড়বে। বিদেশ থেকে যাঁরা দেশে যাচ্ছেন, তাঁদের বলব, একটু দেশের কথা চিন্তা করে যে যেখানে আছেন নিরাপদে থাকুন। এ ভাইরাসটি সংক্রমিত হলে কেউ জানবে না তার দেহে আছে। অথচ তিনি অন্যকে সংক্রমিত করে ফেলতে পারেন। এ জন্য সামাজিক দূরত্বটা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদে থাকুক প্রিয় বাংলাদেশ।

 

এখানে দুর্যোগ মোকাবেলা অনেকটাই সহজ

সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার

সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

আমি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্যের শিক্ষার্থী। এখানে আমাদের একটা সেমিস্টারে প্রায় তিন মাস সময় দেশে বা দেশের বাইরে যেকোনো স্থাপত্যপ্রতিষ্ঠানের অধীনে ব্যাবহারিক প্রশিক্ষণ বা ইন্টার্নশিপ করতে হয়। সেই সুবাদে দুই মাস অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থান করছি। এখানকার ‘আরবান আর্কিটেক্টস সিডনি’তে কাজ করছি। সিডনি বেশ পুরনো শহর, জনসংখ্যা কম নয়, বেশ কিছু জায়গায় খুব কাছাকাছি বহুতল ভবন এবং এক বা সর্বোচ্চ দুই লেনের সরু রাস্তা আছে। তবে এখানে সে রকম কোনো কোলাহল কিংবা যানজট নেই। সব কিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে। সাগরতীরবর্তী হওয়ায় প্রায় সারাক্ষণ বাতাস বইতে থাকে, শহরের অবস্থান খুব ওপরে, স্বাচ্ছন্দ্যে বুক ভরে শ্বাস নেওয়া যায়। এখানে মানুষ সচেতন, তা ছাড়া গণপরিবহন থেকে শুরু করে বর্জ্যব্যবস্থাপনা—সব কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় সাজানো। ফলে এখানে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা অনেকটাই সহজ হয়। একই চিত্র করোনাভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রেও; জনজীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার মতো কোনো ঘটনা এখানে ঘটেনি। তবে সাবধানতা অবলম্বন করে বেশির ভাগ অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মীরা বাসায় বসে ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাজ করছেন। জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিয়মিত হাত ধোয়া, সাধারণ সতর্কতা, একে অপরের কাছ থেকে দেড় মিটার দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়গুলো নিয়ে জোর প্রচারণা চলছে। সংকট এড়াতে বেশির ভাগ পণ্যের গায়ে দুইয়ের অধিক না কেনার জন্য স্টিকার সেঁটে দেওয়া হচ্ছে। আরো অনেকের মতো আমারও এখন সময় কাটছে ঘরে বসে। অফিসের কাজ, টিভি দেখা, ইউটিউব ও ফেসবুকে সময় পার হচ্ছে। মা-বাবার কথা মনে পড়ছে, এই দুর্যোগের সময় তাঁরা বাড়িতে একা। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নত দেশের মতো যথেষ্ট ব্যবস্থাপনা আমাদের দেশে না থাকা অস্বাভাবিক নয়। যেমন ডাক্তাররা সেবা দিচ্ছেন অথচ নিজেরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসামগ্রী পাচ্ছেন না, মানুষের মধ্যেও যথেষ্ট সচেতনতার অভাব আছে। এসব প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো আমাদের জন্য কঠিন। সংবাদমাধ্যমে সংকটের নানা খবর দেখে অজানা আশঙ্কায় বুক কাঁপে, বারবার প্রার্থনা করি—সৃষ্টিকর্তা যেন আমাদের রক্ষা করেন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো বন্ধ। দেশের ভেতরে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগও বন্ধ আছে। আশা করছি, পরিস্থিতি যেন খুব দ্রুত স্বাভাবিক হয়, যাতে ভালোভাবে দেশে ফিরতে পারি এবং সে পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তা যেন সবাইকে নিরাপদে রাখেন।

 

বিমানবন্দরে জ্বরটা পর্যন্ত

মেপে দেখেনি আমার

ওমর বিন কাশিম ভূইয়া

উশি, চীন

২০১৯-এ চীনে যাই। নানজিং ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে স্নাতক করছি। চীনে করোনার আক্রমণ হওয়ার সময় ছিলাম চীনের জিয়াংসু প্রদেশের উশি শহরে। জানুয়ারির ১২ তারিখে যখন সেমিস্টার ফাইনাল শেষে বাজার করতে গেলাম, তখনো আমরা বুঝতে পারছিলাম না কী ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রুমবন্দি হয়ে গেলাম। আমি যে শহরে থাকি, সেখানে বাইরে থেকে সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়ার আগেই। চীনা নববর্ষের কারণে এমনিতেই প্রায় সব কিছু বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যে কারণে লকডাউন করাটা অনেকটা সহজ ছিল। আর মানুষ সরকারের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে, ফলে আমাদের শহরে ভাইরাস সেভাবে ছড়াতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থার্মাল স্ক্যানার দেওয়া হলো, জ্বর মাপা হচ্ছিল নিয়মিত, প্রতিদিন জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো হচ্ছিল। বিনা মূল্যে মাস্ক দেওয়া হচ্ছিল। খাবার নিয়ে প্রথম দিকে একটু সমস্যা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আর সরকারের আন্তরিক পদক্ষেপে সেটারও সমাধান হয়ে যায়।

এরই মধ্যে ইউনিভার্সিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে আসার সিদ্ধান্ত নিই, তবে আমাদের দূতাবাসের দেওয়া হটলাইনে যোগাযোগ করে হতাশ হয়েছিলাম। তারা কোনো ধরনের সহযোগিতা করলেন না! বেশ কাঠখড় পুড়িয়ে বিমানে চড়তে হয়েছে, কারণ এমন কোনো শহর থেকে ফ্লাইট নেওয়া যাবে না, যেখানে ভাইরাস ছড়িয়ে গেছে; আবার আমার শহর থেকে সব এয়ারলাইনসের ফ্লাইটও নেই, অনেকে আবার চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া শুরু করেছিল। তার মধ্যে একটা ফ্লাইট বাতিল হলো আমার,  খুব দুশ্চিন্তা নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিমানে উঠতে পারি। বিমানে ওঠা অবধি কতবার যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। দেশে নেমেও হতাশ হতে হয়েছে আমাকে, বিমানবন্দরে জ্বরটা পর্যন্ত মেপে দেখা হয়নি। তখন আশঙ্কা করছিলাম, আমার দেশের জন্য বোধ হয় খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে। এখন শুনছি চীনে ইউনিভার্সিটি এবং আমার শহরের পরিস্থিতি বেশ স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। যারা আছে তারা রুম থেকে বের হতে পারছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। চীন এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে দারুণভাবে, যেসব শহরে ভাইরাস ঢোকেনি, সেগুলোও লকডাউন করে দিয়েছিল তারা। আর তাদের জনগণ নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে জরিমানা করেও প্রবাসীদের আটকানো যাচ্ছে না।

 

আমাদের সব কিছু ওলটপালট  হয়ে গেছে

মেহজাবিন আলম মাদিহা

প্যারিস, ফ্রান্স

আমি মা-বাবা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ফ্রান্সের প্যারিসের জনভিলে এলাকায় বসবাস করি। এখানে লিসে গ্যালিলে জনভিলে কলেজে পড়ছি। ইউরোপের দেশগুলো এই ভাইরাসের ব্যাপারে শুরুতে একেবারেই সতর্ক ছিল না। কিন্তু যখন ভাইরাসটি ইতালিতে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফ্রান্সের পাঁচটি শহরে ছড়াতে থাকে, তখন আমাদের সরকার আতঙ্কিত হয় এবং নানা ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। মার্চের ১৩ তারিখ থেকে সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। জনসাধারণকে হোম কোয়ারেন্টিন পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। করোনাভাইরাসে মৃতের হার আমাদের বেশ দুশ্চিন্তার মধ্যে রেখেছে।

বাসায় শুধু ঘুম, খাওয়াদাওয়া, গেম খেলা, টেলিভিশন দেখা এবং শিক্ষকদের অনলাইনে দেওয়া হোমওয়ার্ক করা। বাবা শুধু সপ্তাহে এক-দুবার বাজার করার জন্য বের হোন। আমাদের সব কিছু ওলটপালট  হয়ে গিয়েছে। মা ও বাবা বাংলাদেশের জন্য অনেক শঙ্কিত। আমিও অনেক চিন্তিত এই ভেবে যে এত উন্নত দেশগুলো এই করোনা মহামারি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে, বাংলাদেশে এই ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে কী অবস্থা হবে। আশা করব, বাংলাদেশের জনগণ সব ধরনের সতর্কতা এবং সরকারের সব নির্দেশনা পালন করে এই ভাইরাস ছড়ানোর সব রাস্তা বন্ধ করে দেবে। এই সংক্রমণের ওষুধ দ্রুতই তৈরি করতে সক্ষম হবেন বিজ্ঞানীরা—ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা