kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

হরর ক্লাব

পাশের সিটে কে?

ঢাকায় একটি বেসরকারি ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানির মার্কেটিং বিভাগে চাকরি করেন মো. আসাদুল ইসলাম। একবার ঢাকা থেকে নাটোরে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে এক ভূতুড়ে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁর মুখে সেই গল্প শুনেছেন জুবায়ের আহম্মেদ

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাশের সিটে কে?

দুই বছর আগের কথা। শীতকাল। বিকেলে অফিসে থাকার সময় ফোন এলো, জরুরি দরকারে রাতেই বাড়ি যেতে হবে। বাসায় আসতে আসতেই রাত ৮টা বেজে গেল। অনলাইনে বাসের টিকিটও পেলাম না। গাবতলী গিয়ে কোনোমতে একটা বাস পেয়ে যাই। বাস ছাড়ল রাত ১০টায়। আমার পাশের সিটে এক ভদ্রলোক বসেছেন। মাথায় বড় একটি টুপি (হ্যাট) পরা। চেহারা খুব একটা স্পষ্ট বুঝতে পারিনি।  কথাও তেমন হয়নি। সিরাজগঞ্জে  এসে একটা হোটেলের সামনে বাস থামল। সহযাত্রীটিকে বললাম, ‘চলেন, নাশতা করে আসি।’ ভদ্রলোক জানালেন, ‘আপনি খেয়ে আসুন, আমি খাব না।’ পরে নাশতা করে যখন বাসে এসে বসি, দেখি লোকটি সিটে নেই। একটু পর আরেকটি লোক এখানে এসে বসল। বললাম, ‘এটা তো আরেকজনের সিট, আপনি বসছেন কেন?’ লোকটি বলল, ‘না, আমিই তো ছিলাম। তার পোশাকটাও কেমন অদ্ভুত লাগছিল। সঙ্গে পাঁচ-ছয়টা দইয়ের হাঁড়িও নিয়ে এসেছে। বাস চলতে লাগল। আমিও ঘুমিয়ে যাই। রাত তখন ২টা। ঘুম ভাঙতেই দেখি পাশের সিটের লোকটি নেই। বাসের হেল্পারকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আমার পাশের সিটের লোকটি নেমে গেছে?’ উনি বলল, ‘না, আপনার পাশের সিটে লোক আসবে কোত্থেকে? ওই টিকিটটা অনলাইনে কাটা ছিল। কিন্তু তিনি আর আসেননি।’ আমি বললাম, ‘কী বলো? লোকটা সিরাজগঞ্জ থেকে অনেকগুলো দইয়ের হাঁড়ি কিনে বাসে উঠলেন।’ আমাদের কথা শুনে সামনের সিটের একজন বলল, ‘না, আপনার পাশের সিটটি গাবতলী থেকেই খালি এসেছে।’ এবার একটু ভয় পেয়ে গেলাম। রাত সাড়ে তিনটায় নয়াবাজারে নামলাম। সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরে আমাদের বাড়ি। এত রাতে বাজারে কোনো রিকশাও পাইনি। হাঁটতে শুরু করি।  বাড়ির পাশের ছোট শালগাছের বাগানের কাছে আসতেই হঠাৎ এক বৃদ্ধের কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম। ওমা! আমার সামনেই রাস্তার এক পাশে ওই বৃদ্ধ কান্না করছে। তার মাথায় সেই টুপিটি। আমার পাশের সিটের লোকটির মাথায় অমনই একটা হ্যাট ছিল। ভয়ে কাঁপতে থাকি। তার পরও কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, ‘আপনাদের কোন বাড়ি?’ বুড়ো কোনো কথা বলল না। কান্না থামিয়ে দই খেতে থাকল। কী অদ্ভুত! সেই হাঁড়ি, যা সিরাজগঞ্জ থেকে কিনেছিল আমার পাশে এসে বসা দ্বিতীয় ব্যক্তিটি। তার পাশে দেখলাম পাঁচটি হাঁড়ি খালি পড়ে আছে। আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালাম না। এক দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে উঠি। বাড়ির অন্যদের ঘটনাটি খুলে বলি। পরে চাচাতো ভাইয়েরাসহ এখানে এসে কাউকে পাইনি। সেদিনের এই অভিজ্ঞতা আজীবন মনে থাকবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা