kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বিচিত্র অভিজ্ঞতা

ভীতুর ডিম

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভীতুর ডিম

কারো উড়োজাহাজভীতি থকে, কারো থাকে সাগরভীতি, কারো আবার যেকোনো উঁচু জায়গায় উঠতেই ভয়। আমার আব্বুর এই সবগুলোতেই ভয়। এ কারণে তাকে নিয়ে মাঝেমধ্যেই বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। এমনই কয়েকটা গল্প বলছি।

সেবার আরো কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে ঘুরতে বেরোলাম পাহাড়ে। প্রথম গেলাম রাঙামাটি। সেখান থেকে খাগড়াছড়ি। তো, এই পর্যন্ত আব্বু কিভাবে যেন সামলে নিল। খাগড়াছড়ি থেকে অটোরিকশায় চেপে রওনা দিলাম রিছাং ঝরনা দেখতে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পথে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়ক ধরে যাওয়ার সময় নিচে তাকিয়েই আব্বুর হয়ে গেল। চেহারা ফ্যাকাসে। তারপর বলল, শ্বাস-কষ্ট হচ্ছে। আর সে কোনোভাবেই যাবে না। তো তাকে হোটেলে ফেরত পাঠিয়ে দিয়ে আমরা ঘুরে বেড়ালাম। পরের দিন আমাদের সাজেক যাওয়ার কথা। তবে সাজেক যাওয়ার পথ তো অনেক খাড়া। সেখানে যেতে গিয়ে পথে আব্বু বেঁকে বসলে তখন কী হবে? তো, আব্বু রয়ে গেল খাগড়াছড়ি, সঙ্গে আমার মা ও ছোট বোন। আমরা বাকিরা গেলাম সাজেক।

এবার দ্বিতীয় ঘটনা। ভারত ভ্রমণে বেরিয়েছি আমরা। বেশ বড় দল। কলকাতা গেলাম ট্রেনে। সেখান থেকে দিল্লি যাব উড়োজাহাজে। টিকিটও কাটা বহু আগেই। কিন্তু আব্বু কলকাতা গিয়ে বলল, সে আর দিল্লি যাবে না। কারণ প্লেনে চড়ার সাহস হচ্ছে না। অনেক বোঝানো হলো। কিন্তু কিছুতেই চিঁড়া ভিজল না। আবারও তাকে রেখেই আমরা সবাই গেলাম। আব্বু ট্রেনে কলকাতা থেকে ফিরে এলো ঢাকায়। এর আগে অবশ্য একবার আব্বু এভাবে অফিসের এক ট্যুরও মিস করেছিল। সম্ভবত নেপাল বা এ রকম কোনো একটা দেশে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যেদিন যাওয়ার ডেট সেদিনই আব্বু বেঁকে বসল। অবশ্য উড়োজাহাজভীতি অনেক বিখ্যাত লোকেরই আছে। এর একজন বিখ্যাত ডাচ ফুটবলার ড্যানিশ বার্গক্যাম্প। তিনি উড়োজাহাজে চড়তে এত ভয় পান যে পরের বিশ্বকাপ খেলতে (জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০০২ সালের বিশ্বকাপ) উড়োজাহাজে চড়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই বলে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর অবসরই নিয়ে নেন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে। অবশ্য ওই বিশ্বকাপে পরে ডাচরা সুযোগই পায়নি। এই উড়োজাহাজে চড়ার আতঙ্কের কারণে বার্গক্যাম্পের নামই হয়ে গিয়েছিল নন-ফ্লাইং ডাচম্যান।

আব্বু শেষ ঘটনাটার জন্ম দিলেন আমাদের সেন্ট মার্টিনস যাওয়ার সময়। কোনোভাবেই জাহাজে চেপে সাগর পাড়ি দেবেন না, যতই বলি বেশির ভাগ পথ নাফ নদী দিয়ে যেতে হয়, কোনো কাজ হয় না। শেষমেশ আমরা সেন্ট মার্টিনস গেলেও আব্বু কক্সবাজার পর্যন্ত ঘুরে ঢাকা ফিরলেন।

মাহির ইহসান সামিন, নবম শ্রেণি, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা