kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

টিন তারকা

অন্যদের জন্য উদাহরণ হব

টিভিসি ও পণ্যের বিজ্ঞাপন করে নাম করেছে। পাশাপাশি ব্যাডমিন্টন খেলায়ও পারদর্শী। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী আকিব সাদমানের সঙ্গে গল্প করে এসেছেন জুবায়ের আহম্মেদ

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অন্যদের জন্য উদাহরণ হব

ফেসবুক স্ক্রল করতে করতেই ম্যাগির একটি  বিজ্ঞাপন পোস্টার নজর কাড়ল। মডেলকে পরিচিত মনে হলো। আকিব সাদমান। আরে! ও তো ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে পড়ে। দলছুটের এবারের টিন তারকা নিয়ে আর দুশ্চিন্তা থাকল না। কল দিয়েই বললাম, কালকে তোমার সঙ্গে আড্ডা দিতে বাসায় আসব। যেই কথা সেই কাজ। পরদিন হাজির তার বাসায়। দরজা ঠেলে ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই একটা ট্রফির দিকে চোখ গেল। এগিয়ে গিয়ে তাতে লেখা পড়লাম, ‘চ্যাম্পিয়ন, ওয়ার্ড ব্রিজ ব্যাডমিন্টন ফেস্টিভাল-২০১৯’। আকিবকে বললাম, তুমি ভালো ব্যাডমিন্টন খেলো, সেটা তো বলোনি? মুচকি হেসে জানাল, ‘ধানমণ্ডিতে আরেকটি টুর্নামেন্টেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’

 

মডেলিংয়ের শুরু

প্রথম বিজ্ঞাপন ও টিভিসি করে ২০১৮ সালে। তখন ক্লাস নাইনে পড়ে। পোর্টফলিও করে বিভিন্ন এজেন্সিতে দিয়েছিল। প্রথম কাজ আসে ইউএসএআইডি থেকে। ব্ল্যাংক বক্স প্রডাকশন হাউসে তার প্রথম টিভিসি। তারপর মোজোর বিজ্ঞাপনে কাজ করে। একদিন অ্যাপেল বক্স প্রডাকশন হাউস থেকে কল দেয়। ফোন ধরতেই অপর পাশ থেকে বলল, ‘আকিব, তুমি কি এয়ারটেলের একটা বিজ্ঞাপন করতে চাও।’ ‘আমি তো অনেক খুশি। সায় দিয়ে দিলাম।’ আকিব বলল।  নাটকে অভিনয় করার অফারও পেয়েছে। কিন্তু সামনে এসএসসি পরীক্ষা, তাই রাজি হয়নি। তাকে বললাম, ‘টিভিসিতে  যে সংলাপ বলেছ বা অভিনয় করতে হচ্ছে, শিখেছ কোথায়?’ ‘প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোথাও শিখিনি।  তবে আমার মেন্টর একজন আছেন। সব সময় তাঁর কাছ থেকে শিখেছি, তিনি নির্জন ভাইয়া। তাঁর একটি ফটোগ্রাফির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভাইয়া বলেছেন, ‘তুমি নিজে নিজে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় করবে। তাহলে নিজের কাজ বা ভুলগুলো দেখতে পাবে।’ প্রথম শুটিংয়ে লাইটিংয়ের অ্যাফেক্ট বুঝতে পারিনি। ডিরেক্টর একটু জোরে বলেছিলেন, ‘সমস্যা কী? পারছ না কেন।’ তবে এরপর ঠিকঠাক হয়েছে।  এ পর্যন্ত আটটি টিভিসি এবং তিনটি পোস্টার বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছে আকিব। সম্প্রতি আইসিটি ডিভিশন, বাংলাদেশ-এর একটি টিভিসিতে কাজ করে সাড়া ফেলেছে বেশ।

মজার ঘটনা

একবার ম্যাগির শুটিংয়ে পরিচালক আমাকে হাসানোর চেষ্টা করছেন। পারফেক্ট এক্সপ্রেশন দরকার। আমাকে  বলেছেন, ‘কী, তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে? আমি দুষ্টুমি করে বলেছি, নেই। পরিচালক বললেন, ‘গার্লফ্রেন্ড তো বানাতেই হবে, না বানালে কেমনে হবে?’ কিন্তু তার পরও শুটে নুডলস খাওয়ার এক্সপ্রেশনটা ঠিকঠাক আসছিল না, তখন ডিরেক্টর বললেন, ‘দেখো, মেয়েটা অনেক সুন্দরীইইইই। যখন রীইইই বললেন, তখই আপনা-আপনি হাসা শুরু করলাম। আর মুখ হাঁ হয়ে যাওয়ায় সঠিক এক্সপ্রেশনও চলে এলো।

 

অনুপ্রেরণায় মা

আকিবের বড় ভাই-বোন দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। তাঁরা দুজনই আকিবের পড়াশোনা নিয়ে সিরিয়াস। তাই মাকে সব সময়ই বলতেন, ‘ওকে শুটিংয়ে যেতে দিয়ো না’। কিন্তু মা আকিবকে সব সময়ই সাপোর্ট করে গেছেন। বোনকে না জানিয়েও তাকে শুটিংয়ে যেতে দিয়েছেন। আকিবের মা বলেন, ‘আমি মনে করি জীবনে সফল হলেই হলো, তা যে সেক্টরেই হোক না কেন। পড়ালেখা ঠিক রেখে বাকি সব করো।’

 

স্কুলে চেনে এক নামে

‘স্কুলের বন্ধুদের কাছে আগে তেমন পাত্তাই পেতাম না। কেউ কেউ আবার একসঙ্গে হাঁটতে গেলেও বলত, আমাদের সঙ্গে কেন হাঁটছ। এখন ওরা নিজে থেকেই আমার সঙ্গে মেশে। আমাকে দেখলে বলে ওঠে, ‘আরে, আকিব তো মডেল।’ একজন আরেকজনকে বলে, দেখছস, ছেলেটা কত কাজ করে আবার পড়াশোনাও ঠিকঠাক। আমাদের স্কুলে সাধারণত চুল বড় রাখতে দেয় না। আর্মি-ছাঁট দিতে হয়। কিন্তু মডেলিং করার কারণেই কিছু কিছু ছাড় পেয়ে যাই। পরীক্ষার সময় একেক দিন একেকজন স্যার গার্ড পড়েন। প্রতিদিন একেকজন স্যার আসতেন আর বলতেন, ‘চুল বড় কেন?’ যখন বলতাম, স্যার মডেলিং করি, তখন বলতেন—আচ্ছা বসো বসো, চুল কাটতে হবে না।’ আকিবের মা শোনালেন এমনই আরেক ঘটনা, ‘ওর টেস্টের আগে চুল না কেটে অ্যাডমিট কার্ড আনতে গেলে ক্লাসটিচার প্রথমে দেননি। পরে অ্যাডমিট কার্ড দিয়েছেন এই মডেলিংয়ের কথা শুনেই। টেস্টে যখন ভালো রেজাল্ট করেছে, তখন স্যার ওর  চুল ধরে বলল, ‘বাবা গুড লাক। ভালো রেজাল্ট করেছ।’ সামনে ফেব্রুয়ারিতেই ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দেবে।

 

আরো কত গুণ

সময় পেলেই ব্যাডমিন্টন খেলে আকিব। উদয়ন ক্রিকেট একাডেমিতে পাঁচ বছর খেলেছে। আবাহনীতে অনূর্ধ্ব ১৭ দলেও খেলেছে। কিন্তু মডেলিংয়ের জন্য খেলাধুলায় এখন আর খুব একটা সময় দিতে পারে না। খুব সুন্দর করে উকুলেলে বাজাতে পারে ও। এত কিছুর মধ্যেও পড়াশোনা চলছে সমান তালে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে। অবসরে মুভি দেখে, ইউটিউবে মডেলদের ভিডিও দেখে।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভবিষ্যতে কী করার স্বপ্ন দেখো? আকিব বলল, ‘অনেকেরই অনেক স্বপ্ন থাকে। কিন্তু আমার ইচ্ছা আমি অন্যদের জন্য উদাহরণ হব। বড় হয়ে একটি এনজিও গড়তে চাই। মিডিয়ায় কাজ করার পাশাপাশি ব্যবসা করারও আগ্রহ আছে। তাই কমার্স বিভাগে পড়ছি। স্বপ্ন দেখি ভবিষ্যতে নাটক, চলচ্চিত্রে কাজ করব। আর যদি নিকট-পরিকল্পনার কথা বলি, তাহলে এসএসসির পর তিন মাস বন্ধের সময় থিয়েটারের কোর্স করতে চাই। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই।’

ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা