kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

শিক্ষক দিবস

জাপানি শিক্ষক

শেখ আবদুল হাকিম

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাপানি শিক্ষক

অঙ্কন : মাসুম

জাপানে অনেক পরিবার আছে, যাঁরা মনে করেন তাঁদের একটা শিশুকে যদি একজন দক্ষ এবং আদর্শ শিক্ষক ছাত্র হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি হন, সেটা তাঁদের জন্য বিরাট সম্মান আর সৌভাগ্যের ব্যাপার হবে। এসব মহান শিক্ষকের সম্পর্কে অনেক অবাক করা সব গল্প প্রচলিত আছে জাপানে, সেসব গল্পে বলা হয়েছে, কিভাবে তাঁরা নিজেদের আশ্রয়ে থাকা ছাত্রদের শিক্ষা দিতেন। এখানে সে রকম দুটি গল্প বলা হলো।

শিক্ষক সোয়েন সাকু সম্পর্কে বলা হতো, তিনি জীবনে কখনো একটি মুহূর্তও অপব্যয় হতে দেননি। যদিও তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে অত্যন্ত কড়া ছিলেন, বিশেষ করে নিজের ব্যাপারে, তার পরও তিনি তাঁর ছোট ছাত্রদের গ্রীষ্মের দুপুরে দিবানিদ্রার অনুমতি দিতেন। তার কারণ হলো এই :

শিক্ষক সোয়েন সাকুর বয়স তখন ১২। ওই বয়সেই গভীরতম প্রশ্ন, জীবনে কী করা উচিত তা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছিলেন। ভিক্ষুদের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলতেন সোয়েন, মনে হতো তিনিও যেন তাঁদের মতো একজন ভিক্ষু। তাঁর ছিল সব বিষয়ে সবকিছু জানার তীব্র আকুতি। কেন কি হয়, কিভাবে মানুষ বাঁচে, জীবন সুন্দর করার উপায় কী ইত্যাদি প্রশ্ন নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তা করতেন বালক সোয়েন। গ্রীষ্মের এক দুপুরে, তাঁর শিক্ষক যখন ক্লাসে নেই, ভ্যাপসা গরমের কারণে সোয়েনের চোখে প্রচণ্ড ঘুম চলে এলো, কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্লাসরুমের দোরগোড়ার কাছে ঘুমিয়ে পড়লেন তিনি।

দেখতে দেখতে এক-দুই করে তিন ঘণ্টা কেটে গেল। ঘুম ভাঙার কোনো লক্ষণ নেই, তখনো তিনি অঘোরে ঘুমাচ্ছেন। তারপর হঠাৎ শিশু সোয়েনের ঘুম ভাঙল। সর্বনাশ, তাঁর শিক্ষক ফিরে এসেছেন!

কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে, ওখান থেকে সরে যাওয়ার সময় পাওয়া গেল না। ক্লাসরুমের দোরগোড়ায় তিনি শুয়ে আছেন, ওদিকে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকছেন শিক্ষক মহোদয়।

‘আমাকে ক্ষমা করো, বাবা,’ সোয়েনের শিক্ষক বললেন, যখন তিনি তাঁর ছাত্রের ছোট্ট শরীরটাকে টপকাচ্ছেন।

 সেই থেকে সোয়েন জীবনে কখনো দুপুরবেলা ঘুমাননি।

 

* * *

শিক্ষক সেনগাইয়ের একজন ছাত্র ছিল, সে রাতের বেলা মন্দিরে থাকতে চাইত না এবং বাকি সব ছাত্রের মতো মন্দিরের নিয়ম-কানুন আর শৃঙ্খলা মেনে চলতে তার ভালো লাগত না। প্রায় রাতেই ছাত্ররা যখন অঘোরে ঘুমাচ্ছে, চুপি চুপি বিছানা থেকে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসত সে, কেউ কোথাও আছে কি না ভালো করে দেখে নিয়ে পাঁচিলের দিকে এগোত, তারপর সেটা টপকে বেরিয়ে যেত মন্দির থেকে। গন্তব্য ছিল কাছাকাছি শহর, সেখানে গিয়ে ছেলেমানুষী মজা করে সময় কাটাত ছেলেটি। তারপর ঠিক ভোর হওয়ার আগে আবার ফিরে আসত মন্দিরে।

এক রাতে শিক্ষক সেনগাই তাঁর ঘুমন্ত ছাত্রদের দেখতে এলেন, এসে দেখলেন একজন ছাত্র নেই সেখানে। প্রথমে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন তিনি, ভাবলেন সে হয়তো ওয়াশরুমে গেছে, এখনই ফিরে আসবে। একসময় তাঁর ভুল ভাঙল, অনেক দেরি হচ্ছে দেখে ওয়াশরুম পরীক্ষা করে দেখলেন সেটা খালি। এরপর তিনি কামরা থেকে উঠানে বেরিয়ে এলেন, বেরিয়ে দেখলেন খুব লম্বা একটি টুল দেয়ালের কাছাকাছি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রায় নিশ্চিতভাবেই ধরে নেওয়া যায় যে ছেলেটি মন্দির থেকে পালানোর জন্য ওই টুল ব্যবহার করেছে এবং আবার যখন ফিরবে, তখন ওই টুলে পা রেখেই পাঁচিল থেকে মেঝেতে নামতে হবে তাকে।

শিক্ষক সেনগাই টুলটা টেনে আরেক দিকে সরিয়ে দিলেন। ওটার জায়গায় এবার তিনি নিজে দাঁড়ালেন। অপেক্ষা করছেন; ছাত্র ফিরলে তাঁর কাঁধে পা রেখেই নিচে নামবে।

     —আদ্যিকালের বৌদ্ধ কাহিনি

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা