kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিজ্ঞান

ভয়ানক ১০ গ্রহ

গ্রহ মানেই চুপচাপ শান্ত নক্ষত্রকে ঘিরে ঘুরতে থাকা গোলগাল বস্তু নয়। মাঝেমধ্যে এমন গ্রহও দেখতে পান বিজ্ঞানীরা, যেগুলো সাক্ষাত্ নরক! এমন ১০ ভয়ানক গ্রহের কথা জানাচ্ছেন আবদুল্লাহ আল ফারুক

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 

 

সবচেয়ে গরম

এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্রহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তপ্তটি হলো কেল্ট-৯বি। দিনের বেলায় এ গ্রহের তাপমাত্রা চার হাজার ৩০০ ডিগ্রির আশপাশে থাকে। গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে বেশির ভাগই তাই হাইড্রোজেন। মজার ব্যাপার হলো, প্রচণ্ড তাপের কারণে বায়ুমণ্ডলটাই বাষ্পীভূত হয়ে ফিরে যাচ্ছে এর নক্ষত্রের দিকে। গ্রহটি আমাদের বৃহস্পতির চেয়ে তিন গুণ ভারী। জ্যোতির্বিদদের ধারণা, আর ২০০ বছরের মধ্যেই গ্রহটির পুরো বায়ুমণ্ডল ভ্যানিশ হয়ে যাবে। তবে গ্রহটি তার নক্ষত্রে আছড়ে পড়বে—এমনটা তাঁরা বলছেন না।

শুক্রেও বিপদ

আমাদের সৌরজগতেই আছে ভয়ানক এক গ্রহ। শুকতারা শুনতে যতই সুখকর শোনাক, এ গ্রহে কোনোভাবেই মনুষ্যবাহী যান অবতরণ করতে পারবে না। জীবনের বিকাশও অসম্ভব। বায়ুমণ্ডলটা ভর্তি বিষাক্ত সালফার ডাই-অক্সাইডে। আবার একগাদা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতের কারণে শুক্রের বায়ুমণ্ডলটাও আগাগোড়া গ্রিনহাউসের মতো হয়ে গেছে। তাপ বের হতে পারে না বলে গ্রহটিতে সব সময়ই ৪৬০ ডিগ্রির মতো তাপ থাকে। শুক্রে কিন্তু বৃষ্টি আর তুষারপাতও হয়! তবে এ বৃষ্টিতে থাকে সালফিউরিক এসিড আর তুষারের মতো দেখতে সাদা বস্তুটা হলো বিসমিউথিনাইট নামের একটি ধাতু।

ভয়ানক নীল

দেখতে একেবারে পৃথিবীর মতো। নীল একটা মার্বেলের মতো। আবিষ্কার হয়েছে ২০০৫ সালে। গ্রহটির নাম এইচডি ১৮৯৭৭৩৩বি। আমাদের কাছ থেকে ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে। প্রথমে ভাবা হয়েছিল, এ গ্রহে বুঝি আমাদের মতো বিশাল সব মহাসাগর আছে। পরে দেখা গেল, পানি নয়, নীল আলোর উত্স এ গ্রহের সিলিকেটের মেঘ। আর সেই মেঘ ও বাতাস বয়ে বেড়াচ্ছে ঘণ্টায় আট হাজার ৭০০ কিলোমিটার বেগে। শব্দের গতির চেয়েও যা সাত গুণ বেশি! যেখানে আমাদের একটা বড়সড় ঝড়ের গতি হয় বড়জোর ২৫০ কি ৩০০ কিলোমিটার। এ গ্রহে আবার বৃষ্টিও হয়। তবে সেটা পানি নয়, টুপটাপ করে অনবরত ঝরে পড়েছে গলিত কাচ!

পাথরবৃষ্টি

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি স্যাটেলাইটে ধরা পড়ে ৪৮০ আলোকবর্ষ দূরের গ্রহটি। কনভেকশন, রোটেশন অ্যান্ড প্ল্যানেটরি ট্রানজিট (কোরোট) নামের স্যাটেলাইটে গ্রহটি ধরা পড়ে বলেই এর নাম কোরোট ৭-বি। এর আবহাওয়াটা অদ্ভুত। খনিজ উপাদানে ভর্তি এর বায়ুমণ্ডল। আর তাই এ গ্রহের আকাশ থেকে সারাক্ষণই উত্তপ্ত পাথর ঝরে। কোরোটের আকাশে যে সূর্যটা আছে, সেটা আমাদের সূর্যের চেয়ে ৩৬০ গুণ বড় দেখায়। এবার বুঝে নাও সেখানে কেমন গনগনে তাপ (প্রায় ২০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।

কালো গ্রহ

নাম তার ট্রেস-২বি। কুচকুচে কালো যাকে বলে, সম্ভবত তার চেয়েও কালো এ গ্রহ। বিজ্ঞানীদের মতে, এ গ্রহের পাশে এক টুকরো কয়লাকেও জ্বলজ্বলে মনে হবে। এতটা কালো হওয়ার কারণ হলো এ গ্রহের বায়ুমণ্ডল। বাষ্পীভূত পটাসিয়াম, সোডিয়াম ও টাইটানিয়াম অক্সাইডে তৈরি ওই বায়ুমণ্ডলটি গ্রহের ওপর পড়া ৯৯ শতাংশ আলোই শুষে নেয়। তবে কালো বলে এটাকে ঠাণ্ডা ভাবারও কারণ নেই। এর তাপমাত্রা প্রায় ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই গ্রহটির একপাশ জ্বলন্ত কয়লার মতো লাল আভা ছড়ায়।

সবচেয়ে শীতল

মহাবিশ্বের সবচেয়ে কম তাপটা হলো মাইনাস ২৭৩ দশমিক ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অ্যান্টার্কটিকার গভীরে এমন এক জায়গা পাওয়া গিয়েছিল, যেখানে সূর্যের আলো কখনোই পৌঁছে না। সেখানকার তাপমাত্রা হলো মাইনাস ৯৭.৮ ডিগ্রি। সেখানে কেউ একবার শ্বাস নিলেই ফুসফুস নষ্ট হয়ে যাবে। আর ওজিএলই-২০০৫ নামের গ্রহটার তাপমাত্রা হলো মাইনাস ২২০ ডিগ্রি। আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ের ঠিক মাঝ বরাবর আছে গ্রহটি। দেখতে পৃথিবীর মতো হলেও এতে কোনোভাবেই কোনো প্রাণের বিকাশ সম্ভব নয়।

 

তেজস্ক্রিয়

আমাদের সবচেয়ে কাছের তারা প্রক্সিমা সেন্টাউরি। একে ঘিরে চক্কর খাচ্ছে প্রক্সিমা বি নামের একটি গ্রহ। আবিষ্কারের পরপর ধারণা করা হয়েছিল, এতে বুঝি প্রাণীর দেখা মিলবে। আশার গুড়ে বালি পড়ল ২০১৭ সালের ২৪ মার্চ। প্রক্সিমা সেন্টাউরি থেকে একটা অতিকায় সোলার ফ্লেয়ার গিয়ে পড়ল গ্রহটিতে। ১০ সেকেন্ডের মধ্যে গ্রহটির ঔজ্জ্বল্য বেড়ে গেল হাজার গুণ! পরে জানা গেল, পৃথিবীর দিকে সূর্যের যে তেজস্ক্রিয়তা আসে, তার চেয়ে প্রায় চার হাজার গুণ বেশি ছিল ওই বিকিরণ। কোনো ধরনের প্রাণই টিকে থাকার কথা নয় এ বিকিরণের পর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা