kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দলছুট আড্ডা

ঈশা খাঁর বাড়িতে আড্ডা

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈশা খাঁর বাড়িতে আড্ডা

ঈশা খাঁর বাড়িতে আড্ডায় এসেছিল (বাঁ থেকে) সীমা, হ্যাপি, শোভা, কামরুন নাহার, তামান্না, জাবির, নোমান ও জিসান। তাদের সঙ্গে ছিলেন শিক্ষক শাহনাজ পারভীন (ছবিতে নেই)

স্কুলের সীমানা পেরিয়ে সোজা চলে এলো মসনদ-ই-আলা বীর ঈশা খাঁর বাড়িতে। সবাইকে নিয়ে পরিত্যক্ত রাজপ্রাসাদের সিঁড়িতে বসতে বসতে বললাম, আসার পথে কে কী দুষ্টুমি করলে?

সীমা : দুষ্টুমি না; হাসছিলাম।

শোভা : খুশির হাসি। এ হাসির মজাই আলাদা।

নোমান : ২৫ বছর পর আমাদের জঙ্গলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল। সত্যিই গর্বে বুকটা ভরে গেছে।

চওড়া হাসি দিয়ে হ্যাপি জানাল, এভাবে আয়োজন করে এটাই আমার প্রথম আড্ডা। বেশ মজা লাগছে।

জাবির : আমারও। টিফিন পিরিয়ড ছাড়া ক্লাসরুম থেকেই তেমন বের হই না। আজ অন্য রকম লাগছে।

ভিন্ন পথের পথিক তামান্না। বলল, ‘স্কুল ফাঁকি দেওয়ার কত গল্প যে আছে তা বলে শেষ করা যাবে না। এ কারণে স্যারের হাতের মারও খেয়েছি অনেকবার।

কামরুন্নাহার : স্কুল ফাঁকি দিতে আমার আবার ভালো লাগে না।

আরো কিছু বলতে গিয়েও আটকে গেল সে। চেয়ে দেখে, তাদের প্রিয় শাহনাজ পারভীন ম্যাডাম এসেছেন। সবাই গেল চুপসে। ম্যাডাম বললেন, আরে সমস্যা নেই, তোমরা আড্ডা দাও। আমি এমনিতেই বেড়াতে এসেছি। বলেই ম্যাডাম দ্রুতপায়ে ঢুকে গেলেন ঈশা খাঁর বাড়ির ভেতর।

তামান্না : আমরা কী নিয়ে যেন আড্ডা দিতে এসেছি?

জাবির : কোনো বিষয় নেই। যার মাথায় যা আসবে সে সেটাই বলবে।

হ্যাপি : ঠিক! বিষয় ঠিক করে আবার আড্ডা হয় নাকি!

জিসান : কোথায় বসে আড্ডা দিচ্ছি সবাই জানো তো?

নোমান : মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর রাজপ্রাসাদে বসে!

সবাই প্রাসাদটির দিকে তাকাল। যেন নতুন কিছু দেখছে। অথচ স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে কতবারই না দেখে। প্রথম প্রথম খুব অবাক হতো। ইতিহাস জানার পর অবাক হওয়ার মাত্রা বেড়েছে। কিছুদিন ধরে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের লোকজন এর মাপজোখ করছেন। এখানে নাকি বিরাট জাদুঘর হবে।

শোভা : ঈশা খাঁ ছাড়া এলাকাটি আরেকটি কারণে বিখ্যাত।

একসঙ্গে কয়েকজন : কী কী?

শোভা : মসলিন কাপড়। আব্বুর মুখে শুনেছি, এখানকার উত্পাদিত মসলিন কাপড় পুরো ভারতবর্ষে নামকরা ছিল।

এর মধ্যে গেল প্রসঙ্গ বদলে।

তামান্না : ঘুরতে আমার বেশ লাগে! সুযোগ পেলেই আত্মীয়দের বাড়ি ঢু মারি।

 

ঈশা খাঁর বাড়ির একাংশ

জিসান : ঘোরাঘুরির চেয়ে আমার খেলাধুলা বেশি ভালো লাগে।

নোমান : বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে গ্রামের প্রাকৃতিক মেঠোপথে হাঁটার অনুভূতিই আলাদা। শহরের বন্ধুরা এটা মিস করছে।

জাবির : এইতো কিছুদিন আগে বালিখোলা ঘুরতে গিয়েছিলাম। হাওরের সৌন্দর্যই আলাদা। অনেক ভালো লেগেছে।

সীমা : আমিও পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে পানিতেই কাটিয়েছিলাম একটি দিন।

কামরুন নাহার : পড়াশোনার জন্য ঘোরাঘুরি করতে পারি না। কিছুদিন আগে হঠাত্ নিকলী ঘুরে এসে কী যে ঠাণ্ডা লেগেছিল! অনেক দিন ভুগিয়েছে।

হ্যাপি : প্রাচীনকালের যেকোনো কিছু আমাকে মুগ্ধ করে। ঈশা খাঁর এ বাড়ি, জাতীয় জাদুঘর ও চন্দ্রাবতীর বাড়ির মতো জায়গাগুলোতে সুযোগ পেলেই ঘুরতে যাই।

শোভা : আমি কিছু জায়গা ঠিক করে রেখেছি। পরীক্ষা শেষে ঘুরতে যাব।

রোদের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বসে থাকতে সবারই কষ্ট হচ্ছিল। সেই সময় শাহনাজ পারভীন আবার এসে উপস্থিত। এবার হাতে চকোলেট। সবার হাতে গুঁজে দিতে দিতে বললেন, ‘চলো পুরো জায়গাটা ঘুরে দেখি।’

সবাই উঠে দাঁড়াল। ম্যাডাম আগে আগে যাচ্ছেন। পেছনে বাকিরা।

ঈশা খাঁর জীর্ণশীর্ণ বাড়ি দেখে জিসান বলল, ‘৪২০ বছরের পুরনো! আমি পারলে গোটা এলাকাটাকে আধুনিক করে ফেলতাম। পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতাম।’

তামান্না : আধুনিকায়ন করলে পর্যটক কমবে। বরং এখন যেমন আছে, সেভাবেই সংরক্ষণ করা উচিত।

নোমান : এই চিন্তা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের। নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী কী করা যায় সেটাই ভাবো।

কামরুন নাহার : আমার কাছে ভালো কাজ বলতে আপাতত পড়ালেখাটাই ঠিকমতো করা।

হ্যাপি : আমার চিন্তা আলাদা। মা-বাবাকে খুশি রাখতে চাই। এটাই ভালো কাজ।

জাবির : প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছু করতে চাই। তাদের দেখলে আমার কষ্ট হয়।

সীমা : আমি আজকে থেকেই টিফিন খরচ বাঁচিয়ে টাকা জমাতে শুরু করব। সামনে আসছে শীত। অসহায়দের শীতের নতুন কাপড় দিতে চাই।

আড্ডার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে সবার পা। চলতে চলতে দেখল কারুকার্যময় তিন গম্বুজ মসজিদ। পাশে লম্বা লম্বা কয়েকটি কবর। প্রায় অব্যবহূত ডাকঘর পেরিয়ে এসে দাঁড়াল ঈশা খাঁর পুকুরঘাটে। সেখানে ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারেনি কেউ-ই।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা