kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিজ্ঞান

ওরা ছিল ক্রিটেসিয়াস যুগে

শুরু হয়েছিল সাড়ে ১৪ কোটি বছর আগে। রাজত্ব করেছে টানা সাড়ে ছয় কোটি বছর। এরপর একটা গ্রহাণুর আঘাতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বেশির ভাগ প্রাণ। অবসান ঘটে ক্রিটেসিয়াস যুগের। ওই সময় ডায়নোসরের পাশাপাশি আর কারা ছিল? জানাচ্ছেন আবদুল্লাহ আল ফারুক

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রথম ফুল

২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা জানতেন, পৃথিবীর প্রাচীনতম ফুলটা হলো আর্কিফ্রুকটাস সিনেনসিস। সাড়ে ১২ কোটি বছর আগে ফুটত ওই ফুল। কিন্তু ওই বছরই খেতাবটা ছিনিয়ে নেয় আরেকজন—মন্টসেচিয়া ভিদাল্লি। ১৩ কোটি বছর আগের পৃথিবীতে এ ফুল ফুটত জলের তলায়। ফুলটাকে আবিষ্কার করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিকদের হাজারখানেক ফসিল নিয়ে গবেষণা করতে হয়েছিল। ব্যবহার করতে হয়েছিল শক্তিশালী মাইক্রোস্কোপ। তাতেই একটা পাথরে আটকে থাকা ফসিলের চেহারা দেখা সম্ভব হয়েছে। ফুলটিতে আলাদা আলাদা পাপড়ি ছিল না। মনে হবে, একটা গোলগাল পাতা শুধু। তবে ভেতরে থাকত একটা করে বীজ। ওই সময় ছিল না পরাগায়ণের মৌমাছি বা ছোটখাটো পাখি। তাই পানিতে ভাসতে ভাসতেই এক গাছের সঙ্গে দেখা হতো অন্য গাছের। তাতেই ঘটত পরাগায়ণ।

জ্যান্ত ট্যাংক

নাম রাখা হয়েছে অ্যাংকিলোসরাস। আকারে গণ্ডারের সমান। প্রাকৃতিকভাবেই যোদ্ধার বর্ম পেয়েছিল প্রাণী। কাঁধের দিকে শক্ত স্পাইক আর পেছনে ধাতব প্লেটের মতো শক্তপোক্ত ত্বক। এর মাথার খুলি এতই শক্ত ছিল যে অতিরিক্ত তাপে যাতে এর মগজটা গলে না যায়, এ জন্য খুলির ভেতর প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়েছিল অনেকগুলো ফাঁপা নলের মতো অংশ। ২০১৮ সালে কম্পিউটার সিম্যুলেশন প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, ওই ফাঁপা নলগুলোর জন্যই টিকেছিল প্রাণীটা।

ভ্যাম্পায়ার পিঁপড়া

ওরা ছিল ৯ কোটি ৮০ লাখ বছর আগে। এখনকার পিঁপড়ার সঙ্গে মিল না থাকলেও দেখতে পিঁপড়ার মতোই। ক্রিটেসিয়াস যুগের মিনি ভ্যাম্পায়ার ছিল ওরা। প্রাণীটার মাথার দিকে ছিল এক ধাতব শিং। চোয়ালটাও ছিল লোহার মতো শক্ত। শিকার ধরে তাকে চিঁড়াচ্যাপ্টা বানিয়ে রক্ত শুষে খেত ওরা। নানা ধরনের খাবার থেকে ধাতব অংশগুলোকে আলাদা করে নিজের শিং ও চোয়ালের শক্তি বাড়াত প্রাণীটা। ২০১৭ সালে একটি প্রাচীন কাঠের মধ্যে পাওয়া যায় এর ফসিল।

নাম তার হেডরোসর

ডায়নোসরের মধ্যে বিচিত্র এক প্রজাতি হেডরোসর। ১৯৮০ সালে টেক্সাসে প্রথম এর ফসিল পাওয়া যায়। এখনকার ইগলের সঙ্গে এর মুখের খানিকটা মিল পাওয়া যায়। তবে এর মুখটা ছিল একেবারে কোদালের মতো। হেডরোসরের বৈজ্ঞানিক নাম আকুইলারহাইনাস পেলিমেনটাস। বিবর্তনপ্রক্রিয়ায় প্রাণীটাকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। কারণ এই প্রাণীর শাখা-প্রশাখা থেকেই এসেছে হাঁসের ঠোঁটের মতো দেখতে অন্যান্য ঠোঁটওয়ালা পাখি।

কথা বলা পাখি

মানুষের কথা বলার জন্য গলায় একখানা বস্তু আছে। ওটাকে বলে ল্যারিংক্স তথা স্বরযন্ত্র। এখন যেসব পাখিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কথা বলা শেখানো যায়, সেগুলোর গলাতেও আছে সিরিংক্স নামের একটি অংশ। এর অবস্থান পাখির হূিপণ্ডের কাছাকাছি। ক্রিটেসিয়াস যুগের শেষের দিকে যখন সবেমাত্র উড়ুক্কু পাখির বিকাশ ঘটছিল, ওই সময়কার একটি পাখির ফসিলে পাওয়া গেল ওই সিরিংক্স। এখনকার কথা বলা প্রায় ১২টি পাখির সঙ্গে ওই ফসিলের সিরিংক্সের মিল পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের বিজ্ঞানীরা।

 

ফসিলের পেটে ফসিল

ক্রিটেসিয়াস যুগের আরেক সদস্য ইন্দ্রোসরাস ওয়াংগি। এখনকার ছোট আকারের গিরগিটির সঙ্গে মিল আছে ওটার। তবে এর ফসিল স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া যায়নি। ১২ কোটি বছর আগের ওই গিরগিটির ফসিল পাওয়া গেছে ক্রিটেসিয়াস যুগের আরেকটি ছোট আকারের ডায়নোসরের পেটে। মাইক্রোর্যাপটর নামের ওই মিনি ডায়নোসরটা আস্তই গিলে খেয়েছিল গিরগিটিটাকে। খাওয়ার খানিক পর মাইক্রোর্যাপটরটিও মারা যায়। দুজনের ফসিল দীর্ঘদিন সংরক্ষিত ছিল চীনে।

 

ম্যালেরিয়া

এখনো লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে যে রোগে, সেই ম্যালেরিয়ার জীবাণু ছিল ক্রিটেসিয়াস যুগেও। ক্রিটেসিয়াস যুগের একটি পতঙ্গের ফসিলের ভেতর পাওয়া যায় ম্যালেরিয়ার জীবাণু। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এটা আবিষ্কার করেন। এতে ডায়নোসর বিলুপ্তির পেছনে পাওয়া গেল আরো একটা কারণ। আর তা হলো, ক্রিটেসিয়াস যুগের মশা!

 

ডায়নোসরের এঁটেল পোকা

ডায়নোসরের শরীরে পরজীবীর আবাস ছিল, এটা বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই জানতেন। কিন্তু ওরাও যে এখনকার এঁটেল পোকার সমস্যায় ভুগত, এটা জানা গেছে ২০১৭ সালে। ক্রিটেসিয়াস যুগের একটি কাঠের ফসিলের ভেতর এমনই এক পোকা পাওয়া গেছে, যার সঙ্গে ছিল ওই সময়কার ডায়নোসরের পালক। পরীক্ষায় ওই পালকের বয়স দেখা গেছে ৯ কোটি ৯০ লাখ বছর। ওই সময় পাখি না থাকলেও কিছু কিছু ডায়নোসরের গায়ে পালক ছিল।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা