kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অবাক পৃথিবী

ডুব দিলেই অন্য জগৎ

ইন্দোনেশিয়ার প্রত্যন্ত এক গ্রাম। সেখানে আছে এক পুকুর। সেই পুকুরের আছে নিজের একটা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট! যেনতেন জলাধার নয় ওটা। রীতিমতো নামকরা একটা সেলফি স্পট! জানাচ্ছেন নুসরাত জাহান নিশা

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডুব দিলেই অন্য জগৎ

ইন্দোনেশিয়ার সেন্ট্রাল জাভা অঞ্চলের জায়গাটার নাম উমবুল পংগক। জায়গার নামেই পুকুরের নাম। আকারে খুব বেশি বড় নয়। ২০ মিটার বাই ৫০ মিটার। আশপাশের ৪০টি ঝরনা থেকে পানি এনে ভরাট করা হয় পুকুরটি। আর এ কাজটা হয় সেকেন্ডে ৮০০ লিটার গতিতে। যার কারণে পুকুরের পানি একেবারে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ। আর তাই এ পুকুরে ডুব দিয়ে সেলফি কিংবা ছবি তুললে মনে হবে, এ যেন এক অন্য জগত্।

রসিকতায় কম যায় না উমবুল পংগকের লোকজন। কাপড় যদি হয় পানিরোধক, তবে সেটা পানির নিচে রাখলে শুকিয়ে যাবে?

শুধু সেলফি নয়, এখানে মজার মজার ছবি তোলার জন্য আছে হরেক আয়োজন। জলের তলায় রেখে দেওয়া হয় মোটরসাইকেল, সোফা সেট, এমনকি টিভি। টিভি চলুক আর না চলুক, ওটার সামনে সোফায় বসে ভাব ধরে ছবি তোলা চাই। কেউ এমনিতেই ডুব দিয়ে ছবি তুলে আবার অক্সিজেন নিতে পানির ওপর ভেসে ওঠেন। কেউ আবার নেমে পড়েন অক্সিজেনের ট্যাংক নিয়ে। এই একটি পুকুরের কারণে উমবুল পংগকের অর্থনীতিই বদলে গেছে। গোটা গ্রামের সবাই এর অংশীদার।

অক্সিজেন ট্যাংক না থাকলে কিন্তু মাছের সঙ্গে খেলা করা যাবে না।

১৫ বছর আগে চিত্রটা এমন ছিল না। পংগক ছিল একটি দারিদ্র্যে জর্জরিত গ্রাম। এর পুকুরটাও ছিল ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। গ্রামের লোকদের অর্থ উপার্জনের সুযোগও ছিল কম। তারা ওই পুকুরে গোসল সারত, আবার কাপড়ও ধৌত করত। কে জানত, একটি পুকুরের কল্যাণেই গ্রামটি উঠে আসবে সমৃদ্ধ ১০ গ্রামের তালিকায়।

টিভিতে কিছু দেখাক বা না দেখাক, ভাব ধরতে তো দোষ নেই। শত হলেও ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে ছবি তো দিতে হবে।

এর পেছনে বড় কৃতিত্বের দাবিদার পংগকের বাসিন্দা জুনায়েদি মুলিয়োনো। ২০০৬ সালে গ্রামের প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি কোমর বেঁধে নামেন এ পুকুরের পেছনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের ডেকে এনে তৈরি করতে বললেন একটা পরিকল্পনা।

সেই তথ্যের ভিত্তিতেই জুনায়েদি গেলেন গ্রামবাসীদের দরজায়। ৭০০টি পরিবারের মধ্যে ৪৩০ জনকে রাজি করালেন বিনিয়োগ করতে।

সবার চাঁদায় জমল ৫০ লাখ রুপিয়া। এরপর বদলে দিলেন পুকুরের চেহারা। পরিষ্কার পানি তো লাগবেই, তা ছাড়া পুকুরটাকে আস্ত একটা অ্যাকুয়ারিয়াম বানানো তো কম খরচের কথা নয়। ২০০৫ সালে গ্রামটির আয় ছিল বছরে আট কোটি রুপিয়া। পুকুরটা তৈরি হওয়ার পর সেটা দাঁড়াল এক হাজার ৪০০ কোটিতে। অর্থাত্ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ উঠে এখন প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের লাভ গুনছেন তাঁরা। এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের রীতিমতো লাইন ধরে নামতে হয় পুলে। আর জলের নিচের অদ্ভুত ওই জগতের একটা চমত্কার ছবি তুলতে পারলে তো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টধারীর পোয়াবারো। লাইক আর ফলোয়ার আসবে ঝাঁকে ঝাঁকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা