kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

সাগরতলের চার বিস্ময়

সাগরে এমনিতে বিস্ময়ের অভাব নেই। এখনো মহাসমুদ্রের গভীরের একটা বড় অংশ অজানা রয়ে গেছে বিজ্ঞানীদের কাছে। তবে মাঝেমধ্যে এমন কিছু পরিচিত মুখও ধরা পড়ে, যা দেখে বিস্মিত না হয়ে উপায় থাকে না। লিখেছেন আবদুল্লাহ আল ফারুক

৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাগরতলের চার বিস্ময়

নুডিব্রাঞ্চের খানাপিনা

২০১৬ সালের দিকে ইন্দোনেশিয়ার বালির সমুদ্রে নেমেছিলেন ডুবুরি এমারিক বেনহালাসা। দেখতে পান একটি দারুণ সি-স্লাগ। যার আরেক নাম নুডিব্রাঞ্চ। এলিয়েনের মতো দেখতে প্রাণীটার চলাফেরা বেশ নান্দনিক। আকারে এক হাত হবে। মাথাটা বেলুনের মতো। এমারিকের সৌভাগ্য যে তিনি খুব কাছ থেকে প্রাণীটার খাওয়ার দৃশ্য ভিডিও করতে পেরেছিলেন। আর তাতেই ধরা পড়ে নুডিব্রাঞ্চটির ভোজন তরিকা। প্রাণীটা চোখে দেখে না খুব একটা। তাই বেলুনের মতো মাথাটাকে সামনের দিকে বাড়িয়ে সমুদ্রের তলদেশ থেকে ছোটখাটো অণুজীবগুলোকে আঁকড়ে চালান করে দেয় মুখে। মাথার দুই পাশে থাকা সেন্সরগুলোই প্রাণীটাকে খাবার চেনাতে সাহায্য করে।

 

ইয়া বড় জেলিফিশ

জেলিফিশ বলতেই ছোটখাটো একটা প্যারাশুটের মতো দেখতে প্রাণীর ছবি মাথায় আসে। কিন্তু ছবিটা দেখেই বুঝতে পারছ আমরা কার কথা বলছি। এ বছরের জুলাই মাসে ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালের উপকূলে সাঁতার কাটতে ডুব মেরেছিলেন জীববিজ্ঞানী লিজি ডালি। ক্যামেরা নিয়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিনেমাটোগ্রাফার ড্যান অ্যাবট। হঠাৎ কালো পানি থেকে ভেসে উঠল এক ভূতুড়ে জেলিফিশ। তবে হামলা করেনি ডুবুরিদের। মানুষের চেয়েও বড় আকারের জেলিফিশটির মাথার দিকটা টুপির মতো গোল। তার ঠিক নিচেই আছে আটটি মোটাসোটা পা। সমুদ্রে এদের দেখা পাওয়াটা বিশাল ভাগ্যের ব্যাপার।

 

সাগরতলে বিষাক্ত নদী

সাগরের নিচে আবার নদী! এটাই তো বিদঘুটে শোনায়। তবে এমনটাও ঘটে। মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপে গেলে দেখা যাবে একটা সিংকহোল। ওটার নাম সেনোতে অ্যানজেলিটা। ওপর থেকে যেটাকে একটা সাধারণ জলাধারই মনে হবে। তবে ডুবুরির পোশাক পরে ১০০ ফুট নামলেই খুলে যাবে অন্য এক জগতের দরজা। পানির নিচে কুয়াশাচ্ছন্ন আরেকটা খাল ধরা পড়বে স্পষ্ট। ওটাকে ঘিরে আছে গ্যাসের একটি স্তর। বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড ওটা। সাহসী ডুবুরি না হলে সেখানে নেমেই আঁতকে উঠবে। কারণ কোনোভাবে ওই গ্যাস নাকে ঢুকলেই উল্টাপাল্টা আচরণ শুরু করবে ডুবুরি। মূলত সাগরের নিচ দিয়ে স্বাদু পানির স্রোত বয়ে চলার কারণেই তৈরি হয়েছে এমন খালের। এর একটি চমত্কার ভিডিও দেখতে পারো এই লিংকে— https://youtu.be/iHBvKDOfWiI

 

জ্বলজ্বলে জীবন্ত জাল

সাল ২০১৭। অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে জলের নিচে ভাসতে দেখা গেল এক অদ্ভুত জ্বলজ্বলে জাল। বিশাল এ জাল কোনো প্রাণী যে নয়, সে ব্যাপারে নিশ্চিত সবাই। তবে ওটা কী? কেউ কেউ নতুন প্রাণী বলে ঘোষণা দিতে চাইলেও বেশির ভাগ জীববিজ্ঞানী বললেন, এটা হলো স্কুইডের বাসা। তবে এ বাসায় ডিমের একটা লাইন তৈরি হয়ে আছে। এ ডিমগুলোর কারণেই এর ভেতর জ্বলজ্বলে একটা গোলাপি আভা তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের চূড়ান্ত ধারণাটি হলো বাসাটি দুষ্প্রাপ্য ডায়মন্ড স্কুইডের বানানো। তবে এর ভেতর ডিমগুলো কী করে লেগে থাকে এবং জ্বলতে-নিভতে থাকে, সেটা এখনো রহস্যই রয়ে গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা