kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

টিন তারকা

দ্য গ্রেট গ্রেটা

বয়স সবে ষোলো। এই বয়সেই পরিবেশ নিয়ে দারুণ চিন্তা তার। ভাবতে বাধ্য করেছে অন্যদেরও। তার কথা শুনেছে গোটা দুনিয়া। পেয়েছে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের মনোনয়নও! সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থানবার্গকে নিয়ে লিখেছেন ফয়সল আবদুল্লাহ

৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দ্য গ্রেট গ্রেটা

সুকান্ত ভট্টাচার্য থাকলে নতুন করে আবার একটা কবিতা লিখতেন। নাম হতো ষোলো বছর বয়স। আঠারোর আগেই তো সবাইকে কাঁপিয়ে দিয়েছে গ্রেটা থানবার্গ!

গত বছরের আগস্টের কথা। পরিবেশ বিপর্যয়, বরফ গলা, বৈশ্বিক উষ্ণতা—এসবের খবর পড়তে পড়তে আর ঠিক থাকতে পারেনি গ্রেটা। স্কুলে গিয়ে কী লাভ! যদি দুনিয়ায় মানুষই না থাকে! এমনটা ভেবে সপ্তাহের শুক্রবার বাদ দিল স্কুল। ওই দিন পোস্টার হাতে দাঁড়িয়ে থাকল সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে। পরিবেশ নিয়ে বিশ্বনেতাদের কিছু করতেই হবে, এমন দাবি তার। প্রথম প্রথম খুব একটা সাড়া না পড়লেও এক বছরের ব্যবধানে গ্রেটা এখন গ্রেট! গ্রেটার কথা এখন সবাই শুনছে। বিশ্বের কয়েক লাখ স্কুলশিক্ষার্থী এখন প্রতি সপ্তাহেই পালন করছে ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার।

গত ২১ ও ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ পরিবেশ সম্মেলনে দেওয়া গ্রেটার বক্তব্য ভাবতে বাধ্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ক্ষমতাওয়ালা মানুষকেও। তিনি ঠিক ভালোভাবে নেননি গ্রেটার কথাবার্তা। কারণ গ্রেটার মতে, ট্রাম্পের মতো ক্ষমতাবানদের সিদ্ধান্ত না নিতে পারার কারণেই আজ পরিবেশের বারোটা বাজতে চলেছে। গ্রেটাকে তাচ্ছিল্য করে ট্রাম্প আবার টুইটও করেছিলেন।

গ্রেটার প্রাথমিক উদ্দেশ্য সফল। পরিবেশ নিয়ে যে আসলেই আমাদের বেশ আতঙ্কে থাকা উচিত, এটা সে তার বিভিন্ন বক্তব্যে একেবারে পরিষ্কার করে দিয়েছে। বাকি এখনো অনেক কাজ। বিশ্বনেতারা যদি গ্রেটার কথা শুনে সত্যি সত্যিই একটা কিছু করেন, তবেই মিলবে আসল সফলতা।

এদিকে ঘটেছে এক মজার কাণ্ড। দূষণের প্রসঙ্গ এলেই আসবে যুক্তরাষ্ট্রের কথা। কারণ শিল্প-কারখানা, উড়োজাহাজ ও গাড়ি চলাচলের কারণে দেশটি কার্বনের দূষণ ছড়ানো শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে আছে। সেই দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন জলবায়ু সম্মেলনে আসেন, তখন তাঁর পাশেই ছিল গ্রেটা। ট্রাম্পের দিকে একগাদা রাগ নিয়ে কটমট করে তাকিয়ে ছিল সাহসী ওই কিশোরী। আর সেটা ধরা পড়ে যায় ক্যামেরায়। গ্রেটার ওই ভিডিও এখন ভাইরাল। ওর অগ্নিঝরা চাহনিতেই বোঝা যায়, পৃথিবীর জলবায়ুদূষণ নিয়ে কতটা বিরক্ত মেয়েটা।

নরওয়ের কয়েকজন আইনপ্রণেতার সুপারিশে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছে গ্রেটা। এ নিয়ে কিন্তু মোটেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না। উল্টো মাইক হাতে পেলেই বলছে, ‘মানুষ ভুগছে। মানুষ মরছে। গোটা বাস্তুসংস্থানটাই ধসে পড়ছে। একটা বড়সড় বিলুপ্তির শুরু ঘটতে চলেছে। কিন্তু আপনাদের (বিশ্বনেতারা) মুখে টাকা ছাড়া আর কোনো কথা নেই। আর শুধু শোনাতে পারেন অসীম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নামের একটা রূপকথা। আপনারা ফাঁকা বুলি আওড়ে গিয়ে আমার স্বপ্ন চুরি করেছেন, শৈশব চুরি করেছেন।’

গ্রেটার টুইটারে এখন ফলোয়ার আছে সাড়ে ২৫ লাখের মতো। সংখ্যাটা আরো বাড়বে, তাতে সন্দেহ নেই। তার চালু করা ফ্রাইডেজ ফর ফিউচারের কথা চলে গেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে উগান্ডা পর্যন্ত। বিশ্বের কোথায় পরিবেশ নিয়ে কী আন্দোলন হচ্ছে, গ্রেটার টুইটার থেকে তার একটা ধারণা পাওয়া যাবে।

ভাবছ, কত সহজে গ্রেটা এখন তারকা বনে গেল? মোটেও না। বিবিসিকে সে কিছুদিন আগে একটা সাক্ষাত্কার দিয়েছে। তাতে উঠে এসেছে তার অতীতের অনেক কথা। সে জানিয়েছে, তার বয়স যখন আট, তখন থেকে সে জলবায়ু বিপর্যয় নিয়ে অনেক কথা শুনে এসেছে। কিন্তু এরপর তিন বছরেও সে দেখল, তেমন কোনো অগ্রগতি হলো না। এরপর রীতিমতো তার খাওয়াদাওয়া বন্ধ, সবার সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ। কারণ তার কাছে মনে হলো, দুনিয়ায় সে ছাড়া কেউ আর পরিবেশ নিয়ে ভাবছে না। গ্রেটা বলল, ‘আমার তখন মনে হয়েছিল, পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে শুধু আমি একাই চিন্তিত। আমার মা-বাবা এটাকে পাত্তা দিল না, আমার ক্লাসমেটরাও কেউ এটা নিয়ে ভাবল না। এমনকি আমার কোনো আত্মীয়কেও পেলাম না, যারা জলবায়ু নিয়ে কিছুটা হলেও চিন্তিত। মোট কথা, আমার চেনাজানা কাউকেই পেলাম না, যে বিষয়টা নিয়ে ভাবছে। আমার মনে হয়েছিল—আমি একেবারে একা।’

আসলেই তাই? মোটেও না। গ্রেটার পাশে তো তোমরাও আছ!

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা