kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

টেক টাশকি

বিপদের বন্ধু স্মার্টফোন

স্মার্টফোন নিয়ে বকাবকিটা তোমাদের কম শুনতে হয় না। পরেরবার কেউ কিছু বললে নিচের উদাহরণগুলো দেখিয়ে দিতে পারো! লিখেছেন আশিকুর রহমান

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টুইটার বাঁচাল জীবন

২০১৬ সালের নভেম্বর। জাপানের ২০ বছর বয়সী অত্তো নারাথিগা ও তার বন্ধুরা বড়শি দিয়ে একটা মাছ ধরেছে। বরাবরের মতো মাছ ধরার উল্লাসে সেটির ছবি পোস্ট করল টুইটারে। সঙ্গে লিখে দিল, সয়া সস দিয়ে মাছটা রান্না করে খাওয়ার জন্য তাদের তর সইছে না। খানিক পরই ছবির নিচে শুরু হলো কমেন্টের তুবড়ি। নারাথিগা জানল না যে সে যে মাছটা ধরেছে, ওটা একটা বিষাক্ত স্ক্রলড ফাইলফিশ। বিশেষ কায়দায় রান্না করতে না পারলে নিশ্চিত মৃত্যু ডেকে আনবে ওটা। বন্ধুদের কমেন্ট দেখেই শেষে মাছটাকে আবার লেকে ছুড়ে ফেলে দেয় অত্তো।

 

ইনস্টাগ্রামে ক্যান্সার

নিজের দুই নাতির সঙ্গে বাবা জন জেপ্পার ছবি তুললেন শিকাগোর সারা ফ্রেই। হাস্যোজ্জ্বল ছবিটা পোস্ট করলেন ইনস্টাগ্রামে। পোস্ট করার পর যথারীতি পড়তে লাগল লাইক। কিন্তু চোখ কুঁচকে গেল একজনের। জেপ্পার কপালের দাগটা এড়াল না সারার বন্ধু জেনিফার মানকুসোর। জেনিফার একজন ত্বক বিশেষজ্ঞ। জেপ্পার কপালের দাগটা দেখেই বন্ধুকে জানালেন, এটা দেখতে অনেকটা ত্বকের ক্যান্সার মেলানোমার মতো। ফ্রেই যেন দ্রুত তাঁর বাবার চিকিত্সা শুরু করেন। জেনিফারের কথামতো দেরি করেননি ফ্রেই। সত্যিই ধরা পড়ল মেলানোমা এবং সময়মতো চিকিত্সার কারণে পুরোপুরি সেরেও ওঠেন জেপ্পা।

 

আবারও টুইটার

২০১০ সালের কথা। বাইসাইকেলের ম্যারাথন খেলছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ৩৬ বছর বয়সী লেই ফাজিনা। খাড়া একটা পথে সাইকেল নিয়ে গড়িয়ে নামতেই ফাজিনা হারিয়ে ফেলেন তাঁর সহযাত্রীদের। এর খানিক পরেই সাইকেলের সামনের চাকা একটা গাছের শিকড়ে জড়িয়ে আছড়ে পড়লেন বেকায়দায়। পায়ে চোট পেলেন দারুণ। হাঁটার জো নেই। হাতও চলছে না। অনেক কষ্টে ফোনটা হাতে নিলেন ঠিকই। কিন্তু বিধি বাম। ৩০০ একরের এই জঙ্গলে পেলেন না সেল নেটওয়ার্ক। তবে স্যাটেলাইটের কল্যাণে পেলেন ইন্টারনেট সংযোগ। নিজের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে পোস্ট করলেন টুইটারে। কপাল ভালো, মিনিটের ব্যবধানে সেই টুইট পড়ে গেল ফারমিংটন দমকল বিভাগের প্রধানের চোখে। দ্রুত উদ্ধার পেলেন ফাজিনা।

 

এবার ফেসবুক

২০১৪ সালে গ্রিসের আইল্যান্ড অব ক্রিটে বেড়াতে গিয়েছিলেন ৫৫ বছর বয়সী স্যান্ডি অ্যালক। আচমকা পড়েন মহাবিপদে। উঁচু একটা স্থানের পাশ ঘেঁষে হাঁটতে গিয়ে পা ফসকে পড়ে যান ৩০০ ফুট নিচে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। কিন্তু কতক্ষণ? একটা হাত আটকে গেছে দুটি গাছের ডালে। আরেক হাত দিয়ে কোনো রকম পকেট থেকে বের করতে পারলেন নিজের ফোনটা। ডায়াল করলেন জরুরি নম্বরে। কিন্তু কিছুতেই ব্যাখ্যা করতে পারছিলেন না নিজের অবস্থান। এভাবে চলল প্রায় ৯০ মিনিট। বিদ্রোহ শুরু করেছে শরীরটাও। এমন সময় স্যান্ডির মাথায় এলো বুদ্ধিটা। আশপাশের ছবি তুলে আপলোড করতে শুরু করলেন ফেসবুকে। পরিস্থিতির কারণে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গেল ছবিগুলো। জায়গাটা শনাক্ত করতে পারলেন একজন স্কুবা ডাইভার। উদ্ধারকারীদের খবর দিলেন তিনি। দুই ঘণ্টা ঝুলে থাকার পর অবশেষে নতুন জীবনের দেখা পেলেন স্যান্ডি। শরীরের মোট ২০টি হাড় ভাঙলেও ফেসবুককে মন ভরে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি।

 

অ্যাপ যখন ফার্স্ট এইড

২০১০ সালের জানুয়ারি। হাইতির লোকজন কখনোই ভুলবে না দিনটি। ওই দিনের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছিল অনেকে। প্রাণ হারাতে পারতেন ড্যান উলি নামের এক উদ্ধারকর্মীও। একটি হোটেলের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছিলেন উলি। চোট পাওয়ায় মাথা ও পায়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল খুব। কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। চিত্কার-চেঁচামেচি করে বুঝলেন, বৃথাই শক্তির অপচয় হচ্ছে। শেষ সম্বল হিসেবে হাতে তুলে নিলেন স্মার্টফোন। উদ্ধারকর্মী হিসেবে ফোনে ইন্সস্টল করা ছিল ফার্স্ট এইড অ্যাপ ‘পকেট ফার্স্ট এইড অ্যান্ড সিপিআর’। ওই অ্যাপের নির্দেশনা অনুসরণ করেই কায়দা করে বেঁধে নিলেন পা। বেল্ট খুলে বেঁধে নিলেন কাঁধের আরেকটা অংশ। ভাবলেন, রক্তক্ষরণের কারণে জ্ঞান হারাতে পারেন। উদ্ধার হওয়ার আগে যেকোনো মূল্যে জেগে থাকা চাই তার। এ কাজেও এগিয়ে এলো স্মার্টফোন। অ্যালার্ম সেট করলেন ২০ মিনিট পর পর। এভাবে আধো ঘুম ও আধো জাগরণে কাটল দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টা। এর পরই মিলল উদ্ধারকর্মীর দেখা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা