kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

বিজ্ঞান

অবাক সিলিকন

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি আছে অক্সিজেন। পরিমাণ প্রায় ৪৭ ভাগ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বস্তুটাই হলো সিলিকন (২৭.৭%)। বলতে গেলে যার ওপর ভর করে গড়ে উঠেছে আধুনিক সভ্যতা। ১৮২৪ সালে আবিষ্কারের পর থেকে বস্তুটির ওপর আমাদের নির্ভরতা বেড়েছে অনেকখানি। সেটাই জানাচ্ছেন আশিকুর রহমান

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবাক সিলিকন

সেমিকন্ডাক্টর ও প্রসেসর : এ যুগের ইলেকট্রনিক যা কিছু আছে, তার একটা বড় কাজ করে চলেছে সিলিকন। মাইক্রোপ্রসেসর, সেমিকন্ডাক্টর, ট্রানজিস্টর—সবই সিলিকনভিত্তিক। কিন্তু এসবে সিলিকনই কেন লাগবে? কারণটা লুকিয়ে আছে এর গঠনে। বিশুদ্ধ সিলিকন ক্রিস্টাল ইলেকট্রন প্রবাহে দারুণ বাধা দেয়। যত্সামান্য ইলেকট্রন এর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। কিন্তু যখনই এতে আরেকটা বস্তুর সামান্য পরিমাণে যোগ হয়, তখনই ওটা আংশিক বিদ্যুৎ পরিবাহীতে পরিণত হয়। তখনই সিলিকনটা হয়ে যায় সেমিকন্ডাক্টর। একে বলে ‘ডোপিং’। এর সবচেয়ে সরল উদাহরণ হলো ডায়োড। সার্কিট বোর্ডে অহরহ দেখা যাওয়া এ যন্ত্রাংশের কাজ হলো, এক দিকে বিদ্যুত্প্রবাহ চালু রাখার সময় আরেক দিকে বন্ধ করে রাখা।

গাছের বৃদ্ধি : পৃথিবীর মাটিতে সিলিকনের অভাব নেই। তাই গাছপালার সঙ্গেও এর সম্পর্ক বেশ গাঢ়। বিশেষ করে বড় পাতাওয়ালা গুল্ম ও ঘাসের জন্য এটা বেশ দরকারি উপাদান। গাছ সিলিকন সরাসরি শুষে নেয়। সিলিকন যদিও গাছের জন্য অত্যাবশ্যকীয় নয়, তবে লতাপাতার জন্য এটা খুব ভালো কাজে আসে। বিশেষ করে খরার সময় টিকে থাকার ক্ষেত্রে সিলিকন গাছকে সাহায্য করে। আবার ধান ও গম গাছের ক্ষেত্রে গাছের কাণ্ড মজবুত রাখতে সাহায্য করে উপাদানটি। সিলিকন না থাকলে খুব অল্পতেই গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি শস্যের গাছ হেলে পড়ত।

শিল্পীর চোখে সিলিকনভিত্তিক জীব যেমন হতে পারে

সায়েন্স ফিকশন : সায়েন্স ফিকশনে সিলিকন বেইজড এলিয়েনের গল্প তো পড়েছো। তবে পৃথিবীতে এটা একেবারেই সম্ভব নয়। কারণ কার্বন ও সিলিকন পরমাণু কক্ষপথে চারটি করে ইলেকট্রন থাকলেও কার্বনের আণবিক বন্ধন যত বড়ই হোক, সেটা শক্তিশালীই থাকে। সিলিকনের বন্ধন হয় ভঙ্গুর। আবার সিলিকন ভিত্তিক জীবনের সন্ধান যদি পাওয়াই যায় তবে পৃথিবীতে তার শ্বাস নেওয়াই দায় হবে। তবে এত নিয়মকানুন খাটবে কেবল পৃথিবীর বেলায়। বাইরের অন্যরকম কোনো গ্রহে সিলিকন দানবের দৌড়ঝাঁপ থাকতেই পারে।

সবচেয়ে গোলাকার : পৃথিবীর সবচেয়ে নিখুঁত গোলাকার বস্তুটি আছে সিডনির অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর প্রিসিশন অপটিকস নামের সংস্থাটিতে। বুঝতেই পারছ, এটাও আগাগোড়া সিলিকন দিয়ে তৈরি। এক কেজির আদর্শ মান হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছে। খুব কম মানুষেরই সৌভাগ্য হয়েছে নিখুঁত এ গোলক স্পর্শ করার। এর ভিডিও দেখতে পাবে এই লিংকে- https://youtu.be/ZMByI4s-D-Y

মেডিক্যালে সিলিকন : কার্বন, হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সঙ্গে মেশালেই সিলিকন দারুণ সব কাজ করতে থাকে। তৈরি হয় রাবার সিলিকন। তাপ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে দূরে থাকে বলে মেডিক্যাল-সংক্রান্ত কাজকর্মে সিলিকন রাবার বেশ কাজে আসে। হিয়ারিং এইড, ড্রেনেজ টিউব, ক্যাথিটার—এসব বানাতে ওই রাবার সিলিকনের বিকল্প নেই।

ভিনগ্রহের বার্তায় : ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১-এর নভোচারীরা যখন চাঁদে নামেন, তখন তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ছাড়াও আরো কিছু জিনিস চাঁদে রেখে আসেন। এর মধ্যে একটি হলো সিলিকনের একটি কয়েন। যার মধ্যে লেখা আছে ৭৩টি দেশের তত্কালীন রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতাদের বক্তব্য। সাধারণ লেখার চেয়ে ২০০ গুণ ছোট করতে হয়েছিল ওই কথাগুলো। চাঁদের তাপমাত্রা ১২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে মাইনাস ১৭৩ ডিগ্রিতে ওঠানামা করে। এ কারণেই বার্তা লেখার পাত্র হিসেবে সিলিকন ব্যবহার করা হয়েছে।

 

অদ্ভুত রং : ২২০ সালের কথা। চীনে তখন ঝু সাম্রাজ্যের শাসন চলছে। দেশটির ভাস্কর্যশিল্পীরা তখন টেরাকোটা আর্মি তৈরিতে ব্যস্ত। মাটি দিয়ে বানানো ওই সেনাদলকে রং করার কাজে তারা ব্যবহার করল বিশেষ এক নীলচে বেগুনি রং। ওটার নাম হ্যান পারপাল। তারা জানতই না বিজ্ঞানের জগতে কত গুরুত্বপূর্ণ সেই রং। ওটা বানানো হতো ব্যারিয়াম কপার সিলিকেট দিয়ে। প্রাচীনকালের চীনারা রংটা আবিষ্কার করেছিল আয়না তৈরি করতে গিয়ে। মাঝে দীর্ঘ সময় এ রংটা হারিয়ে গিয়েছিল বলা যায়। পরে ১৯৯২ সালে রসায়নবিদরা গবেষণাগারে তৈরি করেন হ্যান পারপাল। এ রঙের বিশেষত্ব হলো, অন্য সব রং ত্রিমাত্রিক তরঙ্গ ছড়ালেও এটা থেকে যে তরঙ্গ বের  হয়, সেটা দ্বিমাত্রিক। আর তাই এটা কোয়ান্টাম কম্পিউটার বানাতেও নাকি কাজে আসবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা