kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

হরর ক্লাব

মাজারের পাশে

বৃদ্ধ আবদুর রশিদ। বয়সের ভারে ন্যুব্জ। চলাফেরা করতে পারেন না। তবে মাজারের ব্যাপারে কেউ কিছু জানতে চাইলেই তাঁর চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম রহিমপুরের একটি মাজারের কথাই বলা হচ্ছে। যে মাজার ঘিরে ঘটে চলেছে অদ্ভুত সব ঘটনা। লিখেছেন তন্ময় আলমগীর

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাজারের পাশে

একদিন দুপুরে বৃদ্ধ রশিদের পাশে বসে জানতে চাইলাম মাজারটির বয়স কত? একগাল হেসে বললেন, ‘ছোটবেলায় আমিও বাবাকে এ প্রশ্ন করতাম। বাবা উত্তর দিতে পারতেন না। শুধু বলতেন, তাঁর বাবা—মানে আমার দাদার জন্মেরও আগে থেকে মাজারটি ছিল।’ ‘এ নিয়ে তো অনেক ভীতিকর ঘটনা শোনা যায়। এসব কি সত্য?’ বৃদ্ধ বললেন, ‘কথা সত্য, শুধু বাইরের গ্রামের নয়, এই গ্রামের লোকজনের সঙ্গে অনেক ঘটনা ঘটেছে।’

মাজারের পাশের কদমগাছের দুটি ডাল জমির ওপর পড়ায় ফসলের ক্ষতি হতো। জমির মালিক আলতাব ঠিক করলেন, ডাল দুটি কেটে দেবেন। কয়েকজন নিষেধ করেছিল। শোনেননি। ডাল কেটে বাড়িতে যাওয়ার পরই শুরু হলো রক্তবমি। দীর্ঘদিন চিকিত্সা নেওয়ার পর সুস্থ হয়েছিলেন আলতাব।

গ্রামে সন্ধ্যার পরই শুরু হতো শিয়ালের হাঁকডাক। কিছু শিয়াল ঢুকে পড়ত বাড়িতেও। একদিন গ্রামের কৃষক দুলালের বাড়িতে একটি শিয়াল ঢুকলে দুলাল সেটিকে মারতে গেলেন। শিয়াল দৌড়ে গেল ওই মাজারের পাশের একটি কবরস্থানে। দুলাল নাছোড়বান্দা। কবরস্থানে ঢুকে পিটিয়ে মেরে ফেললেন শিয়ালটিকে। তখনই ঘটল এক ঘটনা। বাড়িতে এসে দুলাল দেখলেন, গোয়ালঘরে রাখা তাঁর তিনটি গরু আতঙ্কে ছটফট করছে। মনে হচ্ছে, ঘরদোর ভেঙে ফেলবে। দড়ি খুলে বাইরে নিয়ে এলেন। চোখের সামনেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ল গরু তিনটি। শুধু তা-ই নয়, পরদিন দুলাল মিয়া পুকুরে গিয়ে দেখেন পুকুরের মাছগুলোও সব মরে ভেসে উঠেছে।

রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজশাহীর ব্যবসায়ী সজীব ইস্কান্দার জানান, এই মাজারের পাশে বছর তিনেক আগে মধ্যদুপুরে একটি প্রাইভেট কার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। গাড়ির দুটি চাকা একেবারে রাস্তার নিচে, আরেক দিকের দুটি চাকা রাস্তার পাশের একটি গাছে আটকে যায়। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো গাড়িটির যে ওজন, তাতে ওটার ওই গাছে আটকে থাকার কথা নয়। পরে অন্য একটি গাড়ির মাধ্যমে ওই গাড়িটি ওপরে তোলা হয়।

পরদিন গাড়িটির চালক এলাকাবাসীকে জানান তিনি রাতে স্বপ্নে দেখেছেন গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ার কারণ। মাজারের পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তায় কয়েকটি জিন নাকি কাঁথা সেলাই করছিল। তাঁর গাড়ি ওই কাঁথার ওপর দিয়ে চালিয়ে নেওয়ায়ই নাকি জিনেরা রাগ করে গাড়িটিকে আটকে দেয়। এটা অনিচ্ছাকৃত ঘটনা বলে তারা নাকি গাড়ি বা চালকের কোনো ক্ষতি করেনি।

মাজারের পথটি দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন পাশের নামাপাড়া গ্রামের হাসেন আলী। রাতেও যাওয়া-আসা করতে হয় তাঁকে। মাজারটির ভক্তও তিনি। একদিন সাইকেল দিয়ে আনমনা হয়ে মাজারটি অতিক্রম করছিলেন। মাজারের সীমানা পার হওয়ার আগেই তাঁর সাইকেল নষ্ট হয়ে যায়। প্রথমে সামনের চাকা পাংচার। পরে ছিঁড়ে যায় প্যাডালের চেইন। সেদিন ভীষণ ভয় পান হাসেন।

পাশের তেলিপাড়া গ্রামের মসজিদের ইমাম ছিলেন আসাদুজ্জামান সরকার। তাঁর সঙ্গে এক সন্ধ্যায় ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। মাগরিবের নামাজ পড়িয়ে ফেরার পথে মাজারটির কাছে আসতেই একটি কালো বিড়াল চোখে পড়ল। তাঁর পায়ের কাছে এসে ধাক্কা খেতে লাগল বিড়ালটি। যতই চাচ্ছেন ওটাকে সরিয়ে দিতে, বিড়ালটি সরেই না। উল্টো আরো কাছে ঘেঁষতে থাকে। তিনি জানতেন, বিড়ালটির সীমানা কবরস্থানের শেষ সীমানা পর্যন্ত। দেখা গেল, যা শুনেছেন ঠিকই! কবরস্থান পার হওয়ার পর বিড়াল তাঁর পিছু ছেড়ে দিল। বেশ ভয় পেয়েছিলেন ইমাম। বাড়িতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে তাঁর। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা