kalerkantho

অবাক পৃথিবী

বন্ধু রে তোর পাশেই আছি

প্রাণীতে প্রাণীতে বন্ধুত্বের অনেক নজির দেখে থাকবে অনলাইনে। তবে এর মধ্যে কিছু বন্ধুত্ব একেবারেই আলাদা। বন্ধু দিবসে এমন কিছু বন্ধুত্বের খবর না জানলেই নয়। লিখেছেন আশিকুর রহমান

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্ধু রে তোর পাশেই আছি

হাতি ও ভেড়া

জন্মের কিছুদিন পরই মাকে হারায় থেম্বা নামের হাতিটা। পরে তার আশ্রয় জোটে দক্ষিণ আফ্রিকার সামওয়ারি নামের একটি বন্য প্রাণী সংরক্ষণকেন্দ্রে। অন্যদের হাত থেকে বাঁচাতে সেখানে তাকে রাখা হয় ছোট একটি জায়গায়। কিন্তু হাতি আবার একটু সামাজিক প্রাণী। একা থাকতে চায় না। থেম্বার জন্য তাই দরকার হলো সঙ্গীর। কিন্তু সামওয়ারিতে ওই সময় ছিল না আর কোনো বাচ্চা হাতি। কেন্দ্রের কর্মীরা তাই একটা বাচ্চা ভেড়াকেই রেখে দিল থেম্বার সঙ্গে। দুই দিন না যেতেই দুই জগতের দুজনের মধ্যে হয়ে গেল দারুণ বন্ধুত্ব। প্রায়ই তাদের দৌড়াদৌড়ি ও খেলতে দেখা যেত। পরে অবশ্য থেম্বাকে জঙ্গলে ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

হাঁস ও হরিণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের বাফেলোতে আছে এক সমাধিক্ষেত্র। সেখানে ২০১১ সালের দিকে বাসা বাঁধে একটি পাতিহাঁস। আর সেই হাঁসের কাছে সুখ-দুঃখের গল্প করতে যেত একটা হরিণ! একসঙ্গে থাকতে থাকতে জমে ওঠে বন্ধুত্ব। ওই হাঁস যখন ডিম পাড়ে, তখন তো রীতিমতো পাহারাদারের ভূমিকায় নেমে যায় হরিণটা। যথারীতি দুই পায়ের প্রাণীরা আশপাশে এলেই গাঝাড়া দিয়ে ওঠে সে। ডিমে তা দেওয়া অবস্থায় কেউ যেন তার বন্ধুকে বিরক্ত না করতে পারে, সে জন্য বেশ তত্পর থাকে ও। পরে অবশ্য ডিম ফুটে ছানারা বের হয়ে এলে বন্ধুত্বের ইতি টানে হরিণটা।

বাঘ, ভালুক ও সিংহ

যেন রূপকথার গল্প। একসঙ্গে পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে তাদের আশ্রয় হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে। পুলিশ ওই বাড়িতে হানা দিয়ে উদ্ধার করে এই তিন মানিক বিজোড়কে। একটি অভয়ারণ্যে এনে ছেড়ে দেওয়ার পরও দেখা গেল এরা আলাদা হচ্ছে না। ছবি দেখেই বোঝা যায়, দিনে দিনে তাদের বন্ধুত্ব কতটা গাঢ় হয়ে গেছে।

জলহস্তী ও কচ্ছপ

এবারও একই ঘটনা। শিশুকালে সাগরের সুনামিতে মা-বাবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যায় ওয়েন নামের একটি জলহস্তী। তারও আশ্রয় জোটে কেনিয়ার একটি অভয়ারণ্যে। সেখানে ওয়েনের সঙ্গে পরিচয় হয় এমজি নামের এক শতবর্ষী কচ্ছপের। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব। তারপর সম্পর্ক এমনই গাঢ় হয়ে গেল যে সারাক্ষণ এমজির সঙ্গেই লেগে থাকত ওয়েন। এমনকি এমজির দিকে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখলেও তেড়ে আসত ওয়েন। ২০০৭ সালে অবসান হয় এ বন্ধুত্বের। কারণ, তখন স্বজাতিদের সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল ওয়েনকে।

সাপ ও হ্যামস্টার

নিঃসন্দেহে বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে এই জুটি। দুপুরের খাবারই কিনা হয়ে গেল বন্ধু! টোকিও চিড়িয়াখানায় সাপের খাবার হিসেবে খাঁচায় ছেড়ে দেওয়া হয় জ্যান্ত হ্যামস্টার। কিন্তু কী মনে করে যেন আওকান নামের সাপটির মন বেঁকে বসল। হাতের সামনে পেয়েও খেল না ধেড়ে ইঁদুরের মতো দেখতে হ্যামস্টারটাকে। হ্যামস্টারটারও ভয়ডর নেই। সে দিব্যি আওকানের গায়ের ওপর লাফায়, গায়ের ওপর শুয়ে ঘুমায়! চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ প্রথমে ভেবেছিল সাপটার বুঝি অসুখ হয়েছে। কিন্তু এভাবেই দুজন কাটিয়ে দিল টানা দুই মাস। পরে এই বন্ধুত্বের কারণেই কপাল খুলে যায় চিড়িয়াখানার। এই বন্ধুজুটিকে দেখতেই ভিড় জমাতে থাকে দর্শনার্থীরা।

কাক ও বিড়ালছানা

সম্পর্কটা সাপে-নেউলে হওয়ার কথা থাকলেও তেমনটা হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের এই কাক ও বিড়ালছানার বেলায়। একদিন পথ ভুলে বিড়ালছানা এসে পড়ে কলিটোস পরিবারের বাড়ির উঠানে। ওর দেখভালের ছিল না কেউ। অসহায় বিড়ালছানা শুরু করে কান্নাকাটি। তা দেখেই মমত্ববোধ জাগে একটি দাঁড়কাকের। এভাবেই শুরু। বলা যায়, ক্যাসি নামের বিড়ালছানাটিকে খাইয়ে-পরিয়ে বড় করে মোসেস নামের কাকটা। ওদের বন্ধুত্বের একটা ভিডিও করে রাখে কলিটোস পরিবার। সেটা দেখতে পাবে এই লিংকে- https://youtu.be/-fA‰zY9rnaA

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা