kalerkantho

রহস্যজট

সুইসাইড নোট

আশিকুর রহমান

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুইসাইড নোট

‘ভাইয়া জীবনেও সুইসাইড করবে না!’

কাঁদতে কাঁদতে বলল মিতু। কান্নার সঙ্গে তার গলায় রাগও আছে। পুলিশ অফিসার শরিফ বুঝতে পারলেন, মিতু বিভ্রান্তিতে আছে। কারণ তার বড় ভাই নিয়াজের সুইসাইড করার মতো অবস্থা নাকি হয়নি।

‘ভাবি মারা গেছে ১০ বছর হলো। ভাইয়া একা বোধ করত এটা ঠিক, ভাবিকে মিস করত খুব। কিন্তু তাই বলে...আমি তো ছিলাম! আমাকে এত পছন্দ করত!’

ইন্সপেক্টর শরিফ কথাবার্তা বলেছেন সবার সঙ্গে। মিতু ছাড়াও বাড়িতে আরো অনেকে আছে। বনেদি পরিবার বলা যায়। নিয়াজের দুই চাচার পরিবারও থাকে। চাচাতো ভাই-বোন মিলিয়ে বিশাল পরিবার। শরিফ অবশ্য এখনো কোনো সন্দেহভাজন কিছু নিয়ে ভাবছেন না। নিয়াজ মারা গেছেন তাঁর নিজের লাইসেন্স করা পিস্তলের গুলিতে। পিস্তলও তাঁর ডান হাতে ধরা। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁর নিজের হাতে লেখা একটা সুইসাইড নোটও আছে।

‘আমার প্রিয় সবাই, বিশেষ করে মিতু। মাত্রই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কে কিভাবে নেবে জানি না। খুব মিস করব সবাইকে। নয়ছয় অনেক হলো জীবনটা নিয়ে। করবীকেও খুব মনে পড়ে। রবিউলকে বলিস পড়ায় মন দিতে। বেলা গড়িয়ে গেল। আমার সময় শেষ। বুঝতে পেরেছি আজ। লক্ষ্যহীন জীবনের এখানেই শেষ।’

সুইসাইড নোটটা অস্বাভাবিক লেগেছে ইন্সপেক্টর শরিফের কাছে। কেমন অগোছালো। বিশেষ কোনো আবেগঘন কথাবার্তাও নেই। মিতুকে দেখাতে সে বলল, করবী হলো তার বড় ভাই—মানে নিয়াজের স্ত্রীর নাম। মারা গেছে বছর দশেক হলো।

নিয়াজের ডেডবডি ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ইন্সপেক্টর শরিফ তাকিয়ে আছে মরদেহের দিকে। নিজের মাথায় গুলি করলে একপাশে কাত হয়ে পড়ে থাকার কথা। নিয়াজের ডেডবডি পড়ে আছে চিত হয়ে। চেয়ারসহ পেছনে পড়ে যাওয়া। গুলি অবশ্য মাথার ডান পাশ দিয়ে ঢুকে বাঁ দিকেই বেরিয়ে গেছে।

এর মধ্যে বাড়ির সবাইকে মোটামুটি জেরা করা শেষ। সবাই গুলির শব্দ পেয়েই ছুটে এসেছে। নিয়াজের চাচাতো ভাইদের মধ্যে সজল, আবুল আর মেহেদি। তাদের খুব একটা শোকগ্রস্ত মনে হলো না। যেন সম্পত্তির একজন ভাগীদার কমে যাওয়ায়ই তারা খুশি। মিতুও তাদের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না। ইন্সপেক্টর শরিফ শেষবারের মতো চোখ বোলালেন সুইসাইড নোটে।

‘লাশ তাড়াতাড়ি দাফন করাই তো ভালো। সকালে মারা গেছে। একটু পরে তো পচন ধরবে।’

কথাটা বলল সজল। প্রতিবাদ জানাল আবুল।

‘আত্মহত্যার কেইস। ময়নাতদন্ত হবে। সরকারি নিয়ম।’

‘তাই বলে এতক্ষণ...।’

‘আমার ভাইয়ের লাশ নিয়ে আপনাদের এত গবেষণা করতে হবে না!’ চাপা ক্ষোভ মিতুর কণ্ঠে।

‘ময়নাতদন্ত তো হবেই, সঙ্গে খুনের তদন্তও হবে।’ ভালো করে কেশে নিলেন ইন্সপেক্টর শরিফ। প্রশ্নবোধক চোখে তাকাল মিতু।

‘নিয়াজ সাহেব খুন হয়েছেন। আর সূত্র লুকিয়ে রেখেছেন সুইসাইড নোটে। খুনি আমি ধরেও ফেলেছি। তবে বিষয় হলো, যদি সে অপরাধ আগেই স্বীকার করে, সে ক্ষেত্রে শাস্তি কিছুটা কমও হতে পারে।’

 

এবার বলো খুনি কে? সূত্রটা কী?

উত্তর : এ সংখ্যার কোনো এক পাতায় পাবে উত্তর।

মন্তব্য