kalerkantho

হরর ক্লাব

খালপারের ছায়াসঙ্গী

সুনামগঞ্জ জেলার লালপুর গ্রামের একটি খাল। আসা-যাওয়ার পথে এখানে মাঝেমধ্যে একজন পথিকের দেখা পায় অনেকে। কিন্তু খালের কিছুদূরের জঙ্গলের কাছে যেতেই উধাও হয়ে যায় সেই পথিক। এলাকাবাসীর কাছ থেকে শোনা এ রকম কয়েকটি ভূতুড়ে অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালপারের ছায়াসঙ্গী

আঙ্কন ; মাসুম

খালটি নিয়ে ভূতুড়ে ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন অনেকে। গ্রীষ্মে শুকিয়ে যায়। তখন লোকজনের যাতায়াতও বাড়ে। বর্ষায় আবার ভরে যায় পানিতে। খাল থেকে একটু সামনে গেলেই গ্রামের মূল সড়ক। সড়কের পাশে জঙ্গল। সঙ্গে একটি স্কুলও আছে।

এলাকাবাসী মো. সোহাগ শোনালেন এক ঘটনা, ‘একদিন ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। সন্ধ্যার কিছু পর খালটির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। আশপাশে কেউ নেই। হালকা অন্ধকার। মনে হলো, আমার পাশ দিয়ে কে যেন হাঁটছে। তাকিয়ে দেখলাম একটা লোক। পরিচিত মনে হলো, যদিও চেহারা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল না। চুপচাপ হেঁটে গেলাম। কিছুক্ষণ হাঁটার পর জঙ্গলের পাশ দিয়ে মূল সড়কে উঠি। ওমা! তাকিয়ে দেখি লোকটি নেই। এদিক-সেদিক ভালো করে তাকালাম। লোকটিকে দেখতে পেলাম না। তারপর আরো বেশ কয়েকবার আসার সময় খালের কাছে এলে একজন লোক সঙ্গী হতো। খাল পেরোলেই আর খুঁজে পাওয়া যেত না।’

এ রকম ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন গ্রামের আরো অনেকে। এখন মূল সড়ক দিয়েই মানুষের যাতায়াত বেশি। খালের পার দিয়ে যাতায়াত কম। তাই ভূতুড়ে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীও কম। এলাকার ছাত্র আজির বললেন, ‘এক শীতের সকালে খালের পাশ দিয়েই খেজুরের রস নিয়ে বাড়ি আসছিলাম। কুয়াশা ছিল অনেক। হঠাৎ খেয়াল করি, আমার সামনে একজন লোক হেঁটে যাচ্ছে। পেছন থেকে দেখে গ্রামের লোক মনে হলো। আমাকে বলল, খেজুরের রস কোথা থেকে আনলে? আমি বলি, সামনের রাস্তার পাশের গাছের রস। এরপর আরো এটা-ওটা কথা হলো। কথা বলতে বলতে জঙ্গলের কাছে আসতেই সে থেমে গেল।

আমাকে বলল, তুমি হাঁটো, আমি আসছি। আমি আর তার চেহারার দিকে তাকাইনি। রাস্তায় উঠে দাঁড়ালাম; কিন্তু লোকটির আসার খবর নেই। পরদিন গাছির কাছে শুনলাম, রাস্তার পাশের খেজুরগাছের রস নেই। সব গাছে হাঁড়ি আছে, কিন্তু রস নেই। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেভাবে হাঁড়ি লাগানো ছিল, ঠিক সেভাবেই আছে। একটুও নড়চড় নেই।’

আরেক কলেজছাত্র তানজির শোনালেন এক ঘটনা, ‘একদিন বাজার থেকে দই নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। খালটির কাছে আসতেই কয়েকজন লোক দেখতে পেলাম। তাদের হাতেও মিষ্টির প্যাকেট ছিল। একেকজনের হাতে দু-তিনটি করে প্যাকেট। আমাকে জিজ্ঞেস করল—মেইন রোডে যাব কিভাবে। লোকগুলোকে অপরিচিতই মনে হয়েছিল। জঙ্গলের কাছে এলে লোকগুলোকে আর দেখতে পেলাম না। আমি ভয় পেয়ে যাই। এক দৌড়ে বাড়ি চলে যাই। পেছন থেকে কে যেন ডাকছিল আমাকে। স্পষ্ট শুনলাম, আমাকে বলল মিষ্টি খেলে এদিকে এসো! বাড়িতে গিয়ে দেখি আমার হাতে দইয়ের হাঁড়ি নেই। তার পর থেকে ওই খাল দিয়ে আর একা যাইনি কখনো। তবে এখন এ ধরনের ঘটনা খুব একটা শোনা যায় না।’

মন্তব্য