kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

শরীর ও মন

ওরে ঘাম এবার থাম

পরিচিত কারো বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে। বহুদিন পর অনেকের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দেখা হতেই বাড়িয়ে দিচ্ছে হাত। কিন্তু হ্যান্ডশেক করতেই অপর পক্ষের মুখ বেঁকে গেল। তোমার হাত ঘামে চপচপে। বারবার মুছেও কাজ হচ্ছে না। এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায়? জানাচ্ছেন স্যার সলিমউল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের ডা. চন্দন রায়

৩০ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওরে ঘাম এবার থাম

মডেল : তটিনী ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

শরীর প্রতিমুহূর্তে অতিরিক্ত তাপ বের করে দিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখে। আর এ প্রক্রিয়ায়ই তৈরি হয় ঘাম। কিন্তু অনেকে একটু বাড়তিই ঘামায়। চিকিত্সাবিজ্ঞানে এ সমস্যার একটা নামও আছে—হাইপারহাইড্রোসিস।

সমস্যাটা দুই রকম—

প্রাইমারি : এ ক্ষেত্রে রোগের কারণ জানা যায় না। তবে এ রোগে সাধারণত হাত-পায়ের তালু ও মুখ ঘামে।

সেকেন্ডারি : শরীরের অন্য কোনো সমস্যা বা অবস্থার জন্য এ ধরনের হাইপারহাইড্রোসিস হয়। এতে সারা শরীরই অতিরিক্ত ঘামে। এমনকি রাতে ঘুমের সময়ও বেশি বেশি ঘাম ঝরে। হাইপারথাইরয়ডিজম, স্থূলতা, দুশ্চিন্তা যদি করতে থাকো, তাহলে এ সমস্যা হতে পারে।

হাইপারহাইড্রোসিসের জন্য বেশ কিছু চিকিত্সা রয়েছে। চিকিত্সাগুলো প্রাইমারি হাইপারহাইড্রোসিসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সেকেন্ডারি হাইপারহাইড্রোসিসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রোগের (যেমন হাইপারথাইরয়ডিজম) চিকিত্সা করতে হয় আগে। পরে এমনিতেই ঘাম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

 

ঘাম থামানোর উপায়

অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট স্প্রে : এগুলো কসমেটিকসের দোকানেই পাওয়া যায়। বিভিন্ন কম্পানি বিভিন্ন নামে বাজারজাত করে। দাম ১৪০-২০০ টাকার মধ্যে। এগুলো হাত-পায়ের তালু ও ঘামের গ্রন্থিতে ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ঘাম বন্ধ হয়।

আয়নোটোফোরেসিস : এই প্রক্রিয়ায় নিম্নমাত্রার বিদ্যুত্প্রবাহের মাধ্যম ঘামগ্রন্থির নালি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে তিন-চার দিনের জন্য সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়া যায়। তারপর আবার আয়নোটোফোরেসিস করতে হয়। তবে ভালো ব্যাপার এই যে যন্ত্র কিনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ২০-৩০ মিনিট সময়ে বাসায়ই এটা করতে পারবে। যন্ত্রটা বাংলাদেশেই পাওয়া যায়। দাম পড়বে ছয়-সাত হাজার টাকা।

মিরাড্রাই : এ পদ্ধতিতে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে হাত-পায়ের তালু এবং অন্যান্য ঘামগ্রন্থি অকার্যকর করে দেওয়া হয়। তবে এর ক্ষতিকর দিকও আছে।

বটুলিনাম টক্সিন : এটি ব্যবহার করে চার-পাঁচ মাস অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে। তবে এরপর আবার প্রয়োগ করতে হবে।

সার্জারি : এর খটমটে নামটা হলো থোরাসিক সিম্প্যাথিকটমি। যাদের হাইপারহাইড্রোসিসের মাত্রা একটু বেশি, তাদের ঘাম ঝরা কমাতে এ সার্জারি করতে হয়।

 

পরামর্শ

♦    পাতলা ও সুতি কাপড় পরতে হবে।

♦    প্রতিদিন অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে গোসল করবে। কারণ ঘামের ব্যাকটেরিয়া থেকে দুর্গন্ধ হয়। গোসলের পর শরীর ভালো করে শুকাবে। তারপর অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট স্প্রে ব্যবহার করতে পারো।

♦    জুতা পরার আগে পা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। অবশ্যই শুকনো জুতা পরতে হবে। মোজা পরলে সেটা যেন পাতলা সুতি কাপড়ের হয়।

♦    পরিষ্কার স্থানে খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস কোরো। এর অন্য উপকারও আছে।

♦    ঝাল খাবার, গরম চা বা কফির মাত্রা কমাও। এগুলো শরীরে তাপ বাড়ায়।

♦    যাদের হাইপারহাইড্রোসিসের সমস্যা আছে, তাদের দুশ্চিন্তা না করাই ভালো। এতে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে।

♦    সমস্যা লাগামছাড়া মনে হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নাও।

     অনুলিখন : জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য