kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

ভাড়া মোটে ১ ডলার

জার্মানিতে আছে এমন এক আবাসন প্রকল্প, যেখানে অস্বাভাবিক কম ভাড়ায় থাকতে পারেন ভাড়াটেরা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ইশতিয়াক হাসান

১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাড়া মোটে ১ ডলার

বাড়ির ভেতরে মিলবে এমন চোখ জুড়ানো বাগানও

অগসবার্গ শহরের মাঝামাঝি অবস্থানে মিলবে ফাগারেই হাইজিং কমপ্লেক্স। ৫০০ বছরের পুরনো এই অ্যাপার্টমেন্টে ১৪২ জন মানুষের বাস। দালানগুলোও দেখতে বেশ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আর সংস্কারও করা হয়। তবে অবাক করা ব্যাপার হলো এখানকার অধিবাসীদের এক একটা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য গুণতে হয় ০.৮৮ ইউরো বা এক ডলার। অর্থাত্ মাত্র ৮০ টাকা!

এমনটা হওয়ার কারণ কী এ প্রশ্ন নিশ্চিত ঘুরপাক খাচ্ছে তোমার মনে। তা হলে কয়েক শ বছর পেছনে ফিরে যেতে হচ্ছে আমাদের। সেই সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি স্থানীয় ফাগার পরিবারের সঙ্গে। অগসবার্গে এরা বসতি গাড়ে ১৩৬৭ সালে। ব্যবসায়ী পরিবারটি খুব কম সময়ের মধ্যে শহরের ধনী পরিবারগুলোর একটি হয়ে ওঠে। পরের বছরগুলোতে ফুলেফেঁপে ওঠে বিত্ত বৈভব। টাকার পাশাপাশি প্রচুর জায়গা-জমিরও মালিক হয়। কিছু সামাজিক কাজেও হাত দেয় ওরা।

এই পরিবারের জ্যাকব ফাগার শহরের সবচেয়ে বিত্তশালী ব্যাংকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। জ্যাকব ফাগার দ্য রিচ নামেই পরিচিতি পেয়ে যান ভদ্রলোক। তবে যে শহর থেকে এত কিছু পেয়েছেন তার জন্য কিছু ফিরিয়ে দিতে চাইলেন জ্যাকব ফাগার। দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আবাসনের পরিকল্পনা করলেন। এটা ১৫২১ সালের কথা। একটা সামাজিক হাউজিং কমপ্লেক্স গড়ে তোলার জন্য জমি দান করলেন তিনি। তবে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিলেন বাসিন্দাদের। ওদের হতে হবে অগসবার্গের নাগরিক, ক্যাথলিক খ্রিষ্টান এবং হতে হবে মার্জিত ব্যবহারের অধিকারী। পাশাপাশি এখানকার বাসিন্দারা শপথ নিলেন নিয়মিত দাতা পরিবারটির জন্য প্রার্থনা করার। তা ছাড়া রাত দশটার পর খুব প্রয়োজন না হলে হাউজিং কমপ্লেক্সে আসা-যাওয়া বারণ। দশটার দিকে এর গেটও বন্ধ হয়ে যায়। এসব নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল হলেও বলবত আছে এখনও। তখন প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া নির্ধারণ করা হয় বার্ষিক ১ রেনিশ গিল্ডার (চৌদ্দ-পনেরো শতকের দিকে প্রচলিক সোনালী মুদ্রা)। জ্যাকব ফাগার একটা প্রতিষ্ঠান গড়েন আবাসিক এলাকাটির খরচ নির্বাহের জন্য। ওই ট্রাস্ট এখনো এর দেখভাল করে চলেছে।

ত্রিশ বছরের যুদ্ধ (থারটি ইয়ারস ওয়ার) আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই প্রজেক্টের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কিন্তু পরে যে শুধু এর সংস্কার হয় তা নয়, সংযোজনও হয়। ভাড়াও থেকে যায় সেই আগের মতোই।

ওই রেনিশ গিল্ডারের মান এখন দশমিক ৮৮ ইউরো বা এক ডলার। আর এ ভাড়াতেই থাকেন এর বাসিন্দারা। ৪ ইউরোর বিনিময় পর্যটকরা এলাকাটি ঘুরেও দেখতে পারেন, আর ছোট্ট ফ্ল্যাটগুলোর ভেতরটা কেমন তা দেখাবার জন্য ঠিক সেরকম করে একটি জাদুঘরও আছে।  অর্থাত্ এখানকার কোনো বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পারলেও পর্যটকরা ওই জাদুঘরে ঢুকেই বুঝে যাবেন অন্দরমহল দেখতে কেমন।

মন্তব্য