kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

টিন তারকা

এ বছরের ‘গানের রাজা’ চ্যাম্পিয়ন খুলনার ফাইরুজ লাবিবা। পড়ছে সরকারি করোনেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে। এর মধ্যেই তার প্রতিভার ঝলক মুগ্ধ করেছে সবাইকে

২৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিন তারকা

মানুষকে হাসাতে পছন্দ করি, হাসেন দেখি একটু!

রিয়ালিটি শোর নাম ‘গানের রাজা’। তুমি কি তবে গানের রানি হয়ে গেলে?

লাবিবা : নাহ! আমি গানের রাজাই। আমরা সবাই ভাই ভাই, আমরা সবাই এক। এটা আমাদের স্লোগান। তবে গানের রানি টাইটেলটাও মন্দ না।

 

গান শুরুর গল্প?

লাবিবা : আরো ছোট থাকতে আমি নাকি অনেক জেদি ছিলাম। আমার আপু ফাইরুজ মালিহা যখন গান শিখত, তখন স্যার আমাকে ডাকলেও আমি যেতাম না। আমার প্রথম গানের শিক্ষক আজিজুর রহমান স্যার। তাঁর হাতেই গানে আমার পথচলা শুরু। ২০১৩ সালে আমার আপু যখন ক্ষুদে গানরাজ চ্যাম্পিয়ন হলো, তখন আমার আগ্রহ বেড়ে গেল। আপুর মতো গানরাজ না হলে তো হচ্ছে না! লাগলাম কোমর বেঁধে।

 

গানের রাজার কোনো মজার ঘটনা?

লাবিবা : সেরা পাঁচে আমরা চারজনই মেয়ে ছিলাম। ওই কয়দিনের জন্য আমরা চারজন মিলে একটা ব্যান্ডও তৈরি করি। নিজেরা বানিয়ে বানিয়ে গান গাইতাম। রাতে গল্প করতাম। আমাদের দেখাশোনা করতেন হালিমা আপু। রাতে আপু যখন দেখতে আসতেন, তখন ঘুমের অভিনয় করতাম। আপু চলে গেলে গল্পের হিড়িক পড়ে যেত। এ ছাড়া গ্রুমারদের সঙ্গে লুকোচুরি, কানামাছিও খেলেছি। পুরোটা সময়ই মজায় কেটেছে।

 

চ্যাম্পিয়ন তো হয়েই গেলে, সুতরাং আর না গাইলেও চলবে?

লাবিবা : গান একবার শুরু হলে আর থামে নাকি! এখনো আজিজুর রহমান স্যারের কাছে তালিম নেওয়া চলছে।

 

গানের পাশাপাশি কী করো?

লাবিবা : সব কিছুর আগে লেখাপড়া, তারপর গান। গানের পাশাপাশি নাচ, আবৃত্তি, ছবি আঁকা—এসব চলছে। খুলনা বেতারে উপস্থাপনাও করি। তবে মানুষকে হাসাতে বেশি পছন্দ করি, হাসেন দেখি একটু! আপনার হাসিতে কোনো সমস্যা আছে কি না দেখি!

 

এই, সেরেছে! তুমি দেখি হাসির ডাক্তার।

লাবিবা : হা হা হা হো হো হো।

 

আলাদিনের চেরাগ পেলে কী চাইবে?

লাবিবা : চেরাগ পেলে সারা পৃথিবী একবার ঘুরে আসতে চাইব। আর একবার হলেও চাঁদে নিয়ে যেতে বলব।

 

এর জন্য চেরাগ লাগবে? নাসায় চাকরি করলেই তো হয়।

লাবিবা : হুমম! তাহলে তো বিজ্ঞানে এক শ কেজি ওজনের একটা ডিগ্রি লাগবে। ঠিক আছে, আজ থেকে বিজ্ঞানী হওয়ার মিশন শুরু।

 

স্কুলের বন্ধুরা কী নামে ডাকে?

লাবিবা : স্কুলের বন্ধুরা লেবু বলে ডাকে।

 

আম, জাম, কাঁঠাল থাকতে লেবু কেন?

লাবিবা : লাবিবা থেকে লাবু। এরপর লাবু থেকে লেবু। ভবিষ্যতে লিবু হয় কি না দেখার অপেক্ষায় আছি।

 

রাস্তায় বের হয়ে হঠাত্ দেখলে হাজার হাজার ভক্ত অটোগ্রাফের অপেক্ষায়।

লাবিবা : প্রথমে অটোগ্রাফ দিতে থাকব। পরে চালাকি করে বলব, ‘ভাইসব, অটোগ্রাফের দিন শেষ, এখন ফটোগ্রাফের দিন। আসুন একসঙ্গে সবাই একটা সেলফি তুলি।’

 

কী করতে ভালো লাগে?

লাবিবা : লেখাপড়া, গান—আপাতত এগুলোই ভালো লাগে। তবে আম্মু ও আপুর সঙ্গে মজা করতে বেশি ভালো লাগে। আপুর সঙ্গে ঝগড়া না করলে দিনটা পানসে হয়ে যায়।

 

আর যা করতে ভালো লাগে না?

লাবিবা : কারো নামে খারাপ কিছু বলতে ও শুনতে ভালো লাগে না। টিভি দেখতেও ভালো লাগে না।

 

গায়িকা তো হয়েই গেছ, আর কী হবে?

লাবিবা : প্রকৌশলী হব। বিজ্ঞান আমার পছন্দের বিষয়। গান ও প্রকৌশলবিদ্যা—দুটির সঙ্গেই নির্মাণের একটা সম্পর্ক আছে।

     সাক্ষাত্কার নিয়েছেন জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য