kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

রহস্যজট

স্বরলিপির জন্য খুন

আশিকুর রহমান

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বরলিপির জন্য খুন

অঙ্কন : মাসুম

পুরো ঘরে চোখ বুলালেন ইন্সপেক্টর রাফায়েত। তল্লাশির জন্য বিখ্যাত রাফায়েতের চোখ। একটা সুতাও বাদ পড়ে না। টেবিলের ওপর মদের গ্লাসটা খালি। উপুড় হয়ে পড়ে আছে ইমরোজ চৌধুরীর লাশ। মারা গেছে এক কি দুই ঘণ্টা হয়েছে।

খালি বোতল। মদের বোঁটকা গন্ধ ভাসছে চারদিকে। চেয়ারের পাশেই একটা নোটবুক। একটা কলম আর একটা শুকনো ভারী ন্যাকড়া। আলনায় ভাঁজ করা কিছু জামাকাপড়। তবে সেগুলো একেবারে পরিপাটি করে গোছানো। নোটবুক ওল্টালেন ইন্সপেক্টর রাফায়েত। তাতে কিছু স্বরলিপি লেখা। তবে অনেকগুলো পাতা ছেঁড়া। এক বর্ণও বুঝলেন না সারেগামার।

ইমরোজের আলুথালু কেশ। কুঁচকানো পাঞ্জাবি। বাঁ হাতের তালুতে শক্ত করে চেপে আছেন মোবাইল ফোন। হোটেলরুমে মরে পড়ে থাকা লাশগুলো যেন এমনই হয়।

দরজার পাশে থুতনি চেপে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন ইমরোজের বন্ধু মোকারম। গত রাতে একসঙ্গেই মদ গিলেছেন দুজন। দুজনই শিল্পী। আলাপ হচ্ছিল একটা নতুন গানের সুর নিয়ে। হোটেলবয় ঝগড়াঝাঁটি শুনেছে। তবে খুনোখুনি হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি নাকি। তা ছাড়া খুন করবেই বা কী করে। আকণ্ঠ মদ গিলে বমি করতে করতেই নাকি মরে গেছে লোকটা। এমনটাই দাবি মোকারমের।

‘বমি করল প্রথমে হড়হড় করে। আমি ভাবলাম, স্বাভাবিক ঘটনা। পরে উল্টাপাল্টা বকাবকি করল। বুকেও নাকি ব্যথা হচ্ছিল খুব। আর সত্যি বলতে কি, আমি নিজেও খেয়েছি। তবে মাতাল হইনি।’

‘তারপর?’

‘এরপর ওকে চেয়ারে ধরে এনে বসালাম। মেঝেটা ন্যাকড়া দিয়ে মুছলাম। এরপর কিছুক্ষণ ওয়াক ওয়াক করল। তবে বমি হলো না। আমি তাড়াতাড়ি ডাক্তারকে ফোন দিতে গিয়ে দেখি ফোনে ব্যালেন্স নেই। হোটেলবয়দের ডাকলাম। ওরাও আসতে দেরি করল। তারপর ওকে ধরাধরি করে ওঠানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু শরীরটা বেশ ভারী। আমি তুলতেই পারলাম না। আসলে মদ খেয়ে আমার নিজের শরীরটাও...।’

ইন্সপেক্টর রাফায়েত ঘরের প্রতিটি জিনিস আবার ঘুরেফিরে দেখলেন। জানালার পর্দা লাগানো। ওপাশ থেকে কিছু দেখা যায় না।

‘জি, আমরা আসলে দুজনই মিউজিশিয়ান। একটা সুর নিয়ে কাজ করছিলাম। ইমরোজ কী যেন একটা সুর বের করেছে, আমাকে শোনালোই না। পরে মাতাল অবস্থায় পাতাগুলো ছিঁড়ে ওটা গিলেই ফেলল।’

‘হুম। কিন্তু আমার তো ধারণা, সেটা আপনার পকেট সার্চ করলেই পাওয়া যাবে। ভালো একটা সুর মানে অনেক বড় তারকাখ্যাতি। আর তারকা মানেই তো কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। এর জন্য বন্ধুকে জোর করে মদ গিলিয়ে খুনটুন করাই যায়, কী বলেন মোকারম সাহেব?’

ইন্সপেক্টর কী করে বুঝলেন, মোকারমই জোর করে মদ গিলিয়ে খুন করেছে ইমরোজকে?

 

গত রহস্যজটের উত্তর

উত্তর : খুনি হতে পারে ফরহাদ হোসেনের ভাইয়ের ছেলে নুরুল আলম। কারণ সে বলেছে, কাজের ছেলেকে চা হাতে ঢুকতে দেখেছে সাতটায় এবং ঘণ্টাখানেক ছিল সে। ঘণ্টাখানেক থাকলে চায়ের কাপটা গরম থাকত না। সিয়াম যা খেয়াল করেছে।

মন্তব্য