kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

ধারাবাহিক উপন্যাস

বান্দরবানের জঙ্গলে

মোস্তফা কামাল

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



বান্দরবানের জঙ্গলে

অঙ্কন : মানব

গত সংখ্যার পর

রঞ্জন সবার আগে নামল। চিতা দুটি ধারে-কাছে নেই। এর মধ্যে ফটকুমামা ও সঞ্জয় নিচে নামল। বনের ভেতরে এগিয়ে চলল। কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর ফটকুমামা দেখেন, রাস্তার মাঝে বিশাল দুটি সাপ ফণা তুলে মারামারি করছে। সামনে আগানোর পথ নেই। সবাই দাঁড়িয়ে সাপের মারামারি দেখছে। ফোঁস ফোঁস শব্দে গা শিউরে উঠছে প্রত্যেকের।

রঞ্জন বলে—মামা, সাপ দুটি পাগলা হয়েছে। এর ধারেকাছে থাকা ঠিক না। কখন এসে ছোবল মারে!

সঞ্জয়ও বলল, কিছুক্ষণ দূরে সরে থাকি। মারামারি শেষ হলে যাই।

ফটকুমামা ধমকের সুরে বললেন, তোমরা কিসের পালোয়ান হয়েছ হে! দাঁড়াও! ওরা টায়ার্ড হয়ে গেছে। এখনই বিদায় নেবে।

ফটকুমামার কথামতো তিনজন অপেক্ষা করতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাপ দুটি দুই দিকে চলে গেল।

ফটকুমামা হাঁটতে শুরু করলেন। পেছনে পেছনে রঞ্জন ও সঞ্জয়। ফটকুমামা মনে মনে ভাবলেন, জনমানবহীন এই বিশাল বনে ছেলেগুলোকে কোথায় খুঁজি!

হাঁটতে হাঁটতে পা ধরে গেছে। রঞ্জন ও সঞ্জয়ের কাঁধে ভর দিয়ে হাঁটতে শুরু করলেন মামা। কিছুক্ষণ হাঁটার পর সঞ্জয় বলল, মামা একটু জিরিয়ে নিই?

রঞ্জনও সঞ্জয়ের কথায় সায় দিল।

ফটকুমামা বললেন, আচ্ছা চল ওই গাছের নিচে বসি। কিছু খেয়ে নিই। আচ্ছা, তোমরা ফল নিয়ে এসেছ না?

রঞ্জন বলল, জি মামা। এই নিন।

ফটকুমামা ঢক ঢক করে পানি গিললেন। তারপর আপেল। রঞ্জন ও সঞ্জয় খেল আঙুর। অল্প অল্প করে অন্য ফলও খেল। খাওয়া শেষ করে ফটকুমামা বলেন, চলো এবার যাই।

সঞ্জয় করুণ সুরে বলে, আর কত দূর মামা?

দেখি না! ছেলেগুলো কোথায় আছে।

রঞ্জন বলল, এত দূর আসার পরও তো দেখছি না।

ফটকুমামা বললেন, ভালো করে খুঁজতে হবে! আমার কেন জানি মনে হয়, শিগগিরই দেখা হবে।

ফটকুমামা হাঁটছেন। অপু-রাজনদের কথা ভাবছেন। ওরা কোথায় আছে! কী করছে!

হঠাৎ এক কাঠুরিয়ার সঙ্গে দেখা। এক কাঁধে কাঠ অন্য কাঁধে কুড়াল। মাঝবয়সী। সুঠাম দেহ। রোদে পোড়া বৃষ্টিতে ভেজা ঝামা ইটের মতো শরীর। মাথায় গামছা বাঁধা। পরনের কাপড়টা আধাআধি করে কোমরে বাঁধা। ফটকুমামা লোকটার সামনে দাঁড়ালেন।

এই যে ভাই! এখানেই থাকেন?

দূরে পাহাড়ের ঢালে একটা বাড়ি। লোকটা আঙুল উঁচিয়ে বাড়ি দেখাল।

কাঠ কাটতে আসেন?

মাঝেমধ্যে। আপনি কী জন্য আসছেন?

পাঁচটি ছেলের সন্ধানে এসেছি। চোখে পড়েছে?

দূর থেকে দেখছি কয়েকটা ছেলে ওই দিকে যাচ্ছে। ওদের যে বারণ করব তা হয়ে ওঠেনি।

কেন বারণ করতে চেয়েছিলেন?

এই পাহাড় বন্য প্রাণীতে ভর্তি। যেকোনো মুহূর্তে আক্রমণ করে বসতে পারে।

আপনি যে কাঠ কাটতে এলেন?

যাই, আমার আবার দেরি হয়ে যাবে। আমার যাওয়ার রাস্তা দিয়ে বন্য হাতির দল যায়। সাবধানে পার হতে হয়। কত দূর যাইবেন?

দেখি কত দূর যাওয়া যায়।

ওই দিকে একটা সুড়ঙ্গ আছে। সাবধান, ভুলেও সুড়ঙ্গে ঢুইকেন না। তাহলে কিন্তু বাঁচতে পারবেন না।

কেন?

ওই সুড়ঙ্গে একবার যে ঢুকছে সে আর বের হয় নাই।

কী আছে ওই সুড়ঙ্গে?

জানি না।

ওই ছেলেগুলো যদি সুড়ঙ্গে ঢোকে!

তাহলে ওদের আশা না করাই ভালো।

বলেন কী!

হুম! ওই সুড়ঙ্গ একটা মরণফাঁদ। আপনারাও বাঁচতে চাইলে চলে যান। অবশ্য আমার কথা শোনা না শোনা আপনাদের ব্যাপার।

লোকটা দাঁড়ালো না। হন হন করে চলে গেল। ফটকুমামা কিছু বলতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু তার আগেই লোকটা অনেক দূরে চলে গেল। ফটকুমামা ভাবেন, সুড়ঙ্গে ঢুকবেন কি ঢুকবেন না। তারপর আবার সামনে পা বাড়ান।

 

ষোলো.

অপুর ঘুম ভাঙল। ভীষণ দুর্বল। দুই দিন না-খাওয়া। পিপাসায় গলা শুকিয়ে কাঠ। কিন্তু পানি কোথায়!

অপু মনোবল শক্ত করে। ওঠার চেষ্টা করে। অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়ায়। টর্চ জ্বালিয়ে ভালো করে দেখে। একটি পানির কল চোখে পড়ে। ব্যাগ থেকে বোতল বের করে আস্তে আস্তে কলের কাছে যায়। কলের মুখে ধরা মাত্র পানি পড়তে শুরু করে।

অপু মহা আনন্দে ঢক ঢক করে পানি খায়। পানি খাওয়ার পর স্বস্তি অনুভব করে। শরীরটাও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। তারপর বোতলটা নিয়ে যায় রাজনদের কাছে।

রাজন, রাজন! এই রাজন!

রাজন হালকা নড়াচড়া দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। অপু আবার ডাকে। অনবরত ডাকতে থাকে। রাজন চোখ খোলার চেষ্টা করে। কিছুতেই চোখ খুলতে পারছে না। আরো অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর চোখ খোলে। অপু পানির বোতল এগিয়ে দিয়ে বলে—ধর, খা। ভালো লাগবে।

রাজন আস্তে আস্তে হাত বাড়ায়। কয়েক ঢোক গিলে। এবার মুহিতকে ডাকে অপু। সাড়া নেই। মড়ার মতো পড়ে আছে। এই রাজন, দেখ না মুহিতের কী হলো! ও এভাবে পড়ে আছে!

রাজনও মুহিতকে ডাকে। মুহিত শুনছিস? চোখটা খোল? এই যে! আমাদের দিকে তাকা!

মুহিত নড়াচড়া করলেও চোখ খোলে না। অপু ও রাজনের মাথায় বুদ্ধি চাপে, পানি খাওয়াতে পারলেই চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

অপু আবারও মুহিতকে ডাকে, মুহিত ওঠ! মুহিত কষ্ট করে চোখ খোলে। নিচু স্বরে বলে, একটু পানি দিবি?

আরে পানি খাওয়াতেই তো তোকে ডাকছি!

অপু দ্রুত মুহিতের সামনে বোতল এগিয়ে দেয়। মুহিত পানি খায়। একইভাবে রনি ও রুবেলও পানি খেল। দুজন একটু বেশি কাবু হয়ে পড়েছিল। রুবেল বলে, আমরা কোথায়?

অপু বলে, গুহার ভেতরেই আছি।

রুবেল বিস্ময়ের সঙ্গে বলে, কী বলিস! বাঁচব কী করে!

নিশ্চয়ই বাঁচব। অপু বলল।

রনি বলল, এখান থেকে বের হব কী করে? কে সাহায্য করবে?

গুহার মধ্যে যখন পানি পাওয়া গেছে, তখন আর চিন্তা নেই।

আসলেই! অপু কোথায় পানি পেয়েছিস! রাজন বলল।

ওই যে সামনে। খুঁজতে খুঁজতে পানি পেয়ে গেলাম।

বাহ! তুই আসলেই জিনিয়াস! পানিটুকু না খেলে কী যে হতো!

ধন্যবাদ। আচ্ছা শোন, আরেকটু সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব? অপু বলল।

কেন? রাজন জানতে চাইল।

আমরা কিন্তু গুপ্তধনের একেবারে কাছে।

রাখ তোর গুপ্তধন! জীবন বাঁচে না; গুপ্তধন দিয়ে কী করব? এখন বের হই। তুই বরং আরো দুই বোতল পানি নিয়ে আয়। পানি খেয়ে জীবনটা বাঁচাই।

রাজনের সঙ্গে সবাই একমত পোষণ করল। অপু কিছুতেই শেষ না দেখে যাবে না। অনুনয়-বিনয় করে বলল, তোরা তাহলে এখানেই থাক। আমি শেষ চেষ্টাটুকু করি।

রুবেল বলল, তোর যা খুশি কর। আমাদের আর অনুরোধ করিস না।

অপু মন খারাপ করল। একা একাই পা বাড়াল। রাজন ও মুহিত একসঙ্গে বলল, প্লিজ অপু! আমাদের কথা এবার শোন।

অপু কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। সামনে যাবে কি না ভাবে। ওর মন বলে, এগিয়ে যাও অপু! এগিয়ে যাও! অবশ্যই গুপ্তধন পাবে!

অপু সবার বাধা উপেক্ষা করে পা বাড়ায়। পেছনে পেছনে এগিয়ে যায় রাজন, মুহিত। তারপর পা বাড়ায় রুবেল ও রনি। কিছুদূর যাওয়ার পরই দেখে, আলো ঝলমলে সুন্দর একটি ঘর। সেই আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছিল। একেবারে ঘরটার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। চোখে পড়ল হীরা, মণিমানিক্য।

এর মধ্যেই ঝড় শুরু। সুড়ঙ্গের মধ্যে এমন ঝড় কী কারণে, বুঝতে পারে না। ঝড়ের তোড়ে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। কিছুক্ষণ পর আর কিছুই টের পায় না ওরা।

সতেরো.

ফটকুমামা সুড়ঙ্গের সামনে এসে দাঁড়ালেন। ভেতরে ঢুকবেন কি না চিন্তা করেন। রঞ্জন ও সঞ্জয়ের কাছে জানতে চাইলেন, কী বলো? সুড়ঙ্গে ঢোকা ঠিক হবে?

চিন্তা করে দেখেন মামা। আপনি ঢুকতে চাইলে আমাদেরও যেতে হবে। সঞ্জয় বলল।

শোনো, আমার ধারণা, ওরা সুড়ঙ্গে ঢুকেছে। এই জঙ্গলে শুধু শুধু ঘোরার জন্য ওরা আসেনি।

তাহলে আর চিন্তা না করে ঢুকে পড়ি। আমরা তো ওদের খুঁজে বের করতেই এসেছি! খামাখা জঙ্গলে ঘুরে লাভ নেই।

ফটকুমামা সুড়ঙ্গের ভেতরে পা রাখলেন। টর্চ জ্বালিয়ে এগোচ্ছেন। সঙ্গে রঞ্জন ও সঞ্জয়। সাবধানে পা ফেলছেন। দুই সঙ্গীকেও বললেন, সাবধান! ভয়ংকর অন্ধকার। জেনেশুনে বিপদের মধ্যে ঢুকছি। টর্চলাইট প্রতারণা করলেই বিপদ।

মামা! আমরা সতর্ক!

ফটকুমামা বললেন, এই শোনো, তোমাদের দুজনের কাছেই তো টর্চ।

রঞ্জন বলল, জি মামা।

হাতে রেখো। আমারটা নিভে গেলে তোমাদেরটা জ্বালাবে।

রঞ্জন ও সঞ্জয় ব্যাগ থেকে টর্চ বের করে হাতে রাখল। কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর চারদিক থেকে ভয়ার্ত কিছু শব্দ ভেসে আসতে শুরু করল। রঞ্জন ও সঞ্জয় ফটকুমামার দুই হাত ধরল। ভয়ে কাঁপছে। পা ফেলতে পারছে না। কাঁপা কাঁপা গলায় রঞ্জন বলল, মামা কোথায় এসেছি!

ফটকুমামা বললেন, ভয় পেয়ো না। ভয় পেলে আরো ভয়ানক শব্দ কানে আসবে। অভিযান সফল না হলে মান-ইজ্জত যাবে। সঞ্জয় বলল, মামা! আর হাঁটতে পারছি না।

হাঁটতে হবে। সর্বশক্তি দিয়ে!

মামা, পা ব্যথা করছে। মনে হয় পেছন থেকে রগে টান পড়ছে!

ওসব বোলো না তো! কিছু হয়নি। মনের জোর বাড়াও।

রঞ্জন বলল, মামা আমার হাঁটুতে ভীষণ ব্যথা।

রঞ্জন, ইয়াং বয়সে আবার ব্যথা কিসের? আগে ব্যথা ছিল?

জি না, মামা।

তাহলে এখন ব্যথা কোত্থেকে এলো?

জানি না। সত্যি সত্যি ব্যথা, মামা। আমার হাঁটতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

হঠাৎ ফটকুমামা সামনের দিকে তাকিয়ে দেখেন, বিশাল আকারের দুটি বাজপাখি উড়ে আসছে। বাজপাখির চোখ দুটি টকটকে লাল। অন্ধকারে যেন আগুন ঝরছে। ফটকুমামা বাকিদের বললেন, তোমরা চোখ বন্ধ করে একপাশে দাঁড়াও। খবরদার, চোখ খুলবে না।

সঙ্গে সঙ্গে দুজন চোখ বন্ধ করে দাঁড়ালো। ফটকুমামাও ওদের পাশে সবে পা রাখলেন। ঠিক তখনই বাজপাখি ভয়ংকর শব্দ করে; শাঁ শাঁ করে উড়ে চলে গেল। সঞ্জয় ও রঞ্জন চিৎকার দিয়ে উঠল। ফটকুমামা দুজনের কাঁধে হাত রাখলেন। ভয়ে কাঁপছে সবাই। সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ভয় পেয়ো না। আমি আছি এখনো!

ভয়ে ভয়ে সঞ্জয় বলল, মামা ওটা কী গেল?

বাজপাখি।

বাজপাখি এমন ভয়ংকর!

হুম। চলো এবার। বিপদ কেটে গেছে।

ফটকুমামা হাঁটতে শুরু করলেন। তাঁকে অনুসরণ করে রঞ্জন ও সঞ্জয়।

হঠাৎ ফটকুমামার টর্চ বন্ধ হয়ে যায়। ঘুটঘুটে অন্ধকার। রঞ্জন ও সঞ্জয়কে বললেন, তোমাদের টর্চলাইট কোথায়!

রঞ্জন ও সঞ্জয় বলল—মামা, আমাদেরটা জ্বলছে না।

বলো কী! আগাব কী করে।

এর মধ্যে চারদিক থেকে ভয়ানক শব্দ আসতে থাকে। রঞ্জন ও সঞ্জয় থর থর করে কাঁপছে। দুই পাশ থেকে ফটকুমামার হাত ধরে থাকে ওরা। একপর্যায়ে রঞ্জন বলে, মামা এখন কী হবে!

ফটকুমামা বলেন, চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকো। দেখি কী করা যায়।

ফটকুমামা টর্চলাইটের কোনো সমস্যা হলো কি না বোঝার চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই লাইট জ্বলে ওঠে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়েন। সামনের দিকে পা বাড়ান। রঞ্জন ও সঞ্জয়ও এগিয়ে যায়। হঠাৎ দূর থেকে আসা এক আলোক রশ্মি চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। নিভে যায় টর্চের আলো। আরো এগিয়ে যায় তারা। আলো ঝলমলে ঘর!

ফটকুমামা বিস্ময়ের সঙ্গে বলেন, সুড়ঙ্গে এমন আলো ঝলমলে ঘর!

আরো কয়েক কদম এগিয়ে যাওয়ার পর ফটকুমামা বিস্ময়ে বলেন, এই দেখো দেখো! এরা সেই স্কুলছাত্র না!

রঞ্জন বলল, হ্যাঁ মামা।

ফটকুমামা বললেন, এভাবে মরার মতো পড়ে আছে কেন! ধরো ধরো! নিয়ে চলো।

রঞ্জন বলল, একটু দেখি ঘরটার মধ্যে কী আছে?

ফটকুমামা বললেন, কোনো দরকার নেই। যাদের খুঁজতে এসেছি; তাদের পেয়ে গেছি। এদের নিয়ে তাড়াতাড়ি চলো। রঞ্জন তোমার কাছে পানির বোতল আছে না!

জি, মামা।

দাও তো!

রঞ্জন ব্যাগ থেকে বোতল বের করে ফটকুমামার হাতে দিল। ছেলেগুলোর চোখেমুখে পানি ছিটিয়ে দিলেন। না! কেউ চোখ খুলছে না! পাল্্স আছে কি না দেখলেন। বেঁচে আছে। ডেকে তোলার চেষ্টা করলেন। পারলেন না। ফটকুমামা হা-হুতাশ করছেন। একপর্যায়ে বললেন, এই রঞ্জন, ধরো তো! আমরা ওদের নিয়ে বের হই।

ফটকুমামা দুজনকে, রঞ্জন দুজনকে এবং সঞ্জয় একজনকে ধরল। সঞ্জয়ের হাতে টর্চলাইট দিয়ে সামনে হাঁটতে বললেন ফটকুমামা। তারা পেছনে পেছনে। অনেকটা পথ এগিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ এক কিশোর পানি পানি বলতে লাগল। কিছুক্ষণ পর অন্যরাও।

ফটকুমামা আনন্দে আত্মহারা। ওরা বেঁচে আছে! ওরা বেঁচে আছে!    

 

(সমাপ্ত)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা