kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

অবাক পৃথিবী

খেলা ভয়ংকর!

৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



খেলা ভয়ংকর!

পানির খেলা ওয়াটার জাউস্টিং

একালের খেলা মানে শরীর-মন ভালো করার বিনোদন। আগের দিনে এমনও খেলা ছিল, যেগুলোতে প্রাণটা হাতের মুঠোয় নিয়ে নামতে হতো মাঠে। এমনই কিছু প্রাচীন লোমহর্ষক খেলার কথা জানাচ্ছেন এফ এ নাসের

 

রাগ নিয়ে রাগবি

প্রাচীন রোমানদের খেলা হারপ্যাসটাম। ষোড়শ শতকের দিকে ওই হারপ্যাসটাম থেকে উদ্ভব হয় আরেক খেলা ক্যালসিও ফিওরেনতিনো। দেখতে অনেকটা এ কালের রাগবির মতো। পার্থক্য হলো, রাগবিতে অনেক নিয়ম-কানুন আর নিরাপত্তার পোশাক থাকলেও ফিওরেনতিনো খেলায় এর কোনোটিই নেই। বলটাকে মাটিতে না ছুঁইয়ে যেকোনো মূল্যে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে ঢোকালেই হলো। প্রতিপক্ষকে লাথি, ঘুষি মেরে আধমরা করে হলেও বলটাকে নিজের কাছে রাখা চাই। প্রতিটি দলে খেলোয়াড় থাকত ২৭ জন করে। সুতরাং বুঝতেই পারছ, ওই সময় রোমের মাঠে কেমন যুদ্ধ চলত। যুদ্ধের আমেজ আনতেই বোধ হয় এ খেলায় প্রতিটি গোলের পর একবার করে কামান দাগানো হতো।

ঘোড়ার গাড়ির রেস

রোমানদের আরেক ভয়ানক খেলা শ্যারিয়ট রেসিং। ওই সময়কার ফর্মুলা ওয়ান রেসিং বলতে পারো এটাকে। ঘোড়ার গাড়ির এ রেসিং দেখতে যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, খেলাটা ছিল মারাত্মক। রেস করতে নেমে দু-একজন মারা যেতই। শুধু ঘোড়ার পিঠে চড়ে রেস করলে একটা কথা ছিল, এ খেলায় তিন-চারটা ঘোড়া দিয়ে চালানো হতো কাঠের তৈরি একটা গাড়ি। ঘোড়াগুলো তাল সামলাতে না পারলে কিংবা অন্য কোনো ঘোড়ার বহরের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধলেই গাড়িটা চুরমার হয়ে যেত। ভয়ানক দুর্ঘটনায় পড়ত চালক। রোমে এ খেলার জন্য রাজকীয় একটা ট্র্যাক ছিল। যার নাম সাইরাস ম্যাক্সিমাস। এ ট্র্যাকের আশপাশে মোট দর্শক থাকত দেড় লাখের মতো। খেলা যতই মারাত্মক হোক না কেন, রোমানদের প্রিয় খেলা ছিল এটি। আর জনপ্রিয়তার বলি হতো শ্যারিয়টিয়ার ওরফে গাড়ির সেই কোচওয়ানরা। একবার এক জরিপে দেখা গিয়েছিল, শ্যারিয়ট রেসারের চালকদের গড় আয়ু ছিল মাত্র ২২ বছর। ১৯২৬ সালের সিনেমা বেনহুরে এ খেলার একটি দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়েই মারা গিয়েছিল এক স্টান্টম্যান ও পাঁচটি ঘোড়া।

 

জলে যুদ্ধ

খেলার আধুনিক নাম ওয়াটার জাউস্টিং। এখনো কিন্তু এটি খেলা হয়। দুই নৌকায় দুজন খেলোয়াড় থাকে। প্রত্যেকের হাতে থাকে ঢাল ও লম্বা একটা লাঠি। কয়েকজন মিলে নৌকা চালায়। আর নৌকার সামনের দুজন করে যুদ্ধ। লাঠি দিয়ে গুঁতো দিয়ে প্রতিপক্ষকে পানিতে ফেলে দিতে পারলেই জয়। কিন্তু প্রাচীনকালে আফ্রিকার উত্তর-পূর্বে বয়ে চলা নীল নদে যখন এ খেলার শুরু, তখন এটা মোটেও মজার কোনো খেলা ছিল না। ওই সময় ঠিক একই কায়দায় জেলেরা খেলত এ খেলা। ছিল না কোনো নিয়ম। প্রতিপক্ষকে যেভাবে খুশি আক্রমণ করে নদীতে ফেলে দিতে মরিয়া হয়ে উঠত নীলের জেলেরা। পানিতে পড়ে গেলে ওই জেলের ভাগ্য নির্ভর করত আশপাশে থাকা জলহস্তী ও কুমিরের ওপর। সপ্তদশ শতকে ফ্রান্সের দক্ষিণে এটি প্রথম খেলা হিসেবে জনপ্রিয় হয়।

যেমন খুশি তেমন মারো

এখনকার রেসলিং, বক্সিং আর মার্শাল আর্টের পূর্বপুরুষের নাম প্যানক্রেশন। প্রাচীন গ্রিসে এর উৎপত্তি। হাজার বছর আগে যে অলিম্পিক হতো, তাতেও খেলা হতো এই মরণপণ খেলা। রেসলিং ও বক্সিংয়ের মতো একটা নির্দিষ্ট পরিসর থাকলেও যথারীতি ছিল না নিয়ম-কানুনের ছড়াছড়ি। নিয়ম বলতে শুধু কামড় দেওয়া যাবে না ও চোখে আঙুল ঢোকানো নিষেধ। বাদবাকি সবই চলত। মারামারি একবার শুরু হলে থামাথামির জো ছিল না। হয় প্রতিপক্ষ মরবে, না হয় মার খেতে খেতে একপর্যায়ে তর্জনী ওপরের দিকে তুলে আত্মসমর্পণ করবে। আবার প্রতিপক্ষের হাঁটু ভেঙে দিতে পারলেও মিলত জয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিরতিহীন মারামারি চলত প্যানক্রেশনে। প্রাচীন অলিম্পিকের একটি প্যানক্রেশন ম্যাচে ঘটেছিল অদ্ভুত অথচ লোমহর্ষক ঘটনা। আরহিচিওন নামের এক প্যানক্রেশন খেলোয়াড়কে গলা চেপে ধরে তাঁর প্রতিপক্ষ। দম নিয়ে হাঁসফাঁস করতে করতেই তিনি প্রচণ্ড বেগে লাথি বসান প্রতিপক্ষের পায়ে। ভেঙে দেন পায়ের গোড়ালি। প্রতিপক্ষকে গোড়ালি ধরে কাতরাতে দেখে বিচারকরা আরহিচিওনকেই বিজয়ী ঘোষণা করেন। কিন্তু ততক্ষণে বেরিয়ে গেছে বিজয়ী আরহিচিওনের প্রাণবায়ু। অগত্যা তাঁর লাশ নিয়েই বিজয় মিছিল করে আরহিচিওনের সমর্থকরা! 

 

খ্যাপা ফুটবল

কেমন হতো যদি ফুটবল খেলার গোলপোস্ট হতো আস্ত একটা গ্রাম, আর খেলোয়াড় হতো শত শত? এক বিশাল হট্টগোল বাধত সন্দেহ নেই। চতুর্দশ শতকের ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের আরো কিছু দেশে বছরের একটা দিন এমনই হুলুস্থুল কাণ্ড বেধে যেত ফুটবল নিয়ে। শূকরের চামড়া দিয়ে বানানো গোলগাল ফুটবলটা শহরের মাঝে ছেড়ে দিয়ে ঘোষণা দেওয়া হতো, বলটা যে গ্রামে গিয়ে পৌঁছবে, সে গ্রামই হবে বিজয়ী। ব্যস, সব কয়টা গ্রামের সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়ত ফুটবলের দখল নিতে। এর মধ্যে আবার এ খেলায় ছিল না রেফারি। তো মারামারি করে হাত-পা ভাঙা ছিল অতি সাধারণ ঘটনা। একবার তো ফ্রান্সের এক শহরে বলটা গিয়ে পড়েছিল এক গভীর জলাধারে। আর সেই বলটা নিতে গিয়ে নাকি ৪০ জন ডুবে মরেছিল। গ্রামের মান-সম্মান বলে কথা!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা